হেভি মেটালযুক্ত খাদ্য: হুমকিতে জনস্বাস্থ্য, সিদ্ধান্ত নেবার এখনই সময়

হেভি মেটালের ক্ষতি ধীরে হলেও মারাত্মক। এরা একবার দেহে প্রবেশ করলে সহজে বের হয় না। যা বিষের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর মানব দেহের জন্য। পর্ব- 0১

হেভি মেটালযুক্ত খাদ্য: হুমকিতে জনস্বাস্থ্য, সিদ্ধান্ত নেবার এখনই সময়
ছবি- অনলাইন হতে সংগৃহীত
হেভি মেটালযুক্ত খাদ্য: হুমকিতে জনস্বাস্থ্য, সিদ্ধান্ত নেবার এখনই সময়

হেভি মেটালের ক্ষতি ধীরে হলেও মারাত্মক। এরা একবার দেহে প্রবেশ করলে সহজে বের হয় না। যা বিষের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর মানব দেহের জন্য। হেভি মেটাল সাধারনত আমাদের মাটির সাথে মিশে জমিতে ব্যবহৃত সারের মাধ্যমে। কারন কিছু সার আছে যা সরাসরি খনিজ পাথর থেকে তৈরি হয়।

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেল:
মারাত্বক ক্ষতিকর হেভি মেটাল । যদি বলি হেভি মেটাল কী? অনেকেই হয়তো জানেন কিন্তু আজ যেভাবে বলতে যাচ্ছি সেভাবে হয়তো ভাবেননি কখনও। হেভি মেটাল হলো উচ্চ পারমাণবিক ভর ও ঘনত্বযুক্ত কিছু ধাতু, যেমন: সিসা
(Lead), , ক্যাডমিয়াম(Cadmium), পারদ (Mercury), আর্সেনিক (Arsenic), নিকেল (Nickel), ও ক্রোমিয়াম (Chromium) । এগুলো শিল্প-কারখানা, রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও বৈদ্যুতিক বর্জ্য থেকে মাটি ও পানিতে মিশে খাদ্যচক্রে প্রবেশ করে এবং মানবদেহে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে।

হেভি মেটালের ক্ষতি ধীরে হলেও মারাত্মক। এরা একবার দেহে প্রবেশ করলে সহজে বের হয় না। যা বিষের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর মানব দেহের জন্য। হেভি মেটাল সাধারনত আমাদের মাটির সাথে মিশে জমিতে ব্যবহৃত সারের মাধ্যমে। কারন কিছু সার আছে যা সরাসরি খনিজ পাথর থেকে তৈরি হয়।

যার মধ্যে রয়েছে যুক্ত সার গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: টিএসপি, এমওপি, ডিএপি ইত্যাদি। এসব সার বাংলাদেশের কৃষি জমিতে যথেষ্ঠ পরিমাণ ব্যবহৃত হয়। বলা যায় এসব সার ছাড়া এখন আর কোন চাষাবাদ কল্পনাই করা যায় না।

এসব সার অবশ্য উৎপাদনের সময় হেভিমেটাল মুক্ত করে তবেই বাজারজাত হবার কথা এবং সেই অঙ্গীকার নামা নিয়েই রপ্তানীকারক, আমদানীকারক, বাজারজাতকারী এগুলো আমদানী ও প্যাকেটজাত করে থাকে।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কানাঘুষা শোনা যাচ্ছে যে, এই তিনটি সারের পরীক্ষন রিপোর্টে হেভিমেটালের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। যাতে প্রশ্ন উঠেছে লাইসেন্স ও অনুমতিপ্রদানকারী সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আদৌ এগুলো আমদানীকালীন সময়ে পরীক্ষা করে কিনা? নাকি পরীক্ষা ছাড়াই ছাড়পত্র দিয়ে অবৈধ সুবিধা ভোগ করে কিনা?

