ব্লেম নেওয়ার প্রশ্নই আসে না: প্রধান নির্বাচন কমিশনার
গুজব ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নিয়ে প্রতিনিধি দলের উদ্বেগ প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, “এ দেশ গুজবপ্রবণ। তবে আমরা গুজবে কান না দিতে জনগণকে পরামর্শ দিচ্ছি। নির্বাচন ঘিরে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে দেব না।
গুজব ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নিয়ে প্রতিনিধি দলের উদ্বেগ প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, “এ দেশ গুজবপ্রবণ। তবে আমরা গুজবে কান না দিতে জনগণকে পরামর্শ দিচ্ছি। নির্বাচন ঘিরে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে দেব না।
শাহাদাত হোসেন রিটন:
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের ব্যর্থতার দায় নির্বাচন কমিশন নেবে না। তিনি বলেন, “নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে ‘প্রস্তুতির ঘাটতি’ বলে যেন কোনো অভিযোগ না আসে, সে বিষয়ে আমরা আগে থেকেই সতর্ক। আমরা কোনো ধরনের দোষারোপের দায় নিতে প্রস্তুত নই।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন সিইসি।
সিইসি জানান, প্রতিনিধি দলটি নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি জানতে চেয়েছে। তিনি বলেন, “এটি একটি বিশেষ পরিস্থিতি ও ভিন্ন ধরনের সরকার। প্রধান উপদেষ্টা ফেব্রুয়ারিতে ভোটের সম্ভাবনার কথা জানিয়ে আমাদের চিঠি দিয়েছেন। রমজানের আগে ভোট হতে পারে, সে বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। আমরা সে অনুযায়ী প্রস্তুতি জোরদার করেছি, তবে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে আরও আগে থেকেই।”
দলগুলোর প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, “আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়। আমি বিশ্বাস করি, শেষ পর্যন্ত তারা একটা সমঝোতায় পৌঁছাবে। ইতোমধ্যে প্রধান উপদেষ্টা আলোচনার প্রক্রিয়া আবার শুরু করেছেন, সে বিষয়টিও আমরা জানিয়েছি।”
এ সময় তিনি ভোটকেন্দ্র ও নির্বাচনী এলাকায় সংঘবদ্ধ জনতার প্রভাব বা ‘মব কালচার’ নিয়েও কথা বলেন। বলেন, “ভোটের সময় যেসব মব তৈরি হয়, তারা পরে আর থাকে না। ঢাকা শহরই তো খালি হয়ে যায় তখন। এ বিষয়ে আমরা সজাগ আছি।”
গুজব ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নিয়ে প্রতিনিধি দলের উদ্বেগ প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, “এ দেশ গুজবপ্রবণ। তবে আমরা গুজবে কান না দিতে জনগণকে পরামর্শ দিচ্ছি। নির্বাচন ঘিরে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে দেব না। প্রয়োজনে পুরো নির্বাচন স্থগিত করার ক্ষমতা আমাদের আছে।”
সরকারি কর্মচারীদের নির্বাচন পরিচালনায় ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সিইসি বলেন, “নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী ৯৫ শতাংশ লোক সরকারি, মাত্র ৫ শতাংশ ইসির নিজস্ব। তবে এর মানে এই নয় যে সরকার রেজাল্ট নিজেদের মতো করে নিচ্ছে। সরকারপ্রধান কোনো দলের নন, তিনি নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনে বাজেট, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সহায়তা ছাড়া কাজ সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সরকার আমাদের সহযোগিতা করেছে, হস্তক্ষেপ করেনি।”
বৈঠকে কালো টাকার প্রসঙ্গও উঠে আসে। এ বিষয়ে সিইসি বলেন, “কালো টাকা পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন, তবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্যে পৌঁছে বিষয়টি মোকাবিলায় কাজ করছি।”
প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাসহ নির্বাচনের আরও কিছু দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, “প্রবাসীদের জন্য ভোটের ব্যবস্থা করতে চাই। এজন্য আমি কানাডা যাচ্ছি, সেখানে গিয়ে প্রয়োজনীয় দিকগুলো পর্যালোচনা করবো। যারা ভোটের দায়িত্বে থাকেন, তারাও যাতে ভোট দিতে পারেন, সে ব্যবস্থাও আমরা নিচ্ছি। প্রযুক্তির সহায়তায় পোস্টাল ব্যালট কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
শেষে সিইসি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “দেশবাসীর সহায়তা নিয়ে, সর্বশক্তি দিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে চাই।
দৈনিক ক্রাইম ডায়রি// জাতীয়










