ইনানীতে পর্যটন রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, প্রাণ গেল ৫ জনের—বাড়তে পারে হতাহতের সংখ্যা

ইনানীতে পর্যটন রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, প্রাণ গেল ৫ জনের—বাড়তে পারে হতাহতের সংখ্যা
ছবি- দৈনিক ক্রাইম ডায়রি

কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীতে পর্যটকদের আবাসিক রিসোর্ট টুপটুপে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় অবস্থিত রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। আগুনে স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র কর্মকর্তা দোলন আচার্য ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রাথমিকভাবে নিহত ব্যক্তিরা পর্যটক বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস। তবে তাঁদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় রিসোর্টটির ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর উদ্ধারকর্মীরা ভেতরে তল্লাশি শুরু করেন। সেখানে আরও কেউ আটকে আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সকাল ৮টা থেকে তিনটি ইউনিট কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর রিসোর্টের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি ও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়।

অগ্নিকাণ্ডে রিসোর্টটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আগুনে কোন কোন অংশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ভেতরে আরও কেউ আটকে ছিলেন কি না, তা যাচাই করছেন উদ্ধারকর্মীরা। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও উদ্ধার কার্যক্রম শেষ না হওয়ায়  মোট হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত সঠিক ভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা দোলন আচার্য পাঁচটি মরদেহ পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করলেও নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানাতে পারেননি। প্রাথমিক ধারণায় তাঁরা পর্যটক হলেও পরিচয় শনাক্ত ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাইয়ের পরই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, ঘটনায় একাধিক ব্যক্তির মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কতজন পর্যটক মারা গেছেন, তা জানতে আরও সময় প্রয়োজন।

নিহতদের পরিচয়, তাঁদের রিসোর্টে অবস্থানের তথ্য এবং স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়গুলো এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে উদ্ধার অভিযান শেষে রিসোর্টের ভেতরে আর কেউ রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

রিসোর্টটিতে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বৈদ্যুতিক ত্রুটি, রান্নার কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম কিংবা অন্য কোনো কারণে আগুন লেগেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত প্রয়োজন।

এ ছাড়া রিসোর্টটিতে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, জরুরি বহির্গমন পথ, অগ্নিসতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং অতিথিদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না যাওয়ায় কোনো অনিয়মের বিষয়টি এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের লোকজন সেখান থেকে চলে গেছেন বলে জানা গেছে। তবে তাঁদের চলে যাওয়ার কারণ, তাঁরা কোথায় আছেন এবং উদ্ধার কার্যক্রম বা তদন্তে সহযোগিতা করছেন কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ ধরনের প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ডে রিসোর্ট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং অতিথিদের নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। 

কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক পর্যটন এলাকায় দেশি-বিদেশি পর্যটকদের থাকার জন্য বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জরুরি বহির্গমন পথ সচল রাখা এবং কর্মীদের উদ্ধার কার্যক্রম সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

টুপটুপ রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ডে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পর্যটনকেন্দ্রিক আবাসন প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। বিশেষ করে আগুন লাগার পর অতিথিদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া, আগুন নেভানোর সরঞ্জাম ব্যবহার এবং ফায়ার সার্ভিসকে দ্রুত খবর দেওয়ার ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল,সে বিষয় নিয়ে কর্তৃপক্ষের ভাবা উচিত।

এখন উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, নিহতদের পরিচয় এবং রিসোর্টের অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্যের অপেক্ষা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং কোনো অবহেলা থাকলে তার দায় নির্ধারণ করা জরুরি।

দৈনিক ক্রাইম ডায়রি// জেলা/ সূত্র: ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় জনগন ও থানা পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য