মসজিদে নয়, মাদ্রাসার ধর্মীয় আয়োজনেই ছিলেন এমপি আয়নুল হক
কোদলা কওমিয়া মাদ্রাসা ও জামে মসজিদের উন্নয়নে সহযোগিতা ও বকেয়া নিয়ে সমস্যা সমাধানে এ আয়োজন। সমস্যার সমাধানে এমপি আয়নুল হককে আমন্ত্রণ। তিনি এ মাদ্রাসায় নিয়মিত দান ও সহযোগীতা করে থাকেন।
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের কোদলা কওমিয়া মাদ্রাসা ও জামে মসজিদের উন্নয়নমূলক আয়োজনে অংশ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মো. আয়নুল হক। আয়োজকদের অনুরোধে মসজিদের ভিতরে আগে হতে সাজিয়ে রাখা সোফায় তাকে বসতে অনুরোধ করা হয়। এতে তিনি আপত্তি করলে বড় হুজুররা এসে তাকে সেখানে বসতে অনুরোধ করেন। উপস্থিত সকল মুসল্লী ও দানশীল ব্যক্তিদের অনুরোধে তিনি সেখানে কিছুটা বাধ্য হয়েই বসেন। আর এই ছবি মুহুর্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করেন একদল ব্যক্তি। মাদ্রাসা ও মসজিদ কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, সাধারন মুসল্লী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে কোদলা কওমিয়া মাদ্রাসা জামে মসজিদে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে মাদ্রাসা ও মসজিদের উন্নয়ন, প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নেয়ার এবং ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোদলা কওমিয়া মাদ্রাসা ও জামে মসজিদ একই প্রতিষ্ঠানের অংশ। মাদ্রাসার বিভিন্ন ক্লাস কার্যক্রম, ধর্মীয় আলোচনা ও ,মাদ্রাসা কেন্দ্রিক গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান নিয়মিতভাবেই মসজিদের ভেতরের স্থানে হয়ে থাকে। সে ধারাবাহিকতায় অতিথিদের বসার সুবিধার্থে মসজিদের অভ্যন্তরে চেয়ার, টেবিল ও সোফার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
মাদ্রাসা ও মসজিদ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আয়নুল হককে আমন্ত্রণ জানানোর মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রয়োজন ও উন্নয়নমূলক কাজে সহযোগিতা নেওয়া। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন ব্যয় ও বিভিন্ন খাতে বকেয়া অর্থের বিষয়েও তার সহযোগিতা কামনা করা হয়।
রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুল ইসলাম বলেন, “কোদলা কওমিয়া মাদ্রাসা ও জামে মসজিদ কর্তৃপক্ষই আয়নুল হক এমপিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। এটি কোনো রাজনৈতিক সভা ছিল না। মাদ্রাসা ও মসজিদের উন্নয়ন এবং ধর্মীয় বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “এটি মাদ্রাসার নিজস্ব মসজিদ। মাদ্রাসার বিভিন্ন কার্যক্রম এখানেই অনুষ্ঠিত হয়। অতিথিদের বসার জন্য কর্তৃপক্ষ চেয়ার ও সোফার ব্যবস্থা করেছিল। আমরা আয়োজকদের আমন্ত্রণেই সেখানে গিয়েছি।”
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হক বলেন, “কোদলা কওমিয়া মাদ্রাসা ও জামে মসজিদ কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণেই আমি সেখানে গিয়েছি। এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না। মাদ্রাসা ও মসজিদের উন্নয়ন এবং ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেই সেখানে উপস্থিত হয়েছিলাম।”
তিনি আরও বলেন, “মাদ্রাসা ও মসজিদ আমাদের সমাজের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সহযোগিতা করা আমাদের দায়িত্ব। কর্তৃপক্ষ যে উদ্দেশ্যে আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে, সেই বিষয়েই তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে।”
স্থানীয়রা জানান, আয়নুল হক দীর্ঘদিন ধরে রায়গঞ্জের বিভিন্ন সামাজিক, শিক্ষামূলক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে নানা ধরনের সহযোগিতা করে আসছেন। বিশেষ করে তার নিজ ইউনিয়নের একটি কওমিয়া মাদ্রাসা ও জামে মসজিদের উন্নয়নমূলক কাজে অংশ নেওয়াকে স্থানীয়রা ইতিবাচকভাবেই দেখছেন।
উল্লেখ্য, মো. আয়নুল হক বর্তমানে জেলা বিএনপি, সিরাজগঞ্জের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক। এর আগে তিনি রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া চান্দাইকোনা হাজী ওয়াহেদ মরিয়ম অনার্স কলেজের ভিপি হিসেবে তিনবার নির্বাচিত হন।
তিনি এলাকায় যথেষ্ঠ জনপ্রিয় এবং সরল মানুষ। তার অফিসে গিয়ে কোন সিরিয়াল দিতে হয়না এমনকি কোন মাধ্যমকেও ধরতে হয়না। সেদিনের অনুষ্ঠানে তিনি আয়োজকদের চেয়ার আগ হতে পেতে রাখা দেখে মন্তব্যও করেন। তিনি নিচে মুসল্লীদের সাথে বসতে চাইলেও সবাই এমনকি বড় হুজুররাও তাকে সোফায় বসতে অনুরোধ করেন। পরে অন্যান্য অতিথিরা মাদ্রাসার চেয়ার নিয়ে পাশে বসে পড়েন। এতে তিনি বিব্রতও হন। কিন্তু পরিস্থিতি ও হুজুরদের কথায় সরল মনে সেখানে বসেন। কিন্তু এরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হয়। স্থানীয়রা মনে করছেন, এটি একটি ট্রাপ। তাকে দাওয়াত দিয়ে এভাবে জোর করে বসিয়ে পুনরায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়ে তার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার চেষ্টা হয়েছে। তিনি একজন ধর্মপ্রাণ মুসল্লী।
এমপির প্রতিবেশিরা জানিয়েছেন, তিনি কখনো নামাজ কাযা করার চেষ্টা করেননা। পারিবারিকভাবেই তারা ধার্মিক এবং এলাকার বহু মসজিদ মাদ্রাসার দান অনুদানের সাথে তার পরিবার জড়িত।
কোদলা কওমিয়া মাদ্রাসা ও জামে মসজিদ কর্তৃপক্ষের আয়োজনে অংশ নিয়ে আয়নুল হক মূলত ধর্মীয় শিক্ষা, মাদ্রাসা ও মসজিদের উন্নয়ন এবং প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় বিষয়ে সহযোগিতার বার্তাই দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
দৈনিক ক্রাইম ডায়রি// জেলা










