অর্পিত দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনই হোক স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার: ধর্মসচিব
নিজস্ব প্রতিবেদক:
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসকে সামনে রেখে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেছেন, স্বাধীনতার প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করতে হলে প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব সৎভাবে ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দায়িত্ববোধ ও সততার চর্চাই হতে পারে স্বাধীনতা দিবসের সবচেয়ে বড় শপথ।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত ‘স্বাধীনতার গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়।
ধর্মসচিব বলেন, একটি দেশের অগ্রগতি কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর নির্ভর করে না; বরং তা নির্ভর করে নাগরিকদের দায়িত্ববোধ, সততা এবং নৈতিকতার ওপর। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই স্বাধীনতার চেতনা বাস্তব অর্থে প্রতিফলিত হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মিল থাকা সত্ত্বেও জাতীয় জীবনে ঐক্যের ঘাটতি এখনও বিদ্যমান। এই বিভাজন দূর করে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা বৃদ্ধি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। দেশের ইতিহাসে জাতীয় সংহতি প্রতিষ্ঠার প্রয়াসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অতীতে নেতৃত্বের মাধ্যমে ঐক্য গড়ে তোলার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান। তিনি বলেন, স্বাধীনতার চেতনা শুধু রাজনৈতিক অর্জন নয়; এটি নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধেরও প্রতিফলন। ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে নৈতিকতা জোরদার করা গেলে দুর্নীতি ও অসাম্য অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সমন্বয় বিভাগের পরিচালক মো. মহিউদ্দিন। আলোচনায় আরও অংশ নেন মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এসএম তরিকুল ইসলাম, জাতীয় ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা কাজী আবু হোরায়রা, দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ, ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির উপ-পরিচালক শাহ মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি এম এ বারীসহ অন্যান্য বক্তারা।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, স্বাধীনতার চেতনাকে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত জীবনে বাস্তবায়ন করতে হলে ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধকে সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। নতুন প্রজন্মের মাঝে দেশপ্রেম ও নৈতিকতা জাগ্রত করতে শিক্ষা ও সচেতনতার বিকল্প নেই বলেও তারা মন্তব্য করেন।
সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আলেম-ওলামা এবং বিভিন্ন স্তরের অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে দেশের শান্তি, অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফাসসির ড. মো. আবু ছালেহ পাটোয়ারী।
আয়োজকরা জানান, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আরও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, যার মাধ্যমে স্বাধীনতার ইতিহাস ও চেতনা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দৈনিক ক্রাইম ডায়রি// জাতীয়










