রাজধানীর দূষণ রোধে ৪৫২৮ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক

রাজধানীর দূষণ রোধে ৪৫২৮ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক
ছবি- অনলাইন হতে সংগৃহীত

শাহ আলম রাসেল:

রাজধানী ও আশপাশের এলাকার স্যানিটেশন, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জলাশয় পুনরুদ্ধারে বড় আকারের বিনিয়োগ আসছে। এ লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংক ৩৭ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩৯ পয়সা হিসাবে এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪ হাজার ৫২৮ কোটি টাকা। ওয়াশিংটন ডিসিতে সংস্থাটির বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় বলে ঢাকাস্থ কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে।

নতুন এই অর্থায়ন ‘মেট্রো ঢাকা পানি নিরাপত্তা ও টেকসই কর্মসূচি’র আওতায় বাস্তবায়িত হবে। এর মাধ্যমে বৃহত্তর ঢাকায় পানি দূষণ কমানো, সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হবে। সিটি করপোরেশন ও ওয়াসার সক্ষমতা বাড়িয়ে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানো এবং নিরাপদ পানির সরবরাহ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ নিরাপদ পানির সুবিধা এবং আরও ৫ লাখ মানুষ উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থার আওতায় আসবে। পাশাপাশি কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পিছিয়ে থাকা ও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিষয়ক বিভাগীয় পরিচালক জ্যাঁ পেম বলেন, দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং শিল্পায়নের ফলে ঢাকায় পানি দূষণ ভয়াবহ আকার নিয়েছে। এর প্রভাব শুধু শহরেই সীমাবদ্ধ নেই; জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতিতেও পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব। তার মতে, এ কর্মসূচি নদী ও খালের দূষণ কমাতে এবং দীর্ঘমেয়াদে জলাশয়ের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত শক্তিশালী করবে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ মানুষ। কার্যকর মল-মূত্র ব্যবস্থাপনা ব্যবহার করেন আরও প্রায় ২ শতাংশ। ফলে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত বর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন সরাসরি নদী ও খালে গিয়ে পড়ছে। আন্তঃসংযুক্ত জলপথে ৮০ শতাংশের বেশি বর্জ্য পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে শহরের অর্ধেকের বেশি খাল হারিয়ে গেছে বা দখল ও ভরাটের কারণে কার্যকারিতা হারিয়েছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি খাত, সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেবা প্রদানে উন্নয়ন, নিয়ন্ত্রক কাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং দূষণ কমিয়ে নদী-খালের প্রবাহ সক্ষমতা ফিরিয়ে আনা হবে এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

ঢাকায় দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা অবস্থিত। সাত হাজারের বেশি শিল্পকারখানা প্রতিদিন আনুমানিক ২ হাজার ৪০০ মিলিয়ন লিটার অপরিশোধিত বর্জ্য পানি জলাশয়ে ফেলে। এতে ত্বকজনিত রোগ, ডায়রিয়া ও স্নায়বিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ছে। প্রকল্পের আওতায় শিল্প বর্জ্য শোধন ও পানি পুনঃব্যবহার বাড়াতে বেসরকারি খাতের দক্ষতা উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন বিশেষজ্ঞ হার্ষা গোয়েল জানান, এ উদ্যোগ বৃহত্তর পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশলের অংশ। প্রথম ধাপে জলাশয়ে দূষণ কমানো, নদীর পানির মান নির্ধারণে সমন্বিত সূচক তৈরি, প্রাতিষ্ঠানিক ও নিয়ন্ত্রক তদারকি জোরদার এবং ডিজিটাল রিয়েল-টাইম দূষণ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকার চারটি নদীর জন্য সমন্বিত পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।

প্রকল্পের প্রাথমিক বাস্তবায়ন হবে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের নির্ধারিত এলাকায়। খাল ও নদী সংলগ্ন সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দিয়ে বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার পরিধি বাড়ানো হবে। পুনর্ব্যবহার কার্যক্রম জোরদার, ড্রেনেজ নেটওয়ার্কে সরাসরি পয়ঃনিষ্কাশন বন্ধ এবং শিল্প বর্জ্য অনিয়ন্ত্রিতভাবে নদী-খালে ফেলা রোধেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

দৈনিক ক্রাইম ডায়রি// জাতীয়