বগুড়ার শেরপুরে মাটির নিচে লুকানো ছিল দুই কোটি টাকার মূর্তি, ধরা পড়ল দুই পাচারকারী

মূর্তিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৭ ইঞ্চি এবং প্রস্থ ২৪ ইঞ্চি, যার আনুমানিক বাজার মূল্য দুই কোটি টাকা।

বগুড়ার শেরপুরে মাটির নিচে লুকানো ছিল দুই কোটি টাকার মূর্তি, ধরা পড়ল দুই পাচারকারী
ছবি- অনলাইন হতে সংগৃহীত

শেরপুর সংবাদদাতা

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় বিক্রির প্রস্তুতিকালে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যমানের ১৯০ কেজি ওজনের একটি বিরল কষ্টি পাথরের মূর্তিসহ দুইজন পাচারকারীকে আটক করেছে র‌্যাব। র‌্যাব-১২ বগুড়া কোম্পানির সদস্যরা রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের দক্ষিণ আমইন গ্রামের সোনালী পুকুরপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূর্তিটি উদ্ধার করেন।

র‌্যাব-১২ বগুড়া কোম্পানির কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ফিরোজ আহমেদ সোমবার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের শেরুয়া ফরেস্টগেট এলাকার মৃত আফাজ উদ্দিন সরকারের ছেলে ও পুকুরের লিজগ্রহীতা আবুল বাশার রুবেল (৫৫) এবং তার সহযোগী সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রাঙ্গালিয়াগাঁতি গ্রামের মৃত আবু বক্কর সিদ্দিক সরকারের ছেলে আল আমিন সরকার (৪৮)।

র‌্যাব ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় এক বছর আগে দক্ষিণ আমইন গ্রামের সোনালী পুকুর সংস্কারের সময় পুকুরের তলদেশ থেকে ১৯০ কেজি ওজনের কষ্টি পাথরের এই মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়। মূর্তিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৭ ইঞ্চি এবং প্রস্থ ২৪ ইঞ্চি, যার আনুমানিক বাজার মূল্য দুই কোটি টাকা।

পুকুরের লিজগ্রহীতা আবুল বাশার রুবেল মূর্তিটি নিজের হেফাজতে রেখে বিভিন্ন সম্ভাব্য ক্রেতার কাছে বিক্রির চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। এমন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১২ গোপন নজরদারি শুরু করে। পরে রবিবার বিকেলে দক্ষিণ আমইন গ্রামের সোনালী পুকুরপাড়ে মাছের খাদ্য সংরক্ষণের একটি মেশিন ঘরে অভিযান চালিয়ে মাটির নিচে লুকানো অবস্থায় মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়। একই সময় বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দু’জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব কমান্ডার ফিরোজ আহমেদ আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা মূর্তিটি গোপনে সংরক্ষণ করে উচ্চমূল্যে বিক্রি ও পাচারের পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছেন।

উদ্ধার করা কষ্টি পাথরের মূর্তিসহ গ্রেফতারদের শেরপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মঈনুদ্দীন জানান, আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

দৈনিক ক্রাইম ডায়রি/ক্রাইম