মার্কিন স্থলবাহিনীর জন্য অপেক্ষা করছে ইরান—কঠোর বার্তা তেহরানের

মার্কিন স্থলবাহিনীর জন্য অপেক্ষা করছে ইরান—কঠোর বার্তা তেহরানের
ছবি- অনলাইন হতে সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযান নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা বাড়লেও বিষয়টি নিয়ে তেহরানের কোনো উদ্বেগ নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি। বরং তিনি দাবি করেছেন, ইরান মার্কিন স্থলবাহিনীর মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়— ইরানে মার্কিন স্থলবাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে তেহরান কতটা উদ্বিগ্ন।

জবাবে আরাঘচি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ইরান এ নিয়ে মোটেও চিন্তিত নয়। তার ভাষায়, ইরান এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত এবং প্রয়োজন হলে মার্কিন সেনাদের মোকাবিলা করতে সক্ষম। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি স্থল অভিযান চালায়, তাহলে সেটি তাদের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, চলমান উত্তেজনার মধ্যেও তেহরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধবিরতির কোনো প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা নেই। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২৫ সালের জুনে যখন প্রায় ১২ দিন ধরে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত চলেছিল, তখনও ইরান যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেয়নি।

আরাঘচির দাবি, সে সময় জেনেভায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলাকালে তেহরান সম্ভাব্য সংঘাতের ইঙ্গিত পেয়েছিল। তবুও তারা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়নি। বরং তার মতে, সেই সংঘাতের সময় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল ইসরাইল—যারা প্রথমে হামলা শুরু করেছিল।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চলে। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমঝোতা ছাড়াই সেই সংলাপ শেষ হয়।

এর একদিন পর, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভেতরে “অপারেশন এপিক ফিউরি” নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সময়ে ইসরাইলও “অপারেশন রোয়ারিং লায়ন” নামে পৃথক সামরিক অভিযান চালায় বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

চলমান এই সংঘাতে ইতোমধ্যে হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, টানা ছয় দিনের সংঘাতে প্রায় এক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

দৈনিক ক্রাইম ডায়রি // আন্তর্জাতিক