চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে ৭ জ্বালানিবাহী জাহাজ, আসছে আরও ৩টি

চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে ৭ জ্বালানিবাহী জাহাজ, আসছে আরও ৩টি
ছবি- অনলাইন হতে সংগৃহীত

মো: হোসেন মিন্টু:

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে হরমুজ প্রণালী পার হয়ে ৭টি জ্বালানিবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে, যা দেশের জ্বালানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রোববার (৮ মার্চ) সকালেই কুতুবদিয়া ও মহেশখালী জলসীমায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বহনকারী জাহাজগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৫টি এলএনজি এবং ২টি এলপিজি জাহাজ রয়েছে।

এছাড়া, একই দিন আরও একটি মনো ইথিলেন গ্লাইকোল-এমইজি (প্লাস্টিক তৈরির কাঁচামাল) বোঝাই জাহাজও বন্দরে পৌঁছেছে। এসব জাহাজের মধ্যে পাঁচটি এলএনজি জাহাজ নিয়ে প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার টন এলএনজি এসেছে এবং দুটি এলপিজি জাহাজ নিয়ে প্রায় ৪১ হাজার টন এলপিজি রয়েছে।

ভারত, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীতে চলাচলের ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহণে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ফলে বাংলাদেশে তেল-গ্যাসের আমদানিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
গত ৩ মার্চ কাতার থেকে ৬৩,৩৮৩ টন এলএনজি নিয়ে এএল জোরে নামে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। এর পরবর্তী দিন ৫ মার্চ এএল জাসাসিয়া নামক জাহাজ ৬৩,৭৫ টন এলএনজি নিয়ে বন্দরে আসে। এছাড়া, ওমান থেকে এলপিজি সেভেন নামক একটি জাহাজ ২২,১৭২ টন এলপিজি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়।

আগামী কয়েকদিনে আরও কয়েকটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসবে। এর মধ্যে ৯ মার্চ কাতার থেকে লুসাইল নামক জাহাজ ৬২,৯৮৭ টন এলএনজি নিয়ে আসবে, ১১ মার্চ গ্যালায়েল ৫৭,৬৬৫ টন এলএনজি এবং ১৪ মার্চ লিব্রেথা ৬২,০০০ টন এলএনজি নিয়ে বন্দরে পৌঁছাবে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যখন হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার ঘোষণা দেয়, তখন তেল পরিবহণে সংকট দেখা দেয়। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহণ পথ হিসেবে পরিচিত, যা দিয়ে প্রায় ২০ শতাংশ বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ হয়।

এই সংকটের কারণে শিপিং কোম্পানিগুলো তেল পরিবহন কার্যক্রম সীমিত করে দিয়েছে, ফলে বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশও এই পরিবহণ সংকটের মুখে পড়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত শুক্রবার জ্বালানি তেলের বিক্রির সীমা নির্ধারণ করেছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম রোববার বিকালে সাংবাদিকদের জানান, বন্দরে সব ধরনের জাহাজ নিয়মিতভাবে পৌঁছাচ্ছে এবং মাল খালাস করে চলে যাচ্ছে। বন্দরের কার্যক্রমে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। তিনি আরও জানান, যে জাহাজগুলো বর্তমানে বন্দরে এসে পৌঁছেছে, তারা ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে হরমুজ প্রণালী পার হয়ে নিরাপদে বাংলাদেশ জলসীমায় প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে।

এছাড়া, আরও তিনটি জাহাজ বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় রয়েছে, যা আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বন্দরে পৌঁছাবে।
চট্টগ্রাম বন্দরে একাধিক জ্বালানিবাহী জাহাজের আগমন বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহের জন্য একটি সঙ্কটমুক্ত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে, হরমুজ প্রণালীতে চলমান উত্তেজনা ও সংকট পরিস্থিতি থেকে বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস পরিবহণে যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, তা বাংলাদেশের বাজারে জ্বালানি সংকট তৈরি করতে পারে।

দৈনিক ক্রাইম ডায়রি// জাতীয়