নার্সিং হোমের বিরুদ্ধে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসা সেবার অভিযোগ

রায়েরবাগে আল মদিনা নার্সিং হোমের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসা সেবার অভিযোগ।

নার্সিং হোমের বিরুদ্ধে  অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসা সেবার অভিযোগ
ছবিঃ দৈনিক ক্রাইম ডায়রি

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে স্বাস্থ্য সেবা। তিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ। ক্ষমতার অপব্যবহারে রোগী হয়রানি। অনুমোদনের শর্ত ভঙ্গ করে নার্সিং হোম পরিচালনা। 


এসএম উজ্জ্বল হোসেনঃ
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন রায়েরবাগ এলাকায় অবস্থিত আল মদিনা নার্সিং হোম এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার-এর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং অব্যবস্থাপনার মধ্যে দিয়ে স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের একাধিক অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী নার্সিং হোমটির প্রবেশ পথ অত্যন্ত সংকীর্ণ হওয়ায় জরুরি রোগী সেবা, বিশেষ করে প্রসূতী নারীদের জন্য এটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার পাশে নার্সিং হোমের প্রবেশদ্বার সেই পথ ব্যবহার করে একজন মানুষ প্রবেশ করতেই হিমশিম খেতে হয় তাতে নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষের নজরদারি নেই।
দ্বিতীয় তলায় উঠে ডান পাশে ওয়েটিং রুম ও বাম পাশে অপারেশন কক্ষ অবস্থিত। ওই ফ্লোরজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ময়লার স্তুপ,বাথরুমগুলো দুর্গন্ধযুক্ত ও অপরিষ্কার, যা স্বাস্থ্যবিধির চরম লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সেবা প্রত্যাশীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আল মদিনা নার্সিং হোমের মালিক মিজানুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী নুরুন্নাহার প্যারামেডিক্যাল ডিপ্লোমা সার্টিফিকেটধারী হলেও নিজেকে গাইনি চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়ে অধিকাংশ সিজার অপারেশন তিনিই পরিচালনা করেন।

অভিযোগ রয়েছে মালিকের ছেলে নিজেকে কখনও ডাক্তার, কখনও পরিচালক পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার করেন।

পরিবারভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানে সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাব থাকায় মাঝেমধ্যে চিকিৎসাজনিত জটিলতা তৈরি হয়।
প্রতিবেদক নার্সিং হোমের অনুমোদন সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চাইলে মিজানুর রহমান জানায় তাদের সব ধরনের অনুমোদন রয়েছে বলে দাবি করলেও তা দেখাতে ব্যর্থ হয়। ভিডিও ধারণের অনুমতি চাইলে প্রতিষ্ঠানটির একাংশের আচরণ উত্তেজনাকর হয়ে ওঠে। অতঃপর মিজানুর রহমানের ইশারায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। বিষয়টিকে  ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে যথাযথ অনুমোদন ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা থাকলে গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে পুলিশের সহায়তা নেওয়ার প্রয়োজন কেন?

চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগী নুরী বেগম জানান নরমাল ডেলিভারির কথা বলে তাকে ভর্তি করানো হলেও পরে সিজার করা হয় এ জন্য ২২ হাজার টাকা বিল করা হয়। বিলকৃত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে পুলিশ ডাকার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন নার্সিং হোমের পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর।

আশপাশের বাসিন্দারাও একই অভিযোগ তুলে ধরে জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই নার্সিং হোমে অনিয়ম চললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহন ও তদারকি না করায় প্রতিষ্ঠানটি বেপরোয়া ভাবে প্রতারণা মূলক বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।  

এ বিষয়ে সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের মন্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রশাসনের দায়িত্বশীল মহলের মতে, বেসরকারি নার্সিং হোম পরিচালনায় নির্ধারিত অনুমোদন, নিবন্ধন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা বাধ্যতামূলক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

এলাকাবাসীর দাবি যতদ্রুত তদন্তের মাধ্যমে আল মদিনা নার্সিং হোমের অনুমোদন, চিকিৎসা সেবার মান এবং আর্থিক অনিয়ম খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদ স্বাস্থ্য সেবা পেতে পারে।

দৈনিক ক্রাইম ডায়রি // ক্রাইম