মনে আছে  16 Nov 2022 একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে একটা নিউজ হয়েছিল। সেখানে দেখা যায়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক বেগুনে ভারী ধাতুর উপস্থিতি পেয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়।

‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’ জার্নালে প্রকাশিত ওই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামালপুরের যেসব এলাকার বেগুন ক্ষেতে ওই গবেষণা করা হয়েছে, সেখানকার মাটিতে সিসা, নিকেল, ক্যাডমিয়াম, তামা ও দস্তা পাওয়া গেছে গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি।

কেবল বেগুন নয়, অন্যান্য ফসলেও ভারী ধাতুর বিপদ ধীরে ধীরে বাড়ছে, যার অন্যতম কারণ কৃষি কাজে ব্যবহৃত সার ও কীটনাশক।

মানুষের খাদ্যচক্রে এসব ভারী ধাতুর প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমাণ না হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তবে সেজন্য নির্দিষ্ট কোনো ফসল বা খাদ্যপণ্য নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে খাদ্য উৎপাদনের উৎসে বিষ ছড়ানোর সুযোগ বন্ধ করতে উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। গবেষক দলটির ধারণা, ওই বাড়তি ভারী ধাতু বেগুনে জমা হয়েছে সার, কীটনাশক বা বালাইনাশকের মত উৎস থেকে।

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক কাজী ফরহাদ কাদির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, কেবল বেগুন নিয়েই যে এ ধরনের গবেষণা হয়েছে- এমন নয়। গত দশ বছর ধরে তাদের বিভাগ থেকেই চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহের নানা রকমের চাল, বেগুন, পালং শাক, মুরগি ও গরুর মাংস, রুই ও তেলাপিয়া মাছসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে ভারি ধাতুর উপস্থিতি নিয়ে গবেষণা হয়েছে।

দেখেছি, সবচেয়ে বেশি এক্সপোজারটা এসেছে চালে। এরপর পালং শাক, বেগুনেও রয়েছে। কৃষিকাজে কীটনাশক ও বালাইনাশক ব্যবহার করা হয় কীটপতঙ্গ ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের জন্য। বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৩৮ হাজার টন কীটনাশক ব্যবহৃত হয়, যার প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি করা হয়। আর এসব আমদানি করা কীটনাশকে যে ভারী ধাতুর উপস্থিত থাকছে, সে বিষয়টি গত কয়েক বছর ধরেই আলোচনায় রয়েছে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ নিরাপদ খদ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, বাজার থেকে সংগ্রহ করা ৪৭ ব্র্যান্ডের আমদানি করা কীটনাশকের নমুনা পরীক্ষা করে সীসা, ক্যাডমিয়াম, ক্রমিয়ামের মতো ভারী ধাতু পাওয়া গেছে। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকির শঙ্কা থাকায় বন্দরে পরীক্ষা ছাড়া কোনো কীটনাশকের চালান খালাস না করতে এনবিআরকে চিঠি দেয় সংস্থাটি। পাশাপাশি বাজারে থাকা কীটনাশক তুলে নিতে কৃষি মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ঐ বছরই নিরাপদ খদ্য কর্তৃপক্ষের গবেষণায় গরুর দুধে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক, কীটনাশক ও সিসা পাওয়া গিয়েছিল, যা তুমুল আলোচনার জন্ম দেয় সে সময়।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিস্ট্রি ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক পলাশ কুমার ধর বলেন, “খাদ্যচক্রে আর্সেনিক, মার্কারি ও লেড বেশ ক্ষতিকর। বাকি হেভি মেটালও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে আমরা ধারণা করি। ১০-১৫ বছর পর হয়ত ক্ষতিটা শরীরে দৃশ্যমান হবে।”

তার পরামর্শ, ফসলের ক্ষেতে যাতে অনুমোদিত পেস্টিসাইড, ফাঙ্গিসাইড আর ফার্টিলাইজার অনুমোদিত মাত্রায় ব্যবহার করা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে শিল্প এলাকার ক্ষতিকর পদার্থ পরিবেশে মেশা ঠেকাতে হবে।

ভারী ধাতু নিয়ে উন্নত বিশ্বের সেরা সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের এজেন্সি ফর টক্সিক সাবসটেন্স অ্যান্ড ডিজিজেস রেজিস্ট্রি (এটিএসডিআর) ভারী ধাতুগুলোর মধ্যে পারদ, আর্সেনিক, সিসা, ক্যাডমিয়াম ও ক্রোমিয়ামকে জনস্বাস্থ্যের জন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

আবার তামা, লোহা, দস্তা, নিকেলের মত কিছু ধাতু প্রাণীদেহের বিপাকীয় কাজের জন্য দরকারি, কিন্তু অতিরিক্ত মাত্রায় শরীরে এলে সেগুলোও ক্ষতির কারণ হতে পারে।

জীবাশ্ম জ্বালানি, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা, ইলেক্ট্রনিক বর্জ্য থেকে পরিবেশে ভারী ধাতু মিশতে পারে, যা পৌঁছাতে পারে চাষের জমিতে। এর বাইরে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের মাধ্যমে ভারী ধাতু মাটিতে জমতে পারে।

