জুলাই বিপ্লবে নিহতদের পরিবার সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনা হচ্ছে

Families of those killed in the July Revolution are being brought under social security.

জুলাই বিপ্লবে নিহতদের পরিবার সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনা হচ্ছে

বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা নতুন করে তিন লাখ বাড়ানো হবে বলে জানানো হয়েছে এবং তাদের মাসিক ভাতার অঙ্ক বাড়বে ৫০ টাকা হারে বাড়বে বলে জানা গেছে

মুন্সী আল ইমরানঃ

 অবশেষে  জুলাই আন্দোলনে নিহতদের পরিবার ও আহতদের ‘সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির’ আওতায় আনতে যাচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে আগামী বাজেটে (২০২৫-২৬) বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা নতুন করে তিন লাখ বাড়ানো হবে বলে জানানো হয়েছে এবং তাদের মাসিক ভাতার অঙ্ক বাড়বে ৫০ টাকা হারে বাড়বে বলে জানা গেছে ।

উল্লেখ্য যে,  চলমান মূল্যস্ফীতির কারনে আগে হতে চলে আসা গরিব ও দুস্থ মানুষের নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা বৃদ্ধির অঙ্ক খুবই সামান্য।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে,  নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ডক্টর সালেহ উদ্দিন আহমেদ নিজেও বিষয়টি উপলব্ধি করে বলেছেন, সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিনিয়োগ না থাকায় কর্মসংস্থানও কমছে। ফলে মূল্যস্ফীতি ও অর্থ সংকট-বিপরীতমুখী অবস্থানের মধ্যেই সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়াতে হচ্ছে বলে জানা গেছে। 

অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি দীর্ঘদিন মূল্যস্ফীতির হার ঊর্ধ্বমুখী বিরাজ করছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতি মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি রয়েছে। সর্বশেষ তথ্যমতে ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতির হার ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্য দিয়েই মানুষের জীবনযাত্রা অতিক্রম করছে। এর প্রভাব দরিদ্র মানুষের ওপর পড়েছে। নতুন করে মানুষ গরিব হচ্ছে। বিশেষ করে অতি দরিদ্র ও নিু আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থায় আছে।

জানতে চাইলে অর্থ সচিব (সিনিয়র) মাহবুব আহমেদ উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, বিনিয়োগ না থাকায় অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি নেই এবং বিনিয়োগের অভাবে কর্মসংস্থান হচ্ছে না। এছাড়া মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে পড়ছে। এই দুই কারণে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানো দরকার আছে। আমি মনে করি সিদ্ধান্ত সঠিক আছে।

চলতি অর্থবছরে (২০২৪-২৫) বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন ৬০ লাখ এক হাজার জন। আগামী অর্থবছরে আরও এক লাখ বাড়িয়ে ৬১ লাখ এক হাজার এবং ভাতা ৬০০ থেকে বাড়িয়ে ৬৫০ টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। বর্তমানে বিধবা ভাতা পাচ্ছেন ২৭ লাখ ৭৫ হাজার নারী।সেখান থেকে বেড়ে ২৮ লাখ ৭৫ হাজার এবং ভাতা ৬০০ টাকা থেকে বেড়ে ৬৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আগামী অর্থবছরের বাজেটে নতুন করে বয়স্ক ভাতা সুবিধাভোগীর সংখ্যা এক লাখ, বিধবা ভাতা সুবিধাভোগী এক লাখ এবং প্রতিবন্ধী ভাতা সুবিধাভোগীর সংখ্যা এক লাখ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়

প্রতিবন্ধী ভাতা সুবিধাভোগীর সংখ্যা এক লাখ বেড়ে ৩৩ লাখ ৩৪ হাজারে দাঁড়াবে। বর্তমানে ৩২ লাখ ৩৪ হাজার প্রতিবন্ধীকে প্রতি মাসে ৮৫০ টাকা হারে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। এখন ভাতার অঙ্ক ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৯০০ টাকায় উঠবে। এছাড়া অন্যান্য ভাতার সুবিধাভোগীর সংখ্যাও কিছু বাড়বে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সূত্রমতে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে আগামী অর্থবছরের বাজেটে নতুন করে বয়স্ক ভাতা সুবিধাভোগীর সংখ্যা এক লাখ, বিধবা ভাতা সুবিধাভোগী এক লাখ এবং প্রতিবন্ধী ভাতা সুবিধাভোগীর সংখ্যা এক লাখ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে আগামী অর্থবছরে বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির তালিকায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে ওই বৈঠকে। জানা গেছে আগামী অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের জন্য বরাদ্দ থাকছে ৪০৫ কোটি টাকা। তবে আর্থিক কার্যক্রমের বিষয়টি পরিচালনা করছে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়।

ক্রাইম ডায়রি / জাতীয় /সুত্র-জাতীয় দৈনিক