ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান: কি ঘটেছে?
ডেস্ক রিপোর্ট:
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমন্বিতভাবে ইরানের বিরুদ্ধে একটি বড় সামরিক অভিযান চালিয়েছে, যা “Operation Lion’s Roar” নামে পরিচিত। এই হামলাটি তেহরান ও অন্যান্য অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র, বিমান ও ফোকাসড স্ট্রাইক হিসেবে পরিচালিত হয়েছে। ইসরাইল জানিয়েছে এটি “প্রি-এম্পটিভ স্ট্রাইক”, অর্থাৎ তেলেরাশে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় পূর্বেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এই হামলার ফলে তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে এবং উত্তেজনা পরিস্থিতি আরও বেড়ে গেছে। ইরান তার প্রান্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্ত করছে এবং হামলাগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ নিতে সম্মত।
ইরানের বিভিন্ন বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের পরে তাদের উপর হামলা চালানো হয়েছে এবং প্রতিরোধ ও প্রতিশোধের পদক্ষেপ নিয়েছে।
এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে ব্যাপকভাবে অস্থিতিশীল করেছে এবং বিশ্বসাড়া জাগিয়েছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই সামরিক পদক্ষেপকে “একতরফা” ও অগ্রহণযোগ্য সামরিক কার্যক্রম হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, এই হামলা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং একটি অচেনা ও প্রতিকূল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।
সানচেজ ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ পদক্ষেপকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং একই সঙ্গে ইরানের সরকার ও বিপ্লবী গার্ডের কর্মকাণ্ডেরও সমালোচনা করেছেন।
অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমন ও সংঘাত হ্রাস করতে হবে
আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায্যতা বজায় রাখতে হবে
সম্ভাব্য কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা উচিত
সানচেজ স্পেনে এবং ইউরোপজুড়ে এই সংকটের বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সকল পক্ষকে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই যৌথ সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংগঠন নিন্দা জানিয়েছে ও কূটনৈতিক ভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আহ্বান করেছে:
নরওয়ে, সুইডেন, পাকিস্তানসহ অনেক দেশ কঠোর ভাষায় এই আগ্রাসন বর্ণনা করেছে এবং সমাধান কূটনৈতিক হওয়ায় জোর দিয়েছে।
ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস এই হামলাকে “জায়নিস্ট-আমেরিকান আগ্রাসন” বলে নিন্দা জানিয়েছে।
রাশিয়া মার্কিন ও ইসরাইলি হামলার সমালোচনা করে এটি “আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিপন্নকারী” বলে উল্লেখ করেছে।
এই প্রতিক্রিয়াগুলো বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক আইনকে কেন্দ্র করে বিস্তৃত প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সম্প্রতি সংঘটিত এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া সমূহকে জটিল করেছে। আন্তর্জাতিক নেতারা যুদ্ধ নয়, সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের দাবি জানাচ্ছেন, কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে এবং তাতে ভবিষ্যৎ রণনীতি ও অঞ্চলভিত্তিক নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
দৈনিক ক্রাইম ডায়রি// আন্তর্জাতিক










