শপথের অপেক্ষায় নতুন এমপিরা, কী কী সুবিধা পাচ্ছেন জন প্রতিনিধিরা

সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব কেবল আইন প্রণয়ন বা বিতর্কে অংশ নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তাদের নির্বাচনী এলাকার সঙ্গে নিয়মিত সংযোগ রাখা, উন্নয়ন কার্যক্রম তদারক করা এবং জনগণের সমস্যাগুলো রাষ্ট্রীয় পরিসরে উপস্থাপন করাও এর অংশ।

শপথের অপেক্ষায় নতুন এমপিরা,   কী কী সুবিধা পাচ্ছেন জন প্রতিনিধিরা
ছবি: অনলাইন হতে সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন সংসদ গঠনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নবনির্বাচিত সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন। এরপর সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে এবং তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা দায়িত্ব নেবে।

সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব কেবল আইন প্রণয়ন বা বিতর্কে অংশ নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তাদের নির্বাচনী এলাকার সঙ্গে নিয়মিত সংযোগ রাখা, উন্নয়ন কার্যক্রম তদারক করা এবং জনগণের সমস্যাগুলো রাষ্ট্রীয় পরিসরে উপস্থাপন করাও এর অংশ। এসব দায়িত্ব পালনে সহায়তা দিতে রাষ্ট্র নির্ধারিত একটি বেতন-ভাতা কাঠামো কার্যকর রয়েছে। এ কাঠামোর ভিত্তি হলো সংসদ সদস্য (পারিশ্রমিক ও ভাতা) আদেশ, ১৯৭৩, যা সময়ের প্রয়োজনে সংশোধিত হয়েছে।

বর্তমান বিধান অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্য মাসিক ৫৫ হাজার টাকা সম্মানী পান। নির্বাচনী এলাকায় সাংগঠনিক তৎপরতা ও জনসংযোগ রক্ষায় অতিরিক্ত ১২ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ রক্ষার জন্য আপ্যায়ন খাতে মাসে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

যাতায়াত ও পরিবহন খাতে মাসিক ৭০ হাজার টাকা ভাতা নির্ধারিত, যা জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের পারিশ্রমিক অন্তর্ভুক্ত করে। নির্বাচনী এলাকার কার্যালয় পরিচালনায় মাসে ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। ব্যক্তিগত আনুষঙ্গিক ব্যয়ের মধ্যে লন্ড্রি বাবদ ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং গৃহস্থালি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বাবদ ছয় হাজার টাকা ভাতা রয়েছে।

দায়িত্বকালীন শুল্কমুক্তভাবে একটি গাড়ি আমদানির সুযোগ সংসদ সদস্যদের জন্য বিশেষ সুবিধা হিসেবে বিবেচিত। নির্দিষ্ট সময় পর একই শর্তে আরেকটি গাড়ি আনার সুযোগও রয়েছে। সংসদ অধিবেশন বা কমিটির বৈঠকে অংশ নিতে বিমান, রেল বা নৌপথে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড় গুণ পর্যন্ত ভ্রমণ ভাতা প্রাপ্য; সড়কপথে নির্দিষ্ট হারে কিলোমিটারভিত্তিক ভাতা দেওয়া হয়। দায়িত্ব পালনের সময় দৈনিক অবস্থান ভাতা এবং উপস্থিতিনির্ভর যাতায়াত ভাতাও কার্যকর রয়েছে।

বার্ষিকভাবে দেশে ভ্রমণের জন্য এককালীন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বা সমমূল্যের ট্রাভেল পাস পাওয়া যায়। চিকিৎসা সুবিধায় সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবার প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তাদের সমমানের সুবিধা ভোগ করেন; পাশাপাশি মাসিক চিকিৎসা ভাতা রয়েছে। সরকারি খরচে টেলিফোন সংযোগ এবং নির্দিষ্ট অঙ্কের কল চার্জ প্রদান করা হয়। দায়িত্বকালীন দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী অক্ষমতার ক্ষেত্রে বিমা সুবিধাও প্রযোজ্য। জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে ব্যয়ের জন্য বছরে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বরাদ্দের সুযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, এসব ভাতা আয়করমুক্ত।

রাষ্ট্রীয় এই সুবিধাগুলোর উদ্দেশ্য হলো সংসদ সদস্যদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সহজ করা। তবে ভাতা ও সুবিধার পরিমাণ, ব্যবহারিক স্বচ্ছতা এবং জনস্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিয়ে জনমহলে আলোচনা অব্যাহত আছে। নতুন সংসদ যাত্রা শুরুর প্রাক্কালে বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।

দৈনিক ক্রাইম ডায়রি// জাতীয়