বগুড়ার ভবানীপুর মন্দির হতে পারে বিশাল পর্যটনকেন্দ্র

বগুড়ার ভবানীপুর মন্দির হতে পারে বিশাল পর্যটনকেন্দ্র

সমুদ্র হক ॥ উত্তরাঞ্চলের একটি প্রাচীন কীর্তি ও তীর্থভূমি অচেনাই রয়ে যাচ্ছে। প্রাচীন ভবানীপুর মন্দির বিশ্ব হিন্দু ফেডারেশনের তালিকায় গুরুত্ব বহন করেছে অনেক আগেই। বগুড়ার শেরপুরের নিভৃত গ্রামে অবস্থিত ঐতিহ্য রক্ষার এই মন্দিরে সন্ন্যাসব্রত ভারত পরিব্রাজনের পাঁচশ’ বছর পূর্তির স্মরণোৎসবও হয়েছে দশ বছরে আগে। যা ছিল ওয়ার্ল্ড হিন্দু ফেডারেশনের চতুর্থ সম্মেলন। এসেছিলেন মহামন্ডেলশ্বর প্রিয়বত ব্রহ্মচারী। হিন্দু তীর্থস্থান ভবানীপুর মন্দির নীরবে নিভৃতে দাঁড়িয়ে আছে বগুড়া শহর থেকে প্রায় ত্রিশ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে শেরপুর উপজেলার ভবানীপুরে। মন্দিরের নামকরণেই পরিচিতি পেয়েছে গ্রামের নাম।

দেশের অনেক পুরাকীর্তি ও প্রত্নসম্পদ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের অধীনে এসেছে। প্রাচীন এই মন্দিরটিও প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের প্রত্নসম্পদের আওতায় পড়ে। অথচ মন্দির ও স্থাপনা আজও প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এ বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা জানান, বিষয়টি মন্ত্রণালয় অবগত আছে। এক সচিব মন্দিরটি সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে বলেছেন। নাহিদ সুলতানা মন্দিরটি পরিদর্শন করেছেন। দেখতে এসে পুরাকীর্তির ছবি তুলছিলেন শৌখিন আলোকচিত্রী উপসচিব রায়হানা ইসলাম। বললেন, বগুড়ার উত্তরে আছে দেশের সবচেয়ে প্রাচীন পুন্ড্রনগরী খ্যাত মহাস্থানগড়। আর দক্ষিণের এই মন্দির পর্যটক আকর্ষণ করতে পারে।

বিশ্ব পরিব্রাজক ও পর্যটকদের আকর্ষণীয় এই মন্দির। প্রতি বছর মন্দিরের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেন বিশ্বের বহু দেশের মানুষ। মাঘী পূর্ণিমায় বহু তীর্থযাত্রী মন্দিরের পুকুরে পুণ্যস্নানে অংশ নেন। রাম নবমী তাদের অন্যতম বড় উৎসব। প্রতিটি উৎসবের শুরুতে শিশুরা শান্তির শ্বেত কপোত (পায়রা) উড়িয়ে দেয়। এরপর উৎসবের ডালা সাজানো হয়। মন্দিরের অলিন্দে পায়রা আশ্রয় নিয়ে আছে। নিত্যদিন তাদের ‘বাকবাকুম বাকবাকুম’ ডাকে ঘুম ভাঙে মন্দিরের পুরোহিত ও আশপাশের মানুষের। পায়রা নিয়েও আছে অনেক মিথ। এরা শান্তির পূজারী হয়ে সুন্দরের প্রকাশ ঘটায়। অশান্তির ছিটেফোঁটা বুঝতে পারলেই শান্তির আশ্রম খুঁজে নিতে উড়ে যায় অন্য কোথাও। বয়োবৃদ্ধরা বলেন, যে বাড়িতে শান্তি বিরাজমান স্থান সেই বাড়ি পায়রার প্রিয়।

হিন্দু মাইথোলজিতে ভবানীপুর মন্দির ঘিরে অনেক ঘটনা আবর্তিত হয়েছে। দেবীদুর্গার আরেক নাম ভবানী। মন্দিরের পূজা অর্চনা ও আরাধনায় দেবীদুর্গাকে স্মরণ করা হয়। গ্রহ নক্ষত্রম-লীর পরিক্রমাক্ষণের ওপর ভিত্তি করে অনুষ্ঠান ও উৎসব হয়। মাঘী পূর্ণিমার তিথির সূর্যালোকে জলাশয়ে (নদী বিল পুকুর) স্নানকে পুণ্যস্নান মনে করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। এক পুরোহিত বললেন, প্রকৃতির কোন তিথির ভোরের আলোয় উন্মুক্ত জলাশয়ে স্নান পাপ ধুয়েমুছে মানব মনে পূণ্য বয়ে আনে।