দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন; সবুজ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

“সন্তানদের বুক ভরে শ্বাস নিতে একটি করে গাছ লাগান”

দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন; সবুজ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ছবি- অনলাইন হতে সংগৃহীত

হোসেন মিন্টু:

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সবুজ ও দূষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রতি অন্তত একটি করে গাছের চারা রোপণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আজকের একটি গাছ আগামী দিনের একটি জীবন। আমাদের সন্তানরা যেন নির্মল বাতাসে শ্বাস নিতে পারে, সুস্থ পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে, সেই দায়িত্ব বর্তমান প্রজন্মকেই নিতে হবে।

শনিবার বিকেলে কক্সবাজারের ডুলাহাজারা মালুমঘাট সংরক্ষিত বনাঞ্চলে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান। এ সময় দেশের বিভিন্ন জেলার প্রশাসন, বন বিভাগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী ও সাধারণ মানুষ ভার্চুয়ালি এবং সরাসরি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে অনুরোধ জানাই—আপনার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে, একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে, যার যেখানে সুযোগ আছে সেখানে অন্তত একটি করে গাছের চারা রোপণ করুন। একটি গাছ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে না, এটি আগামী প্রজন্মের জন্য অক্সিজেন, ছায়া, জীববৈচিত্র্য ও নিরাপত্তার প্রতীক।”
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ুদূষণ এবং বনভূমি হ্রাসের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, বিশ্বজুড়ে পরিবেশগত বিপর্যয় দিন দিন তীব্র হচ্ছে। বাংলাদেশও এর প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। নদীভাঙন, অতিবৃষ্টি, খরা, তাপপ্রবাহ ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানগুলোর একটি।

তিনি বলেন, “আমরা যদি পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করতে পারি, তাহলে শুধু পরিবেশ রক্ষা নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায়ও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারব। একটি গাছ মানে শুধু একটি চারা নয়, এটি একটি জীবন্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।”
সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর অন্যতম ছিল বৃহৎ পরিসরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করা।

তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে আমরা বলেছিলাম, জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করতে পারলে পরিবেশ সুরক্ষায় একটি বৃহৎ কর্মসূচি হাতে নেব। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই আজ এই জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা করা হলো। আমাদের লক্ষ্য প্রতি বছর অন্তত পাঁচ কোটি গাছ রোপণ করা এবং আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে দেশকে আরও সবুজ করে তোলা।”
অনুষ্ঠানে দেশের সব জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি প্রত্যেক জেলাকে স্থানীয় পরিবেশ ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের আলোকে সবুজায়নের আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “আপনারা নিজ নিজ জেলার অনাবাদি জমি, রাস্তার পাশে খালি জায়গা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস প্রাঙ্গণ ও বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকাগুলোকে সবুজায়নের আওতায় আনবেন। প্রতিটি জেলাকে একটি সবুজ অভয়ারণ্যে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের বিস্তৃতি গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পরিবেশবিদদের মতে, নগর এলাকায় পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ বায়ুদূষণ কমাতে সাহায্য করবে, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করবে এবং শহুরে জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে অবদান রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শেষাংশে দেশবাসীর প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আসুন আমরা সবাই মিলে একটি জাতীয় আন্দোলনে পরিণত করি এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে। আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে আরও সবুজ, আরও নির্মল এবং আরও বাসযোগ্য। আমরা আমাদের সন্তানদের এমন একটি দেশ উপহার দিতে চাই, যেখানে তারা বুক ভরে বিশুদ্ধ বাতাস গ্রহণ করতে পারবে।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি একটি গণআন্দোলনে রূপ নেবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।

“একটি গাছ, একটি জীবন; একটি সবুজ বাংলাদেশ, একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ”—এই প্রতিজ্ঞা নিয়েই শুরু হলো দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।

দৈনিক ক্রাইম ডায়রি// জাতীয়