২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনে প্রকাশিত ‘হেভি মেটাল অ্যান্ড পেস্টিসাইডস টক্সিসিটি ইন এগ্রিকালচারাল সয়েল অ্যান্ড প্ল্যান্টস: ইকোলজিকাল রিস্কস অ্যান্ড হিউম্যান হেলথ ইমপ্লিকেশনস’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রবন্ধে বলা হয়, ভারী ধাতু মাটিতে অণুজীবের টিকে থাকার পরিবেশ বদলে দেয়, উদ্ভিদের ডিএনএর গঠনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং শেষ পর্যন্ত ফসলের মাধ্যমে মানুষের দেহে পৌঁছে জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি তৈরি করে।

আরও একটি বিপদের কথা বলা হয়েছে ওই গবেষণায়, তা হল যুগল বিষক্রিয়া। অর্থাৎ, একাধিক ভারী ধাতু মাটিতে বা উদ্ভিদের ভেতরে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তৃতীয় কোনো উপাদান তৈরি করতে পারে, যা ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়িয়ে তোলার সম্ভাবনা রাখে। তবে সেটা ঠিক কেমন হতে পারে, এ গবেষণায় তা আসেনি।

আলোচনায় জামালপুরের বেগুন চাষ

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একদল গবেষক জামালপুরের ইসলামপুর ও মেলান্দহ উপজেলার মাটি ও বেগুন নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। এর ফলাফল ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’ জার্নালে প্রকাশিত হয়।

এ গবেষণায় জামালপুরের ২০টি জায়গা থেকে ৬০ রকমের মাটির নমুনা এবং ৮০টি বেগুনের নমুনায় ধাতুর উপস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। তাতে বেগুনে সীসা, নিকেল, তামা, ক্যাডমিয়াম, লোহা, ম্যাঙ্গানিজ এবং জিঙ্কের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। ৭৫% নমুনায় সীসা ও ১০% নমুনায় ক্যাডমিয়াম পাওয়া গেছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারিত সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন এজেন্সির (ইউএসইপিএ) স্বাস্থ্য ঝুঁকি মুল্যায়ন মডেল অনুযায়ী বেগুনে পাওয়া ভারি ধাতু নিয়ে ক্যান্সার ও নন-ক্যান্সার ঝুঁকি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সবগুলো নমুনায় সীসা ও নিকেল এবং ৪০% নমুনায় ক্যাডমিয়ামের মান নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি ছিল।

আর মাটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই ধাতুগুলোর উল্লেখযোগ্য অংশ, বিশেষ করে ক্যাডমিয়াম, সীসা, নিকেল এবং তামা মাটি থেকেই আসছে। কীটনাশক ও সার ব্যবহারই মূলত কৃষি জমিতে ভারী ধাতুর দূষণের কারণ বলে গবেষকরা মনে করছেন।

গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক জাকির হোসেন বিষয়টি ব্যাখ্যা করে গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা যেহেতু তিনটি ভারী ধাতু (লেড, ক্যাডমিয়াম, নিকেল) বেশি পরিমাণে পেয়েছি। পরে পিসিএ (প্রিন্সিপাল কম্পোনেন্ট অ্যানালাইসিস) করেছি। দেখা গেছে, মাটিতে যে ভারী ধাতু তিনটি বেশি মাত্রায় রয়েছে, বেগুনেও সেগুলো বেশি। আমরা স্ট্রং কো-রিলেশনশিপ পেয়েছি। এতে প্রমাণিত হয়-মাটিতে বেশি থাকলে বেগুনে বেশি যাচ্ছে।

“এখন বোঝা গেল যে মাটি থেকে বেগুনে যাচ্ছে। তাহলে মাটিতে এলো কোত্থেকে। ঐ এলাকা তেমন ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া নয়। অন্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া থেকেও সেখানে শিল্পকারখানার বর্জ্য পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম। বন্যার পানিতে ভেসে ওখানে পৌঁছেছে, সে সম্ভাবনাও তেমন নেই। ফলে সেচের পানির মাধ্যমে দূষণ ছড়ালে মাত্রা অতটা বেশি হওয়ার কথা না।”

