দীপেন দেওয়ানের বিদায়ে পাহাড়ে রাজনৈতিক ঝড়, জোরালো হচ্ছে নানা জল্পনা-কল্পনা
পদত্যাগের কারণ নিয়ে বিভক্ত মত, রাঙামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলায় বিক্ষোভ ও উত্তেজনা
অনলাইন ডেস্ক:
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের আকস্মিক পদত্যাগকে ঘিরে পাহাড়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। তার পদত্যাগের ঘোষণার পর থেকেই রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানজুড়ে রাজনৈতিক মহল, সাধারণ জনগণ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও নানা ধরনের গুঞ্জন।
সরকারি সূত্র জানায়, ব্যক্তিগত ও শারীরিক কারণ উল্লেখ করে দীপেন দেওয়ান সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মাধ্যমে তা কার্যকর হয় এবং এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
তবে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তার সমর্থকরা। তাদের দাবি, শুধুমাত্র শারীরিক অসুস্থতার কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বরং মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয়, পার্বত্য অঞ্চলের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং স্থানীয় নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব এ ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই রাঙামাটির বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। বাঘাইছড়ি, কাউখালী, বিলাইছড়ি ও রাঙামাটি শহরের একাধিক স্থানে সমর্থকরা তার পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে সড়কে নেমেছেন।
বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, জনপ্রিয় এই নেতাকে রাজনৈতিক চাপে দায়িত্ব ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। তাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে একাধিক মহলের সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিত্ব হারানোর ঘটনায় প্রতিফলিত হয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। বিভিন্ন নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা নিজেদের মতামত প্রকাশ করে পদত্যাগের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি তুলেছেন। কেউ কেউ এটিকে দলীয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফল বলেও মন্তব্য করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাহাড়ের রাজনীতিতে দীপেন দেওয়ান ছিলেন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী নাম। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার পর মন্ত্রিসভায় তার অন্তর্ভুক্তি স্থানীয় জনগণের মধ্যে নতুন প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছিল। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই তার দায়িত্ব ছাড়ার ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে রাঙামাটি জেলা বিএনপির একটি অংশ অভ্যন্তরীণ বিরোধের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দলীয় নেতাদের ভাষ্য, পদত্যাগের বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং এর সঙ্গে সংগঠনের কোনো বিরোধ বা দ্বন্দ্বের সম্পর্ক নেই।
তবে স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, পার্বত্য অঞ্চলের নেতৃত্ব, সাংগঠনিক প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণকে কেন্দ্র করে যে টানাপোড়েন দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল, এই ঘটনা সেই বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের পর পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব আপাতত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে থাকবে বলে জানা গেছে। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত এ ব্যবস্থাই বহাল থাকবে।
সব মিলিয়ে, একজন প্রভাবশালী নেতার হঠাৎ সরে দাঁড়ানো শুধু প্রশাসনিক নয়, পার্বত্য অঞ্চলের রাজনৈতিক বাস্তবতায়ও নতুন প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে। পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপ্রকৃতির দিকে এখন নজর স্থানীয় জনগণ, রাজনৈতিক দল এবং সংশ্লিষ্ট মহলের।
দৈনিক ক্রাইম ডায়রি//রাজনীতি










