ঈদ সামনে, সক্রিয় জালনোট ও অজ্ঞান পার্টি চক্র

অনলাইন-অফলাইনে বাড়ছে প্রতারণা, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ

ঈদ সামনে, সক্রিয় জালনোট ও অজ্ঞান পার্টি চক্র
ছবি- অনলাইন হতে সংগৃহীত

আশিকুর রহমান মাহী:

পবিত্র ঈদকে ঘিরে রাজধানীসহ সারা দেশে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে জালনোট ও অজ্ঞান পার্টির বিভিন্ন সংঘবদ্ধ চক্র। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বছরজুড়ে তৈরি করা জাল টাকার বড় একটি অংশ ঈদ মৌসুমে বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। বিশেষ করে কোরবানির পশুর হাট, শপিংমল, বাস টার্মিনাল ও লঞ্চঘাটকে টার্গেট করে চক্রগুলো তৎপরতা বাড়িয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে জালনোট কেনাবেচার গোপন নেটওয়ার্ক পরিচালনা করা হচ্ছে। ফেসবুকের কিছু গোপন গ্রুপ ও মেসেঞ্জারভিত্তিক চক্রের মাধ্যমে কম দামে জাল টাকা সরবরাহের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। বর্তমানে বাজারে এক লাখ টাকার জাল নোট কয়েক হাজার টাকায় বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জালনোট তৈরির সরঞ্জাম ও বিপুল পরিমাণ নকল টাকা উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিভিন্ন অভিযানে কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় গোপনে পরিচালিত কিছু কারখানায় এসব জাল নোট তৈরি হচ্ছে। পরে ঈদ বাজার ও পশুর হাটে তা ছড়িয়ে দিতে মাঠে নামে সংঘবদ্ধ চক্র।

অন্যদিকে ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে অজ্ঞান পার্টির তৎপরতাও বেড়েছে। চলতি মাসেই রাজধানীর বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট ও গণপরিবহনে যাত্রীদের খাবার বা পানীয়ের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে সর্বস্ব লুটের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। বাড়ি ফেরা মানুষকে লক্ষ্য করে প্রতারকরা কখনও সহযাত্রী, কখনও সাহায্যকারী সেজে কাছে আসছে।

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, মৌসুমি এসব অপরাধচক্র সাধারণত উৎসবকেন্দ্রিক সময়ে বেশি সক্রিয় হয়। সীমান্তবর্তী এলাকা ও আশপাশের জেলা থেকে অনেকেই রাজধানীতে এসে সংঘবদ্ধভাবে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। সুযোগ বুঝে সাধারণ মানুষের অসচেতনতার সুযোগ নেয় তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জালনোট ও অজ্ঞান পার্টি ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করা, বড় অঙ্কের টাকা লেনদেনে সতর্ক থাকা এবং সন্দেহজনক কোনো ঘটনা দেখলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

দৈনিক ক্রাইম ডায়রি// ক্রাইম