জাকির হোসেন বলেন, “এ কারণে আমাদের ধারণা, কৃষি উপকরণ যেমন সার ও কীটনাশক থেকে দূষণটা হচ্ছে। কোনটা থেকে বেশি হচ্ছে, সেটা জানতে আরও গবেষণা দরকার রয়েছে বলে আমরা মনে করি।“

এই গবেষক বলেন, সারে ভারী ধাতুর মাত্রা নিয়ে দেশে স্পষ্ট নীতিমালা থাকলেও কীটনাশক নিয়ে তা নেই। সে কারণে জামালপুরে বেগুন ক্ষেতের ভারী ধাতু দূষণের ক্ষেত্রে কীটনাশক বড় ভূমিকা রেখে থাকতে পারে বলে তাদের সন্দেহ। “এ জায়গায় আমরা জোর দিচ্ছি। আমরা চাইছি, সরকারের নীতিনির্ধারণী মহল উদ্যোগী হয়ে এ বিষয়ে জোর দিয়ে প্রকৃত উৎস বের করে পদক্ষেপ যেন নেয়।”

সচেতনতা চাই উৎসে এমন কথাই বলছেন গবেষকরা। খাবারে ভারী ধাতুর বিষক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের শিক্ষক পলাশ কুমার ধর। যশোরে একটি গবেষণার প্রসঙ্গ টেনে তিনি গণমাধ্যমকে  বলেছিলেন, “প্রথম কথা হচ্ছে- যে কোনো কিছু যখন স্ট্যান্ডার্ড মাত্রার চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। যেহেতু কিছু ভারী ধাতুর উপস্থিতি বেশি পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে সেক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে তা ক্ষতির কারণ হতে পারে। পরামর্শ হচ্ছে- সঠিকভাবে রিসাইকেলটা প্রয়োজন।”

পৃথিবীর অনেক এলাকাতেই প্রকৃতিতে হেভি মেটালের মাত্রা বেশি হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, “রেগুলার অ্যাকটিভিজেও মাত্রা বাড়তে পারে। যেমন খনি এলাকায়, শিল্প এলাকায় মানবসৃষ্ট কাজের কারণে হতে পারে এসব থেকে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে পারে ভারী ধাতু। সেটা বাতাসের মাধ্যমে হতে পারে, পানির সঙ্গেও হতে পারে।”

সে কারণে ভারী ধাতু সমৃদ্ধ উপকরণ নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলার তাগিদ দিচ্ছেন পলাশ ধর। তিনি বলেন, “এটা প্রথম কাজ। নির্দিষ্ট জায়গায় নির্দিষ্ট পরিমাণ বর্জ্য ফেলার পাশাপাশি ট্রিটমেন্ট করতে হবে। ইলেকট্রনিক সামগ্রী যেখানে সেখানে ফেলা হচ্ছে, রিসাইকেল করা হচ্ছে না। তা না হলে এটা মাটিতে দীর্ঘদিন ধরে থাকবে। ১০-২০ বছর পরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এটা একদিনের ফল নয়।”

শিল্প কারখানাগুলো সঠিকভাবে বর্জ্য ডাম্পিং করছে কিনা, তা সঠিক জায়গায় হচ্ছে কিনা– সেসব নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন সহকারী অধ্যাপক পলাশ।

আর সেজন্য একটি ডেটা বেইজ তৈরির ধারণা দিয়ে তিনি বলেন, “একটি প্রকল্পের অধীনে পুরো দেশকে বিভিন্ন জোনে ভাগ করে এ ডেটা বেইজ করতে পারে। সরকার চাইলে এটা সম্ভব। যেসব এলাকা খুব বেশি পরিমাণে হেভি মেটাল পাওয়া যাচ্ছে, মানে রেড জোন, সেসব এলাকায় চাষাবাদ করার আগে একটু চিন্তাভাবনা করতে হবে, সেখানে কতটা ঝুঁকি থাকবে। সেখানে ভালো ব্যবস্থাপনা বা নজরও রাখা যাবে।

“হেভি মেটাল যেখান থেকে আসছে, সেখানে যদি রোধ করতে পারি, তাহলে দূষণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। তবে এ কাজ এত সহজ হবে না।”

