বায়েজিদে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের রহস্য উদ্ঘাটন মূল আসামি গ্রেপ্তার

Mystery of dismembered body recovered in Bayezid revealed, main suspect arrested

বায়েজিদে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের রহস্য উদ্ঘাটন মূল আসামি  গ্রেপ্তার
ছবিঃ দৈনিক ক্রাইম ডায়রি

হোসেন মিন্টু, চট্টগ্রাম অফিসঃ 

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে খণ্ডিত মানবদেহ উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহত মো. আনিছ (৩৮)–এর মরদেহের বিভিন্ন খণ্ড উদ্ধার করা হয়েছে এবং মূল আসামি সুফিয়া আক্তার (৩৯) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সিএমপি উত্তর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আমিরুল ইসলামের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) ও সহকারী পুলিশ কমিশনার (বায়েজিদ বোস্তামী জোন)-এর তত্ত্বাবধানে বায়েজিদ বোস্তামী থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল গত ২২ জানুয়ারি বায়েজিদ থানাধীন পাঠানপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সুফিয়া আক্তারকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামির স্বীকারোক্তি ও তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত মো. আনিছের শরীরের বিভিন্ন খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এর আগে গত ২০ জানুয়ারি দিবাগত রাত অর্থাৎ ২১ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে ডিউটি অফিসারের মাধ্যমে খবর পেয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন শহীদনগর চারতলার মোড় এলাকায় দেলোয়ার কোম্পানির বাড়ির সামনে অ্যাডভোকেট হামিদ উল্লাহর জায়গা থেকে কালো পলিথিনে মোড়ানো মানবদেহের দুটি কাটা হাত উদ্ধার করে পুলিশ।

উদ্ধারকৃত হাত দুটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ অজ্ঞাতনামা নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে নিহত ব্যক্তি মো. আনিছ (৩৮), পিতা হায়দার আলী, মাতা নূর জাদু বেগম, বাড়ি কবির আহাম্মদের বাড়ি (চিকদাইর), ডাকঘর অন্নপূর্ণা বাড়ি, ৮নং ওয়ার্ড, থানা রাউজান, জেলা চট্টগ্রাম—মর্মে নিশ্চিত হওয়া যায়। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, তিনি গত ২০ জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন।

তদন্ত ও অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করার একপর্যায়ে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে এবং গত ২২ জানুয়ারি ভোর ৪টার দিকে শহীদনগর এলাকা থেকে সুফিয়া আক্তারকে গ্রেপ্তার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুফিয়া আক্তার স্বীকার করেন, নিহত আনিছের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল।

পরবর্তীতে পারস্পরিক মনোমালিন্য ও ক্ষোভের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন। গত ২০ জানুয়ারি বিকেলে পাঠানপাড়ার বাসায় ডেকে এনে পাথরের শীল দিয়ে মাথায় আঘাত ও পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে আনিছকে হত্যা করা হয়।

পরে মরদেহ টুকরা করে আলামত গোপনের উদ্দেশ্যে শহীদনগর ও শীতলকর্ণা এলাকার বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

দৈনিক ক্রাইম ডায়রি // আইন শৃঙ্খলা