নতুন প্রজন্ম জাগ্রত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়
৭১ এর রনাঙ্গনে এ দেশের স্বাধীনতা যারা ছিনিয়ে এনেছিল তাদেরই যোগ্য উত্তরসূরী বাংলার দামাল ছেলেরা।
ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষও। বিজয়ের ফায়দা লুটেরারা যখন মাথা তুলে দাঁড়িয়ে হম্বিতম্বি করছিল, তখন তাদের দম্ভকে চূর্ণ করে দিয়েছে বাংলার চিরসবুজ দামাল ছেলেরা। ৭১ এর রনাঙ্গনে এ দেশের স্বাধীনতা যারা ছিনিয়ে এনেছিল তাদেরই যোগ্য উত্তরসূরী বাংলার দামাল ছেলেরা।
মানসুরা চৌধুরী দোলা
বর্তমান প্রজন্ম ‘৭১’ দেখেনি, কিন্তু ১৯৭১ সালের ৯ মাস যেভাবে ধারণ করেছে আমাদের তরুণ সমাজ তা জুলাই আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি।
দেশকে এগিয়ে নেওয়ার বেলায় তাদের মাঝেও দেখা যায় বুকভরা সাহস আর অদম্য তেজ। এই তরুণদের মুক্তিযুদ্ধের অনবদ্য ইতিহাস স্মরণ করিয়ে প্রচ্ছদ রচনা লিখেছেন আশিক মুস্তাফা।
মনে পড়ে কি জুলাই আন্দোলনের কথা? কী দেখেছিলেন তরুণদের চোখে-মুখে? প্রজন্মের এই যে পরিবর্তন, এই যে ইতিহাস আর বিজয় লালনের মানসিকতা তা দেখার পর নতুন করে তারুণ্য আর দেশাত্মবোধের কোনো ভূমিকা দেওয়া মানেই নিজেকে বোকার তালিকার প্রথম লাইনে তুলে আনা ছাড়া আর কিছুই নয়। বর্তমান প্রজন্মের মাঝে যে দেশপ্রেম সত্যি সত্যিই জেগে আছে সেটি বুঝতে আর বিশ্ববাসীর বাকি নেই।
মনে পড়ে কি জুলাই আন্দোলনের কথা? কী দেখেছিলেন তরুণদের চোখে-মুখে?
ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষও। বিজয়ের ফায়দা লুটেরারা যখন মাথা তুলে দাঁড়িয়ে হম্বিতম্বি করছিল, তখন তাদের দম্ভকে চূর্ণ করে দিয়েছে বাংলার চিরসবুজ দামাল ছেলেরা। বিজয়পিপাসু বাংলাদেশিরা আবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। ভয় কী? জেগে আছে বীর বাঙালি এখনও!
সীমানা পেরিয়ে দূর অজানায়
সকালের সোনা রোদ জানালায় উঁকি দিলে ঘুম ভাঙে অনেকের। তার আগে-পরেও ঘুম ভাঙে কারও! শুধু সকাল কেন, দিনের যে কোনো সময় চোখের সীমানায় ঘুম ঘুরঘুর শুরু করলে আমরা হাই তুলি, আড়মোড় ভাঙি! আমাদের মতো করে এইটুকুন পিঁপড়েরাও হাই তোলে, আড়মোড় ভাঙে।
শুধু ঘুম নয়, যে কোনো কাজের আগেও পিঁপড়েরা হাই তোলে, আড়মোড় ভাঙে! এই হাই আর আড়মোড় ভাঙা পিঁপড়েদের বিজয়রই বহিঃপ্রকাশ! কিন্তু মনের সুখে হাই তোলা অবস্থায় এই পিঁপড়েরা যদি অ্যান্ট ইটার, পেঙ্গুলিন বা আর্মাডিলো নামের প্রাণীদের চোখে পড়ে, তবে তাদের বিজয়ের সুখ মুহূর্তেই মূক হয়ে যায়! সীমানা পেরিয়ে দূর অজানায় হারিয়ে যায়।
পিঁপড়ের মতো মেরুদণ্ডহীন!
একসময় আমাদের বিজয়ও পিঁপড়ের মতো মেরুদণ্ডহীন ছিল। নির্বাক ছিল। আমাদের ভাষার শরীরও এবড়োখেবড়ো ছিল। আর ভূখণ্ড ছিল পাকিস্তান নামের সর্বভুক অ্যানাকোন্ডার পেটে! আমরা চাইলেই মনের কথাটা বলতে পারতাম না তখন। নিজের মতো করে চলাফেরায়ও ছিল বাঁধা।
এই বাঁধা মেনে নিতে পারেননি আমাদের তরুণ মনের যোদ্ধারা। ভূখণ্ডকে তারা অ্যানাকোন্ডার পেট থেকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে বের করে এনেছিলেন। তাদের চোখেমুখে ছিল স্বপ্ন! পৃথিবী জয়ের স্বপ্ন! তারা তাদের স্বপ্নকে ধরতে, স্বপ্নটাকে বাস্তবায়ন করতে নিজেকে বিলিয়ে দিতে যুদ্ধের ময়দানে গিয়েছিলেন। দেশটিকে বিজয় এনে দিয়েছিলেন। তাদের সেই স্বপ্ন রাঙানো পথে আমরা আজ আহ্লাদ করে হাঁটছি!