জানা গেছে, এসব হেভিমেটাল যুক্ত সার ব্যবহারে কিডনি সমস্যা কিংবা ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধিও হতে পারে। তাছাড়া অজানা অনেক রোগ বাসা বাঁধে দিনে দিনে। ইদানিংকালে শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে ডাক্তারের নিকট গেলে তিনি বিভিন্ন পরীক্ষা নীরিক্ষা করেও কোন রোগ ধরতে পারেন না। এর জন্য দায়ী হেভিমেটাল। যার সুক্ষ্ন কণা দিনের পর দিন মানবদেহে প্রবেশ করে তিলে তিলে মানুষকে মেরে ফেলে। 
হেভি মেটাল দূষণ: তিলে তিলে মৃত্যুর ফাঁদ
হিরোশিমা ও নাগাসাকির ভয়াবহ পারমাণবিক বিস্ফোরণ পৃথিবীকে দেখিয়ে দিয়েছিল বিজ্ঞানের চরম ধ্বংসাত্মক রূপ। মুহূর্তেই লক্ষ মানুষের প্রাণহানি, এবং বেঁচে থাকা মানুষদের উপর দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক ক্ষত রেখে গিয়েছিল সেই বিভীষিকা। কিন্তু পারমাণবিক বিস্ফোরণ যেমন চোখে দেখা যায়, হেভি মেটাল দূষণ ঠিক তেমনি এক নিঃশব্দ ঘাতক যা মানুষকে তিলে তিলে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়, অনেক সময় তা টের পাওয়ার আগেই।

হেভি মেটালের ক্ষতি ধীরে হলেও মারাত্মক। এরা একবার দেহে প্রবেশ করলে সহজে বের হয় না। যা বিষের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর মানব দেহের জন্য।

পারমাণবিক বোমার প্রভাব ছিল তাৎক্ষণিক, হেভি মেটাল দূষণের প্রভাব ধীর কিন্তু স্থায়ী। পারমাণবিক বিস্ফোরণ মানুষের চোখ খুলে দিয়েছিল মুহূর্তের ধ্বংস কীভাবে হয়। অথচ হেভি মেটালের ক্ষয়ক্ষতি শুরু হয় অজান্তেই—একটি দূষিত ফসল, একটি বিষাক্ত পানির গ্লাস কিংবা রাসায়নিক সার দিয়ে চাষ করা খাদ্য থেকেই এই মরণব্যাধি দেহে প্রবেশ করে।

পারমাণবিক বোমা যেমন জীবন কেড়ে নেয়, হেভি মেটাল তেমনি জীবিত মানুষকে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়।
হেভি মেটালযুক্ত সার ব্যবহারের ফলে মানবদেহে বিভিন্ন মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এই ধরনের সার মাটিতে হেভি মেটাল (সিসা
(Lead), ক্যাডমিয়াম(Cadmium), পারদ (Mercury), আর্সেনিক (Arsenic), নিকেল (Nickel), ও ক্রোমিয়াম (Chromiumইত্যাদি জমাতে থাকে,  যা পরে ফসলের মাধ্যমে মানুষের খাদ্যচক্রে প্রবেশ করে।  নিচে এর কিছু প্রধান ক্ষতির দিক তুলে ধরা হলো:
স্বাস্থ্যগত ক্ষতি
১. কিডনি ও লিভারের সমস্যা
   * ক্যাডমিয়াম ও পারদের কারণে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে।
   * দীর্ঘমেয়াদে এই ধাতুগুলো লিভারে জমে গিয়ে সৃষ্ট করতে পারে সিরোসিস বা লিভার ফেইলিওর।
২. স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি
   * সিসা ও পারদ স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে।
   * এর ফলে স্মৃতিশক্তি দুর্বলতা, শেখার সমস্যা এবং আচরণগত পরিবর্তন হতে পারে।
৩. ক্যান্সার
   * আর্সেনিক, ক্যাডমিয়াম, এবং ক্রোমিয়াম—সবগুলোই দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে (বিশেষ করে ফুসফুস, ত্বক ও মূত্রাশয়ের ক্যান্সার)।
৪. প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস
   * নিকেল ও সিসার অতিরিক্ত সংস্পর্শে পুরুষ ও নারী উভয়েরই প্রজনন ক্ষমতা কমে যেতে পারে।
৫. হাড়ের ক্ষয়
   * ক্যাডমিয়াম হাড়ের ক্যালসিয়াম কমিয়ে দেয়, ফলে হাড় ভঙ্গুর হয়ে যায়
(osteoporosis)
এছাড়াও কিডনি, লিভার এমনকি হৃদযন্ত্রও দীর্ঘমেয়াদি হেভি মেটাল সংস্পর্শে ব্যর্থ হতে পারে।
ঝুঁকিপূর্ণ কাদের জন্য বেশি?
* শিশু ও গর্ভবতী নারী
* কৃষি শ্রমিক ও সার ব্যবহারকারী
* দূষিত এলাকায় বসবাসকারী জনগণ
সম্প্রতি দেশে হেভি মেটালসমৃদ্ধ রাসায়নিক সার আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে কৃষি, স্বাস্থ্য এবং পরিবেশ সচেতন মহলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সারে বিদ্যমান ক্যাডমিয়াম, সিসা, ক্রোমিয়াম ইত্যাদি ভারী ধাতু ধীরে ধীরে জমির উর্বরতা কমিয়ে দেয় এবং ফসলের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে। দীর্ঘমেয়াদে এসব বিষাক্ত উপাদান মানুষকে তিলেতিলে মেরে ফেলে।
এসব সার সাধারনত আমদানী নির্ভর এবং বাংলাদেশের কৃষিতে যথেষ্ঠ পরিমাণ ব্যবহৃত হয়।  

