বিটিসিএলে নিয়ম ভেঙে পদোন্নতির উদ্যোগ ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন

নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মকর্তাকে বিশেষ ব্যবস্থায় পদোন্নতি দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা ঘিরে অসন্তোষ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিটিসিএলে নিয়ম ভেঙে পদোন্নতির উদ্যোগ ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন
ছবি: অনলাইন হতে সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক:

বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা পদোন্নতি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ আবারও সামনে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ সিনিয়রিটি কাঠামো উপেক্ষা করে নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মকর্তাকে বিশেষ ব্যবস্থায় পদোন্নতি দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা ঘিরে অসন্তোষ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রতিষ্ঠানের একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্রের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভায় একটি নির্দিষ্ট তালিকার কর্মকর্তাদের জন্য ব্যতিক্রমী পদোন্নতির প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর কর্মরত কর্মকর্তাদের বড় অংশ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালে পরবর্তী সভায় সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে সিনিয়রিটির গ্রেডেশন বজায় রেখে পদোন্নতির তফসিল পুনর্বিন্যাসের নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

সূত্রগুলো দাবি করছে, ওই সময় উচ্চপর্যায়ের একটি দপ্তর থেকেও লিখিতভাবে নিয়ম মেনে পদোন্নতি কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, এসব সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনার পরও একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী পর্দার আড়ালে পূর্বের উদ্যোগ পুনরায় বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষ করে প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, উচ্চপর্যায়ের নাম ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে মূল দপ্তরে ফেরত পাঠানো হয়।

আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প পরিচালনা, পরিকল্পনা এবং তদারকির মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব একই ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত থাকায় স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিচয়ের সূত্র ধরে নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তাকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে, যা প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার প্রশ্ন তুলছে।

পদোন্নতির জন্য আলোচিত তালিকায় থাকা অন্তত একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চলমান মামলার তথ্য এবং বার্ষিক মূল্যায়ন সংক্রান্ত নেতিবাচক বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে পদোন্নতি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে আরও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও ভিন্ন এক সময়ে তফসিল বহির্ভূত পরীক্ষার মাধ্যমে একই ধরনের পদোন্নতির ঘটনা ঘটেছিল বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন। তখনকার সেই প্রক্রিয়ায় বর্তমানেও আলোচিত কয়েকজন কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকের মতে, সেই অনিয়মের পুনরাবৃত্তিই এখন নতুন রূপে ফিরে আসছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সচেতন মহলের অভিমত, পর্ষদের সিদ্ধান্ত ও লিখিত নির্দেশনা অমান্য করে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার যে কোনো প্রচেষ্টা বিটিসিএলের প্রশাসনিক বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করবে এবং সরকারের ঘোষিত সংস্কার ও স্বচ্ছতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।

দৈনিক ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম