করোনা ভাইরাস ও নামাজ
মুনির আহমেদ
আজ জুমাবারে আমার দুই পুত্র মিসওয়াক ও গোসল সেরে ধুয়ে আয়রণ করে রাখা পরিস্কার জামা পরে বাসায় সুন্নাত নামায আদায় করে। তারপর দুই জনেই বাসা থেকে পৃথক দু’টি জায়নামায নিয়ে জুমা আদায় করতে নিকটবর্তী মসজিদে যায়। নিজেদের জায়নামাযে বসে খুতবা শোনা ও জুমা’র দুই রাকআত সালাহ আদায় শেষে বিলম্ব না করে বাসায় ফিরে আসে।
বাসায় ফিরে নতুন করে আবারও অজু করে নেয়। এরপর অবশিষ্ট সুন্নাহ নামায আদায় করে গুনাহ মাফ এবং করোনা প্রাদুর্ভাবসহ সকল বিপদাপদ থেকে নিজেদের এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে দোয়া-মুনাজাত করে।
তারপর সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করে তাদের মা ও বোনরা মিলে। এরপর দুপুরের খাবার গ্রহণ করে বিশ্রামে যায়।
বাসা থেকে মসজিদে আসা-যাওয়ার পথে যাদের সাথে দেখা হয়েছে, সালাম (পরস্পরের শান্তি, রহমত কামনা) বিনিময় করে। তবে স্বাস্থ্য ঝুঁকির মতো জরুরি পরিস্থিতির কারণে কারো সাথে মুসাফাহা করেনি।
আমি মনে করি না, এভাবে নিয়ম অনুসরণ করে ১০-১৫ মিনিটের জন্য মসজিদে সালাহ আদায় করতে যাওয়াতে গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিদ্যমান।
এরপরও ইসলামে অসুস্থতায়, বিপদসংকুল পরিস্থিতিতে, ঝড়-তুফানে, স্বাস্থ্য ঝুঁকির মতো পরিস্থিতিতে মসজিদে না গিয়ে বাসায় নামায আদায়ের অনুমতি আছে।
করোনাভাইরাসের স্বাস্থ্যঝুঁকি, স্বাস্থ্যবিধি ও সতর্কতামূলক করণীয় প্রচারণার সাথে সাথে ইসলামে এমন জরুরী পরিস্থিতিতে ঘরে একাকি নামায আদায়েরও অনুমতি দিয়েছে, এটা ভালভাবে প্রচার করলেই তো যথেষ্ট হয়।
করোনাঝুঁকি, স্বাস্থ্যবিধি, সতর্কতামূলক করণীয় এবং ইসলামে এমন পরিস্থিতিতে একা নামাযের অনুমতি আছে; এতটুকু বুঝতে পারলেই তো যে কোন মুসল্লী নামায ঘরে পড়বেন, নাকি মসজিদে পড়বেন; পরিস্থিতি বুঝে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। মসজিদ বন্ধ করে দিতে হবে, জামাত বন্ধ করে দিতে হবে- ধর্মভীরু মুসলমানদের মনে ক্ষত তৈরির মতো এমন কুফরি পরিভাষা ব্যবহার তো সুন্দরভাবেই এড়ানো যায়।
মসজিদ সবসময় উন্মুক্ত থাকবে। স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে মুসল্লীদের উপস্থিতি একেবারেই কম হলে প্রয়োজনে ইমাম-মুয়াজ্জন মিলে হলেও মসজিদে জামাত জারি থাকবে। করোনা প্রাদুর্ভাবের আপদকালীন সময়ে মসজিদে গিয়ে নামায পড়তে যেমন কাউকে জোর করার সুযোগ ইসলাম দেয়নি, তেমনি কেউ যদি এই বিপদকালীন সময়ে আত্মতৃপ্তি লাভ করতে মসজিদে নামায পড়তে চান, তাতেও কেউ বাধা দিতে পারেন না। মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় সবসময় উন্মুক্ত থাকবে। মসজিদ কমিটি প্রতি ওয়াক্ত নামাযের আগে/পরে ভালভাবে মসজিদের মেঝে পরিষ্কার রাখতে যথাযথ উদ্যোগী হবেন। তাছাড়া এ সময়ে কোনরূপ কার্পেট ব্যবহার না করাই উত্তম মনে করি।


crimediarybd1