মারাত্বক এই বিষ নিয়ে বিস্তর গবেষণার প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন দেশের আপামর শিক্ষিত জনসমাজ।  চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে চাল, বেগুন, পালং শাক, মুরগি ও গরুর মাংস, রুই ও তেলাপিয়া মাছসহ নানা খাদ্যপণ্য নিয়ে গবেষণা করেছেন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক কাজী ফরহাদ কাদের।

গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, “আমরা দেখেছি, হেভি মেটালের এক্সপোজার সবচেয়ে বেশি এসেছে ভাতে। এরপর পালং শাক, বেগুনেও রয়েছে। দোষ তো বেগুন আর ভাতের নয়। বিষয়টা হচ্ছে ধানে পাওয়া গেছে, এটা মাটি থেকে এসেছে। এখন সোর্স মিনিমাইজেশন কীভাবে করা যায়’ বিষয়টি নিয়ে গবেষণা চলছে।”

তিনি বলেন, দিন দিন গ্রামেও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বাড়ছে। মোবাইলের মত ই-ডিভাইসের ব্যবহার যেমন বাড়ছে, ব্যাটারিচালিত রিকশা চলছে সবখানে। বাতিল হওয়ার পর সেগুলোর ‘ডিসপোজালের’ জন্যও নীতিমালা দরকার।

“ব্যাঙের ছাতার মত প্রচুর বৈধ-অবৈধ কারখানা গড়ে উঠছে কৃষি জমির ধারে। সেগুলোকে নজরদারির মধ্যে নিয়ে আনতে হবে, পরিত্রাণের উপায় খুঁজতে হবে।”

খাবারে ক্ষতিকর ধাতুর উপস্থিতি কামানোর উপায় খুঁজতে আরও গবেষণার প্রয়োজন মন্তব্য করে তিনি বলেন, “খাবারে যাতে প্রবেশ করতে না পারে, খাদ্যচক্রে অতি মাত্রায় যাতে না থাকে- সে বিষয়ে রেগুলেটরি কন্ট্রোল বা পলিসি লেভেলে তদারকি বাড়াতে হবে।

“বিকল্প ফার্মিং নয়, বরং কৃষিতে দরকার গুড অ্যাগ্রিকালচারের প্র্যাকটিস। তাহলে যে কোনো ধরনের ঝুঁকি অনেকখানি কমে আসে। সেক্ষেত্রে কৃষককেও সচেতন করতে হবে। তাতে তাদের যে ব্যয় বাড়বে, তা পুষিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে।”

অধ্যাপক ফরহাদ কাদের বলেন, “জামালপুরের গবেষণা হয়ত শুধু একটি প্রডাক্টের ওপর হয়েছে। কিন্তু আমাদের খাদ্য তালিকায় অন্যান্য যে খাবার, সেগুলোও তো দূষণের বাইরে নয়। সার যে মাত্রায় ব্যবহার করার কথা তা মনিটরিং করা দরকার। পেস্টিসাইডের কোয়ালিটি কন্ট্রোল হচ্ছে কিনা, আমদানির কারণে নির্দিষ্ট পেস্টিসাইডের বাইরে আরও বিষাক্ত কিছু নিয়ে আসছে কিনা দেখা দরকার।”

