ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে মতিহারে বহুতল ভবন নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয় বাসিন্দা পাভেল ইসলাম মিমুল বলেন, “আমরা সংশ্লিষ্টদের কাছে বিষয়টি একাধিকবার জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান পাইনি। এলাকাবাসী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।”
পাভেল ইসলাম মিমুল, রাজশাহী ব্যুরো
রাজশাহী নগরীতে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা (বিল্ডিং কোড) লঙ্ঘনের অভিযোগ নতুন নয়। রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) দপ্তরে প্রায়ই নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ জমা পড়ছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবন নির্মাণের কারণে আশপাশের বসতবাড়ি ও জননিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, নগরীর মতিহার থানাধীন কাজলা সুইটের মোড় এলাকায় একটি বহুতল ভবন নির্মাণকে ঘিরে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘনের প্রশ্ন উঠেছে। ভবনটির মালিক হিসেবে স্থানীয়রা গোলাম মুস্তফা তালিকদারের স্ত্রী শামসুল নাহারের নাম উল্লেখ করেন।
এলাকাবাসীর দাবি, ভবনটির পাশে থাকা একটি সরু গলি দিয়ে শতাধিক মানুষ নিয়মিত চলাচল করে থাকেন। অভিযোগ রয়েছে, ভবন নির্মাণের সময় ওই গলির নির্ধারিত জায়গা ও ভবনের কার্নিস সড়কের দিকে বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, অগ্নিকাণ্ড বা জরুরি পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিসসহ জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার প্রবেশে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
এছাড়া ভবনের উচ্চতা অনুযায়ী রাস্তা ও নির্ধারিত খোলা জায়গা না রাখা, ভবনগুলোর মধ্যে পর্যাপ্ত দূরত্ব না থাকা এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। তারা জানান, বহুতল ভবনের ক্ষেত্রে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী যে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, তা সেখানে পরিলক্ষিত হয়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা পাভেল ইসলাম মিমুল বলেন, “আমরা সংশ্লিষ্টদের কাছে বিষয়টি একাধিকবার জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান পাইনি। এলাকাবাসী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।”
অভিযোগের বিষয়ে শামসুল নাহারের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ প্রসঙ্গে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল তারিক বলেন, “ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অমান্য করে ভবন নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এলাকাবাসী দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
দৈনিক ক্রাইম ডায়রি//জেলা