তাদের স্বপ্নের রঙে নিজেকে রাঙিয়ে নিচ্ছি। কিন্তু কতটা পারছি রঙে মাততে? কতটা পারছি অন্যকে রাঙাতে? দেশকে রাঙাতে?
জুলাই আন্দোলন সুযোগ করে দিয়েছে
আমরা গন্তব্যের দিকে হাঁটি। হাঁটতে হাঁটতে মুখ থুবড়ে পড়ি। নিজেকে ধিক্কার দিই! দেশকেও! দেশের মানুষকেও! বলি, কেন এই ধিক! নিজেকে ঠিক করুন আগে। কেননা, জুলাই আন্দোলন সেই সুযোগ করে দিয়েছে। আপনার দুঃখের দিনে কেউ মুখ তুলে না তাকাক; অন্তত দেশের কথা ভেবে, বীর যোদ্ধাদের সোনালি স্বপ্নের কথা ভেবে আপনি অন্যের দুঃখের দিনে পাশে গিয়ে দাঁড়ান। খুব দরদ দিয়ে তার গায়ে হাত রাখুন।
দুঃখী লোকটার মনের কথাটা আপনার মনের কানে শোনার চেষ্টা করুন। তখন দেখবেন, আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাচ্ছে। আপনার নাক দিয়েই বেরিয়ে আসছে তৃপ্তির দীর্ঘশ্বাস!
দেশটাকে ভালোবাসুন
দেশটা তো আমাদের। দেশ নিয়ে আমাদেরই ভাবতে হবে। দেশ-ভাবনায় যদি উদাসী হয়ে যাই তবে পাকিস্তানিদের মতো করে কিংবা ফ্যাসিবাদের মতো করে কেউ এসে আবার আমাদের গিলে নেবে! দেশটা আবার মেরুদণ্ডহীন হয়ে পড়বে। আর দেশের সাধারণ মানুষ?
সে কথা বলার দরকার কী; ভেবেই নিন না! যারা মেঠোপথ ধরে হেঁটেছেন, তারা রাস্তার পাশে অন্যের গায়ে ভর দিয়ে বেড়ে ওঠা স্বর্ণলতার মায়ায়ও পড়ছেন! তবে এ স্বর্ণলতার বেয়ে চলাও যে মেরুদণ্ডহীন, তা জানেন সবাই! শিকড় নেই স্বর্ণলতার। কিন্তু বেশ মজবুত শিকড় আছে আমাদের বিজয়ের। বলি, কেন ওই মিছে স্বর্ণলতার মায়ায় পড়বেন? দেশের মায়ায় পড়ুন। দেশটিকে ভালোবাসুন নিজের মতো করে। নিজেকে ঠিক যতটা ভালোবাসা যায়; দেশটিকেও আপনি ততটা ভালোবাসুন। সব বদলে যাবে।
বিজয়ের প্রতিজ্ঞা
আমাদের দেশটিকে যারা কষ্ট দিচ্ছে, দেশের গায়ে ক্ষতচিহ্ন এঁকে দিচ্ছে, তাদের সেই ক্ষত আমরা টিউলিপ ফুলের ডাঁটির মতো করে ছেঁটে ফেলে দেব সাগরের নোনাজলে। দেশকে প্রতিনিয়ত এগিয়ে নিয়ে যাব। উন্নত দেশের ম্যারাথনে দাঁড় করিয়ে পদক ছিনিয়ে আনব! দেশ নিয়ে, দেশের মানুষকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা, জুলাই আন্দোলনে নিজেকে সঁপে দেওয়া তরুণরা, যে স্বপ্নে বুঁদ হয়ে বন্দুকের নলের সামনে দাঁড়িয়েছেন, তাদের সেই স্বপ্ন আমরা বাস্তবায়ন করবই!এবারের বিজয় দিবসে এই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা!
শুরু হোক আমাদের নতুন পথচলা
এই মূল মন্ত্রের নতুন শুরু হোক আমাদের নতুন পথচলা! এ দেশের আলো-হাওয়ায় বেড়ে উঠেও তাদের মনের ভ্রান্ত ধারণা দূরে সরে যাক। জীবনের আলিঙ্গনে আর কোনো তরুণ আঁকড়ে ধরবে না পরাধীনতার গ্লানি। জীবন হবে সুন্দর, মধুর এবং মায়াময়। সবার মাঝেই বিরাজ করুক বিজয়ের স্পর্শতা। জয় হোক জীবনজয়ের!
গোয়েন্দা ডায়রি/ জাতীয়