 এই সব বিষয় নিয়ে সরকারের আদৌ মাথাব্যাথা আছে কিনা সেটা নিয়ে বিগত সরকারের আমলে একজন  কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (গবেষণা অধিশাখা) বিপুল চন্দ্র বিশ্বাসকে প্রশ্ন করা হলে তিনি দৈনিক ক্রাইম ডায়রি ও গোয়েন্দা ডায়রিকে বলেছিলেন, গবেষণায় যখন নতুন কোনো তথ্য আসে, তারা সেটা পর্যালোচনা করা হয়। এসব বিষয় নিয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি। আমাদের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। উদ্বিগ্ন হওয়ার মত তেমন কিছু হয়নি এখনও। এই ইস্যু নিয়ে দৈনিক ক্রাইম ডায়রি ও গোয়েন্দা ডায়রি বিস্তারিত কাজ করার জন্য সেই সময় এটা নিয়ে আর লেখালেখি হয়নি।

জানা গেছে সার বা কীটনাশকের অতি ব্যবহারের কথা স্বীকার করলেও এর দায় কৃষকের এমন কথা বলে থাকেন অনেক কৃষি অফিসার।

অনেকেই বলছেন, কৃষকরা একটু বেশি ব্যবহার করে ফেলেন। দেশের বিভিন্ন এলাকার অনেক কৃষকের সাথে কথা বলে সঠিক ডাটা সংগ্রহে করছে টিম ক্রাইম ডায়রি। অনেক কৃষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে  জানিয়েছেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একটি উইং থেকে সার ব্যবহারের  নির্দেশনা দেওয়া হয়। যে কেমিকেলগুলো ব্যবহার করলে ভালো, কোনোটি ব্যবহারের এক সপ্তাহের মধ্যে ফসল খাওয়া যায়, আবার কোনোটি ব্যবহার করলে ১৫ দিনের আগে সবজি খাওয়া যাবে না। এ জন্যে যেসব কেমিকেলের আফটার ইফেক্ট কম, সেগুলো শাক সবজিতে ব্যবহার করতে বলা হয়। সুতরাং সারের আদৌ কোন ক্ষতিকর প্রভাব আছে কিনা তারা তা জানেন না।

তবে সার্বিকভাবে পরিবেশে দূষণ যে বাড়ছে, ফসলের মাঠেও যে এর প্রভাব পড়ছে তা দৃশ্য মান হতে শুরু করেছে। স্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, “দূষণ রোধ করে পরিষ্কার-পরিছন্ন চাষাবাদ ও জৈব সার ব্যবহার করলে খাবারও নিরাপদ হবে। রোগের ওষুধ, পোকার ওষুধ আর আগাছা নাশক এমনভাবে ব্যবহার করতে হবে, যেন নিরাপদ থাকে।

“কৃষকদের আমরা বরাবরই নিরাপদ চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করছি। প্রতিটি উপজেলা ভালো ট্রেনিং ও মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। একেবারেই রুট লেভেলে কর্মকর্তা রয়েছে। খাবারটা নিরাপদ রাখার বিষয়ে অধিদপ্তরও সতর্ক রয়েছে।”

এসব সারের আমদানী হয় জি টু জি পদ্ধতিতে ও আমদানীকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে । এই সারগুলো আমদানী করলেও কোন পরীক্ষা ছাড়া  এ পণ্য গুলো মংলা ও চট্টগ্রাম বন্দরদিয়ে খালাস হবার কথা নয়।

তবে এসব পথ দিয়ে আমদানীকৃত সারেই হেভি মেটাল এর মারাত্বক প্রভাব জানা স্বত্বেও এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় ও বিভাগগুলোর কোন তৎপরতা কিংবা আলোচনা চোখে পড়ে না।

নিয়মানুযায়ী কোন সার আমদানী করতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশের সকল ছাড়পত্র তাদের দেশের ষ্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী প্রদান করা হয় এবং সাথে দেয়া হয় সংশ্লিষ্ট পণ্যের প্রিন্সিপাল পেপার, টিডিএস, এমএসডিএস। যে সব কাগজপত্র আমদানীকারকেরা মিলিয়ে নিবেন দেশীয় অনুমতিপ্রদানকারী কর্তৃপক্ষের মাণদন্ড অনুযায়ী। বাংলাদেশের লাইসেন্স ও আমদানী  অনুমতিপ্রদানকারী কর্তৃপক্ষ হলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের  অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের  সার ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং হেভিমেটাল পরীক্ষা করে দেখে সয়েল রিসার্চ ইন্সটিটিউট। 

