মধ্যপ্রাচ্য সংকটে প্রবাসীদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে প্রবাসীদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার
ছবি- অনলাইন হতে সংগৃহীত

হাতিম বাদশা:

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের প্রেক্ষাপটে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। ২ মার্চ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট—সংকটপূর্ণ অঞ্চলে বসবাসরত ও কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষা করাই সরকারের প্রথম দায়িত্ব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে বা বাইরে যেখানেই নাগরিকরা অবস্থান করুন না কেন, কোনো ধরনের ক্ষতি বা ঝুঁকির মুখে পড়লে সরকার তাদের পাশে থাকবে। জাতীয় স্বার্থের কেন্দ্রে জনগণের নিরাপত্তা ও কল্যাণই সর্বাগ্রে বিবেচিত হয়।

তিনি জানান, সংকট শুরুর পর থেকেই সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। বিশেষ করে কুয়েত, বাহরাইন এবং কাতার–এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে। এসব আলোচনায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি অগ্রাধিকার পেয়েছে এবং তারা প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত আছেন, যারা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাই তাদের নিরাপত্তা, কর্মপরিবেশ এবং চলাচলের নিশ্চয়তা দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে কেউ যেন সংঘাতের শিকার না হন—এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব হয়, তবে সরকার দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনে দূতাবাসসমূহকে আরও সক্রিয় করা, জরুরি সহায়তা প্রদান এবং প্রয়োজন হলে সরিয়ে নেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সাময়িকভাবে আটকে পড়া সম্ভাব্য অভিবাসী কর্মীদের বিষয়ে তিনি জানান, প্রয়োজনীয় আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। আকাশপথ স্বাভাবিক হলে তাদের যাত্রার ব্যবস্থা করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, যুদ্ধ বা সংঘাত কখনও স্থায়ী সমাধান বয়ে আনে না। সংলাপ, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব। বাংলাদেশ সবসময় শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সেই অবস্থান বজায় রাখবে।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবিকাশমান পরিস্থিতি, এর সম্ভাব্য প্রভাব—বিশেষ করে বিমান চলাচল, প্রবাসী কল্যাণ, শ্রমবাজার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা—পর্যালোচনার জন্য এই আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নিয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করেন।

দৈনিক ক্রাইম ডায়রি// জাতীয়