ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে আবারও মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ

ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে আবারও মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ
ছবিঃ দৈনিক ক্রাইম ডায়রি

জাকির হোসেন রনিঃ
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত এবং অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ছোনকা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—শিউলী বেগম (৪৮), তায়েবা খাতুন (৩৫) এবং মাইক্রোবাস চালক রিন্টু (৪৭)। আহতদের মধ্যে রয়েছে শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী, যাদের অনেকেই গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস ছোনকা এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে পুরো গাড়িতে আগুন ধরে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে তা দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে যাত্রীরা দ্রুত বের হওয়ার সুযোগ পাননি। অনেকেই গাড়ির ভেতর আটকা পড়ে যান। চালক ঘটনাস্থলেই পুড়ে মারা যান। অন্য যাত্রীদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টা করেন।
খবর পেয়ে শেরপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং হতাহতদের উদ্ধার করে। পরে আহতদের বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাইক্রোবাসে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডারের ত্রুটি বা অব্যবস্থাপনার কারণেই এ বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।
ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক হলেও এখানে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে। অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অনিরাপদ গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার এবং তদারকির অভাব—এসব কারণকে বিশেষজ্ঞরা দায়ী করছেন।
সড়ক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বাণিজ্যিক যানবাহনে অনিয়ন্ত্রিতভাবে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সঠিক মান নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত পরিদর্শন না থাকলে এ ধরনের দুর্ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
একই সড়কে বারবার প্রাণহানি ঘটলেও কার্যকর পদক্ষেপ কতটা নেওয়া হচ্ছে—এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে কঠোর তদারকি, ফিটনেস চেক এবং গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
 প্রতিটি দুর্ঘটনা শুধু সংখ্যা নয়—এর পেছনে রয়েছে একেকটি পরিবার, একেকটি স্বপ্নের গল্প। এখনই যদি কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে এই মহাসড়ক আরও কত প্রাণ কেড়ে নেবে—সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

দৈনিক ক্রাইম ডায়রি // জেলা