নতুন ভোরের প্রতিশ্রুতি, কেমন হবে তারেক রহমানের প্রথম মন্ত্রিসভা?

সংক্ষিপ্ত কিন্তু চমকপ্রদ মন্ত্রিসভার প্রস্তুতি, জবাবদিহিতায় জোর তারেক রহমানের

নতুন ভোরের প্রতিশ্রুতি, কেমন হবে তারেক রহমানের প্রথম মন্ত্রিসভা?
ছবি: অনলাইন হতে সংগৃহীত

মুন্সী মো: আল ইমরান:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। আগামী মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে নতুন আইনসভারের। একই দিন বা তার পরপরই নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন এবং তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে দেখা যাবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন দলীয় নেতারা। দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকার পর রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরে এসে তিনি একটি “স্মার্ট ও জবাবদিহিমূলক” সরকার গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার ঘনিষ্ঠরা বলছেন, এবারের মন্ত্রিসভা হবে আকারে সংক্ষিপ্ত, কাঠামোয় কার্যকর এবং চরিত্রে অন্তর্ভুক্তিমূলক।

বর্তমানে সরকারের অধীনে ৫৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থাকলেও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা ৩০-এর মধ্যে সীমিত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে। নবীন ও প্রবীণের সমন্বয় ঘটিয়ে দায়িত্ব বণ্টনের কথা ভাবা হচ্ছে। অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের পাশাপাশি আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় তরুণ মুখ এবং পেশাগত দক্ষতার জন্য পরিচিত ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।

দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, নির্বাচনের পরদিন সন্ধ্যায় সিনিয়র নেতারা গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে সম্ভাব্য মন্ত্রিপরিষদ গঠন, অগ্রাধিকারভিত্তিক খাত নির্ধারণ এবং প্রশাসনিক পুনর্গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়। কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাবেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শপথের পর জানানো হবে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেন, নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং সময় হলেই চিত্র স্পষ্ট হবে। তিনি ইঙ্গিত দেন, এবারের সরকার গঠনে ইতিবাচক বার্তা থাকবে।

সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকায় দলের স্থায়ী কমিটি ও ভাইস চেয়ারম্যান পর্যায়ের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম ঘুরছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা থেকে নির্বাচিত তরুণ সংসদ সদস্যদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনার আলোচনা রয়েছে। দলটির হাইকমান্ড চায় প্রশাসনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ভারসাম্য বজায় রাখতে।

এছাড়া সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৬(২) অনুযায়ী সংসদ সদস্য নন, কিন্তু যোগ্য ও অভিজ্ঞ—এমন ব্যক্তিদের মধ্য থেকেও সীমিতসংখ্যক টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এ কোটায় অর্থনীতি, পররাষ্ট্র, আইন ও প্রশাসনিক সংস্কার সংশ্লিষ্ট খাতে বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে আভাস মিলেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা নতুন বাস্তবতায় সরকার পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণই হবে বড় পরীক্ষা। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া দল হিসেবে বিএনপির সামনে দলীয় সংহতি বজায় রাখা এবং প্রতিশ্রুত সংস্কার বাস্তবায়ন করাই হবে প্রথম চ্যালেঞ্জ।

সব মিলিয়ে, নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা গঠন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল ও প্রত্যাশা—দুটোই বাড়ছে। এখন দেখার বিষয়, ঘোষিত ‘স্মার্ট ও জবাবদিহিমূলক’ সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা প্রতিফলিত হয়।

দৈনিক ক্রাইম ডায়রি// জাতীয়