গালওয়ান সংঘর্ষে নিহত সৈনিকদের সমাধিস্থ করতে চীনের অস্বীকৃত
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা মতে চিন তাদের সৈন্যদের ত্যাগের স্বীকৃতি দিতে ইচ্ছুক নয় কারণ গালওয়ান সংঘর্ষে মৃত সৈন্যদের সমাধিস্থ এবং শেষকৃত্য অনুষ্ঠান না করতে তাদের পরিবারকে চাপ দিচ্ছে চিন সরকার।
১৫ জুন ভারত ও চিনের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দুই পক্ষই হতাহতের স্বীকার হয়। ভারত নির্দ্বিধায় স্বীকার করে যে ২০ জন ভারতীয় সৈন্য নিহত হয়েছিল। নিহতদেরকে বীরের মর্যাদায় ভূষিত করা হয়েছে।
২৮ জুন প্রধানমণ্ত্রী নরেনদ্র মোদি ‘মন কি বাত' নামের এক বেতার অনুষ্ঠানে গালওয়ান সংঘর্ষে নিহত ভারতীয় সৈন্যদের পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ করেন এবং বলেন তাদের এই ত্যাগ প্রশংসার যোগ্য ।
সংঘর্ষের একমাস পেরিয়ে গেলেও চিন এখনও গালওয়ান সংঘর্ষে নিহত চিনা সৈনিকদের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। সংঘর্ষে নিহত সৈনক পরিবার, যারা তাদের প্রিয়জন হারিয়েছেন, চিন সরকার তাদেন প্রতি সদাচরণ করেনি। প্রথমত চিন তাদের হতাহতের খবর অস্বীকার করে এবং এখন মৃত সৈনিকদের শেষকৃত্য করতেও অস্বীকার করছে।
মার্কিন গোয়েন্দাদের মতে, চিন তাদের হতাহতের খবর স্বীকার করতে চাইছেনা কারণ বেইজিং পুরো সংঘর্ষের ঘটনাকে ভুলবোঝাবুঝি হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে, মার্কিন সংবাদপত্রের প্রতিবেদন।
নৃশংস হাতাহাতির ঘটনা তখনই ঘটে যখন চিন একক ভাবে পূর্ব লাদাখের শান্তিপূর্ণ অবস্হা পরিবর্তনের চেষ্টা চালায়। ভারতের দাবি মতে সংঘর্ষ এড়ানো যেতো যদি চিন উচ্চ পর্যায়ে সতর্কতার সাথে আলোচনা করতো।
চিন সরকার সামান্য কয়েকজন অফিসারের হতাহতের ঘটনা স্বীকার করে। কিন্ত ভারতের দাবি নিহত ও গুরুতর আহত মিলিয়ে চিনের সর্বোট ৪৩ জন হতাহত হয়।
মার্কিন গোয়েন্দাদের বিশ্বাস সর্বমোট ৩৫ জন চিনা সৈনিক নিহত হয়।
চিনের স্বরাষ্ট্র মণ্ত্রনালয় নিহতদের পরিবারকে জানিয়ে দেয় যে গতানুগতিক শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবেনা এবং যেকোন ধরণের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়য় স্ব শরীরে উপস্থিত থাকা যাবেনা।
যদিও এক্ষেত্রে চিন সরকার করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কে কারণ হিসেবে দেখিয়েছে, কিন্তু মার্কিন সংবাদমাধ্যমেন মতে সরকার জনগণের মতামত কে নিভৃত করতে চাইছে এবং এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষকে ইতিহাস থেকে মুছে দিতে চাইছে।
চিনা সমাজতান্ত্রিক দলের এই সিদ্ধান্ত নিহতদের স্বজনদের ব্যথিত করেছে, প্রতিবেদন মার্কিন ব্রেইটবার্ট নিউজের। ব্রেইটবার্টের মতে, চিন সরকার নিহতদের পরিবারদের দমিয়ে রাখতে চাইছ কারণ তারা ওয়েবো সহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে তাদেন ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছে।
চিন ক্রমাগত ভয় পেয়ে চলেছে যে নিহত সৈনিকদের সমাধিস্থলের ছবি চিনা গণমাধ্যম কিংবা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে জনগণের ক্ষোভ আরো বৃদ্ধি পাবে। সোর্স বলছে “ তারা আসলে শহীদ সেনা তৈরি করতে চায়না তাই তারা সকল প্রকার শেষকৃত্যানুষ্ঠানের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যেখানে নিহতের পরিবার ও স্বজনরা একত্রিত হতে পারে”
(হিন্দুস্তান টাইমস)


crimediarybd1