সার ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০০৬  যা ২০০৭ বলেও পরিচিত সেখানে  ধারা ১২ হতে ১৫ পর্যন্ত বিস্তারিত বলা হয়েছে। সেখানে আমদানীকৃত সার ও কীটনাশকের জন্য একটি এলাউবেল লিমিট দেয়া আছে। এর কম বা বেশি হলে সংশ্লিষ্ট পরিদর্শক ও বিভাগ আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করার কথা বলা আছে।

খামারবাড়ির সরেজমিন উইং এর কর্মকর্তারা আমদানীকারক প্রতিষ্ঠানের এসব সারের স্যাম্পল  কালেক্ট করে পরীক্ষাগারে পাঠান পরীক্ষা করার জন্য। এরপর স্যাম্পল টেষ্টে সঠিক প্রমাণিত হলে এসব সারের ছাড়পত্র দেবার কথা।

এই বিষয় নিয়ে টিম গোয়েন্দা ডায়রি ও দৈনিক ক্রাইম ডায়রি প্রথমেই কথা বলে মো: নজরুল ইসলাম উপপরিচালক কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর  খুলনার সাথে।

https://dae.khulna.gov.bd/bn/site/view/officer_list এই ওয়েবসাইট হতে তার ব্যবহৃত ফোন নম্বর ০১৭১৬৪৬৩৪৬৩ সংগ্রহ করা হয় । তাকে হেভিমেটাল সমৃদ্ধ সার আমদানী বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান যে তার কাজ হলো সারের স্যাম্পল নিয়ে টেষ্টে পাঠানো। এ রেজাল্ট দেয় এসআরডিআই। 
এই বন্দর দিয়ে ঠিক কতটুকু সার আমদানী হয় আর কতগুলো কোম্পানীর স্যাম্পল ফেইল করে এ বিষয়ে তিনি কোন তথ্য জানেন না বলে জানান।

তিনি একবার খুলনায় তার অফিসে ডাটা নেবার জন্য যেতে বলেন। পরবর্তীতে তিনি এসআরডিআই কিংবা খামারবাড়িতে যেতে বলেন। পরবর্তীতে তিনি ষ্টাডি করে পরদিন জানাবেন বললেও পরবর্তীতে তিনি আর এ বিষয়ে কোন তথ্য দেননি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আবদুল্লাহ রহমান বলেন, “ফসলের মাধ্যমে যদি হেভি মেটাল আমাদের খাদ্যচক্রে ঢুকে পড়ে, তা হলে আগামী এক দশকের মধ্যে বাংলাদেশে ক্যান্সার ও কিডনি রোগের হার ভয়াবহভাবে বাড়তে পারে।”  পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, এই ধরনের সার ব্যবহারে ভূগর্ভস্থ পানি দূষিত হওয়ার ঝুঁকি প্রবল, যা নিরাপদ পানি সরবরাহ ব্যবস্থাকেও বিপন্ন করতে পারে।

অনুসন্ধানী সুত্রে জানা যায়, আমদানীকৃত বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সার বাজারজাত হবার পর স্যাম্পল কালেক্ট করে তাতে মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণ হেভিমেটালের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। যেহেতু এসব সার আমদানী নির্ভর সুতরাং আমদানীকালীন সময়ে এসব সার পরীক্ষাও করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো সব সারই কি হেভিমেটালের এলাউয়েবল লিমিট পাওয়া গেছে? আবার কৃষি জমিতে ব্যবহার যোগ্য সার গুলো যদি এলাউবেল লিমিট ক্রস করে থাকে তবে তার পরীক্ষন ও বাতিল পদ্ধতি কি এবং তার ব্যবহার হচ্ছে কিনা? শাস্তিমূলক কি ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে? কয়টি কোম্পানী আমদানী করে ? তারা কিভাবে ছাড়পত্র পায়? এসআরডিআই এর পরীক্ষন সক্ষমতা এবং পরীক্ষার সঠিক রিপোর্ট কিভাবে মূল্যায়ন করেন কৃষি কর্মকর্তারা সেসব প্রশ্ন ও উত্তর খু*জছে টিম ক্রাইম ডায়রি ও গোয়েন্দা ডায়রি। এ বিষয় নিয়ে টিম ক্রাইম ডায়রি ও গোয়েন্দা ডায়রি অনুসন্ধান অব্যহত রেখেছে। যা ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হতে থাকবে।

ধারাবাহিক চলবে.................
দৈনিক ক্রাইম ডায়রি// স্পেশাল -জাতীয়