হাদি হত্যা: ফয়সাল-আলমগীরকে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু

হাদি হত্যা: ফয়সাল-আলমগীরকে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু
ছবি- অনলাইন হতে সংগৃহীত

শাহ আলম রাসেল:

বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে অবশেষে ভারতে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বাংলাদেশে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা (ডিজিএফআই) বিভাগের সুস্পষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এই দুই আসামি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে গ্রেফতার হয়েছেন। ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই এবং পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যম ‘এই সময়’ রোববার (৮ মার্চ) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গ্রেফতার হওয়া দুই আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ (রাহুল) ও আলমগীর হোসেন গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় শরিফ ওসমান হাদি হত্যায় জড়িত ছিল। হত্যার পর তারা ভারত সীমান্ত অতিক্রম করে পালিয়ে গিয়েছিল। ভারতের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) তাদের গ্রেফতার করে এবং এই ঘটনা একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ হাদি হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশে ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল।

২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে জুমার নামাজ শেষে একটি প্রচারণা চালানোর সময় দুই মোটরসাইকেল আরোহী ফয়সাল ও আলমগীর শরিফ ওসমান হাদি ওপর গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এই হত্যাকাণ্ডটি দেশে এবং আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল, কারণ এটি একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল, যা বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল।

বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা বিভাগের নতুন মহাপরিচালক ভারত সফর করেন এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে এই দুই আসামি ও অন্যান্য সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের জন্য অনুরোধ করেন। এর প্রেক্ষিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ফয়সাল ও আলমগীরকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।

এছাড়াও, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ভারতীয় সরকারকে বাংলাদেশ-বিরোধী প্রচারণাকারীদের বিরুদ্ধেও সাঁড়াশি অভিযান চালানোর জন্য নিশ্চিত করেছে। ভারতের কর্মকর্তারা এই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছেন এবং বাংলাদেশের নিরাপত্তার প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি জোরদার করতে চাইছেন।

বর্তমানে ফয়সাল ও আলমগীরের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এর আগে, ফয়সাল ও তার পরিবারের সদস্যরা এবং সহযোগীরা গ্রেফতার হয়েছিলেন এবং রিমান্ডে থাকা অবস্থায় ছয়জন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন।

ফয়সাল ও আলমগীরের গ্রেফতার ও তাদের হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেনের গ্রেফতার ও তাদের বাংলাদেশে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া বাংলাদেশের সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে যাবে এবং দেশে শান্তি এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দৈনিক ক্রাইম ডায়রি// স্পেশাল