অন্তর্বর্তী সরকারের যে অধ্যাদেশগুলো বাতিল ও সংশোধিত হবে তা প্রকাশ

অন্তর্বর্তী সরকারের যে অধ্যাদেশগুলো বাতিল ও সংশোধিত হবে তা প্রকাশ
ছবি- অনলাইন হতে সংগৃহীত

ডেস্ক রিপোর্ট:
 অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি অধ্যাদেশ এখনই সংসদে বিল আকারে উত্থাপিত হচ্ছে না, ফলে সেগুলোর কার্যকারিতা হারিয়ে যাবে। এর মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ রয়েছে, যার মধ্যে গণভোট, গুম প্রতিরোধ, দুদক সংস্কারসহ নানা আইনি সংস্কারের উদ্যোগ ছিল।

বাতিল হওয়া অধ্যাদেশ:
বিশেষ সংসদীয় কমিটি গত বুধবার সংসদে রিপোর্ট উত্থাপন করে, যেখানে সুপারিশ করা হয়েছে যে, চারটি অধ্যাদেশ বাতিল করা হোক। এর মধ্যে রয়েছে সুপ্রিমকোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ। বিশেষভাবে, সুপ্রিমকোর্ট সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশের বিষয়ে জামায়াতের সদস্যরা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন, যেহেতু তারা বিশ্বাস করেন যে, এসব অধ্যাদেশ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং কার্যক্রমের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অধ্যাদেশ বাতিলের পরবর্তী পদক্ষেপ:
এ অধ্যাদেশগুলোর অধীনে নেওয়া কার্যক্রম হেফাজতের জন্য সংসদে বিল আকারে তোলা হবে। তবে এসব অধ্যাদেশের সাথে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ এখনো স্পষ্ট নয়।

১৬টি অধ্যাদেশের কার্যকারিতা হারানো:
স্পেশাল কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৬টি অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে সংসদে বিল আকারে উত্থাপিত না হলে সেগুলোর কার্যকারিতা কার্যত হারাতে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে গুম প্রতিরোধ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ, রাজস্ব নীতি, দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধনী অধ্যাদেশসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ। বিশেষভাবে, গণভোট অধ্যাদেশের অনুমোদন না পাওয়ায় এর ফলাফল আইনি প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে, যা জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে উত্থাপন:
বিশেষ কমিটি সুপারিশ করেছে যে, ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে সংসদে তোলা হবে। এই অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ধূমপান নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, এবং মানব পাচার প্রতিরোধের সংশোধনী অধ্যাদেশ।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ সংশোধন করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এই সংশোধনী বিল সংসদে পাশ হলে এটি রাজনীতির ক্ষেত্রে নতুন এক দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি করবে।

৯৮টি অধ্যাদেশের অনুমোদন:
এছাড়া, ৯৮টি অধ্যাদেশ কোন পরিবর্তন ছাড়াই সংসদে অনুমোদনের জন্য পাঠানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক, গ্রামীণ ব্যাংক, সরকারি চাকরি এবং সাইবার সুরক্ষা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ।

সাংবাদিকদের মন্তব্য:
এ প্রতিবেদন অনুসারে, অন্তর্বর্তী সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ আইনি সংস্কারের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, যা রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে জামায়াত-এনসিপির মধ্যে এই রিপোর্ট নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে, এবং তাদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও তীব্র হতে পারে।

এ বিষয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ইতোমধ্যে সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, যা সরকারের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে।

উল্লেখযোগ্য অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে কিছু রূপরেখা:

গণভোট অধ্যাদেশ: ২০২৫ সালের জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই অধ্যাদেশটি জারি করা হয়েছিল।
গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ: গুম হওয়া ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ।
দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন): দুদকের কার্যক্রম আরো শক্তিশালী করার জন্য এ অধ্যাদেশটি সংশোধিত হয়েছিল।

এভাবে, বিশেষ কমিটির সুপারিশের পর, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভবিষ্যত অন্ধকারে পড়েছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

দৈনিক ক্রাইম ডায়রি// জাতীয়