মুন্সিগঞ্জে শিশুখাদ্য চিপসে ক্ষতিকর রং ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্ট! দুই প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা
হাতিম বাদশা:
শিশুদের প্রিয় কাঁচা চিপস! অথচ সেই চিপস তৈরিতেই ব্যবহার করা হচ্ছিল ক্ষতিকর সিনথেটিক রং ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্ট! অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদিত এসব শিশুখাদ্য বাজারজাত করার অভিযোগে মুন্সিগঞ্জে দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে জব্দ করা হয়েছে আড়াই হাজার কেজি চিপস, যা পরে ধ্বংস করা হয়েছে।
ভোক্তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বিএসটিআইয়ের উদ্যোগে সোমবার, ১৯ অক্টোবর, মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার দশকানি এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে রাজধানী চিপস ও ভাই ভাই চিপস নামের দুটি প্রতিষ্ঠানে নানা অনিয়ম দেখতে পান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠান দুটি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিশুখাদ্য কাঁচা চিপস উৎপাদনের পাশাপাশি এতে ক্ষতিকর সিনথেটিক রং ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্ট ব্যবহার করছিল। এ ছাড়া উৎপাদিত চিপসের বস্তা ও মোড়কে প্রয়োজনীয় লেবেলিং বা মার্কিং ছাড়াই পণ্য বিক্রি, বিতরণ ও বাজারজাত করার অভিযোগও পাওয়া যায়।
এসব অভিযোগ ভ্রাম্যমাণ আদালতের নজরে আনা হলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪২ ধারা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান দুটিকে মোট ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযানকালে ক্ষতিকর রং ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্ট মিশ্রিত ২ হাজার ৫০০ কেজি কাঁচা চিপস জব্দ করা হয়। পরে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশনায় বিএসটিআই আঞ্চলিক কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জের তত্ত্বাবধানে জব্দ করা চিপস যথাযথ প্রক্রিয়ায় ধ্বংস করা হয়।
শুধু জরিমানা কিংবা পণ্য ধ্বংসই নয়, অভিযানের সময় আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে মুন্সিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি প্রতিষ্ঠান দুটির বিদ্যুৎ সংযোগ তাৎক্ষণিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
অভিযানটি পরিচালনা করেন মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোঃ ওমর ফারুক।
এ সময় বিএসটিআই আঞ্চলিক কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জের উপপরিচালক ও অফিসপ্রধান কে এম হানিফ, সহকারী পরিচালক মোঃ রাকিবুল আলম, ফিল্ড অফিসার মোঃ ইয়াছির আরাফাত এবং পরিদর্শক মোঃ হাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্য উৎপাদনে অননুমোদিত রং বা শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত লবণ ব্যবহার করা হলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য তৈরি খাবারের ক্ষেত্রে উপাদানের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং সঠিক লেবেলিং নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুদের খাবার নিয়ে এমন অনিয়ম প্রতিরোধে নিয়মিত তদারকি, আইন প্রয়োগ এবং ভোক্তাদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিশুখাদ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই অভিযান জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
দৈনিক ক্রাইম ডায়রি// ক্রাইম










