ব্যবসায়ীর বাসায় অপহরণের নাটক, প্রায় ৪ কোটি টাকা লুটের অভিযোগ
ডেস্ক রিপোর্ট:
রাজধানীতে এক ব্যবসায়ীর বাসায় অভিযান চালানোর নামে অপহরণের নাটক সাজিয়ে প্রায় পৌনে ৪ কোটি টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে একদল ব্যক্তির বিরুদ্ধে, যারা নিজেদের মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয় দিয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (২ মার্চ) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-তে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ফখরুদ্দীন লিখিত বক্তব্যে পুরো ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি সংঘবদ্ধ দল পুলিশ পরিচয়ে তার বাসায় প্রবেশ করে তল্লাশির নামে বিপুল অঙ্কের নগদ অর্থ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যায়।
ফখরুদ্দীন জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কসমেটিক পণ্য ও থান কাপড়ের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জসহ বিভিন্ন পাইকারি বাজার থেকে পণ্য সংগ্রহ করে ঢাকার ইসলামপুর ও চকবাজার এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করেন। পারিবারিকভাবে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকায় তার লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, গত বছরের ৮ নভেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওয়ারীতে অবস্থিত তার বাসায় একদল ব্যক্তি উপস্থিত হয়। তারা নিজেদের মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয় দেয় এবং দাবি করে, বাসার ভেতরে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অপহরণ করে রাখা হয়েছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে তারা জোরপূর্বক বাসায় প্রবেশ করে এবং তল্লাশি শুরু করে।
ভুক্তভোগীর দাবি, তল্লাশির নামে আলমারিতে সংরক্ষিত চার দিনের ব্যবসায়িক লেনদেনের মোট ৩ কোটি ৭৫ লাখ ২৩ হাজার টাকা কয়েকটি ব্যাগে ভরে নিয়ে যাওয়া হয়। পাশাপাশি ৬ লাখ টাকার জাল নোট বাসায় রেখে তার দুই কর্মচারীকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, অভিযুক্তরা ব্যবসা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও নথিও নিয়ে যায়। ঘটনার সময় তিনি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছিলেন। দেশে ফিরে বিষয়টি জানার পর তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেন।
ভুক্তভোগী জানান, তিনি টাকা উদ্ধারের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও সন্তোষজনক ফল না পেয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সিএমএম কোর্ট-এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন এক কর্মকর্তাসহ মোট ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আদালত অভিযোগপত্র ও প্রাথমিক নথি পর্যালোচনা করে মামলাটি গ্রহণ করেন এবং পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-এর ডিআইজিকে নির্দেশ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে ফখরুদ্দীন বলেন, পারিবারিকভাবে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও মূলধনের বড় অংশ হারিয়ে তিনি এখন চরম আর্থিক সংকটে রয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অর্থ উদ্ধারের জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন হওয়ায় অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানা যায়নি। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।
দৈনিক ক্রাইম ডায়রি// ক্রাইম










