ইরানকে দুই শর্তে সতর্কবার্তা ট্রাম্পের, পাল্টা হুঁশিয়ারি তেহরানের

ইরানকে দুই শর্তে সতর্কবার্তা ট্রাম্পের, পাল্টা হুঁশিয়ারি তেহরানের
ছবি- অনলাইন হতে সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
উপসাগরীয় এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা বাড়ার প্রেক্ষাপটে ইরানকে লক্ষ্য করে কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সামরিক সংঘাত এড়াতে হলে তেহরানকে দুটি মৌলিক শর্ত মানতে হবে—এক, পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি পরিত্যাগ করতে হবে এবং দুই, দেশটির ভেতরে চলমান বিক্ষোভে প্রাণঘাতী দমন বন্ধ করতে হবে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানে ব্যাপকভাবে বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হচ্ছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তথ্য রয়েছে। তার ভাষায়, “হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে—এটা থামতেই হবে।”
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে অত্যাধুনিক ও শক্তিশালী নৌযান ও যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠিয়েছে। তবে তিনি বলেন, এসব শক্তি ব্যবহার না করেই যদি পরিস্থিতির সমাধান সম্ভব হয়, সেটাই হবে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত পথ।
ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে নতুন কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে চাপ সৃষ্টি করছে। সেই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই ট্রাম্পের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যেকোনো আগ্রাসনের ক্ষেত্রে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাৎক্ষণিক ও দৃঢ় জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই আরাগচি তুরস্কের ইস্তাম্বুল সফরে যান। সেখানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত এড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

একই সময়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ফোনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলে জানান, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে আঙ্কারা মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে আগ্রহী।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে।

এর আগেও তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, ইরান যদি আলোচনায় না আসে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
এর জবাবে ইরান জানায়, তারা সবসময়ই সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে একটি ন্যায্য পারমাণবিক চুক্তিকে সমর্থন করে। আরাগচির দাবি, ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম শান্তিপূর্ণ এবং অস্ত্র তৈরির কোনো উদ্দেশ্য তাদের নেই।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে কিছু বার্তা বিনিময় হলেও বর্তমানে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে না।
এদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। গত বছরের শেষ দিকে দেশটির মুদ্রার বড় ধরনের দরপতনের পর শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন রাজনৈতিক সংকটে পরিণত হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, দমন-পীড়নে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। তবে সরকারি হিসাব অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা তুলনামূলক কম এবং অধিকাংশই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বা সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তি।
এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ডসকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করেছে এবং দেশটির কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা যদি দ্রুত কূটনৈতিক পথে না যায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

দৈনিক ক্রাইম ডায়রি // আন্তর্জাতিক