সমাজসেবার চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সত্যতা যাচাইয়ে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি
সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন চেয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়
বিশেষ প্রতিনিধি:
সমাজসেবা অধিদপ্তরের চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে মতামতসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে কমিটিকে সাত কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কয়েকটি জাতীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমাজসেবা অধিদপ্তরের চার কর্মকর্তাকে ঘিরে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিভিন্ন অভিযোগ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের নজরে আসার পর অভিযোগগুলো যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকাশিত অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্তে না গিয়ে নিরপেক্ষভাবে তথ্য-উপাত্ত যাচাই করতেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্তের আওতায় থাকা অভিযোগগুলোর মধ্যে সরকারি কর্মকাণ্ডে অনিয়ম, দায়িত্ব পালনে অসঙ্গতি, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের কোনটি সত্য এবং কোনটির ভিত্তি নেই, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
তিন সদস্যের কমিটিকে অভিযোগের নথিপত্র, সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করে একটি বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগগুলোর সত্যতা, সংশ্লিষ্টদের দায়-দায়িত্ব এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে মতামত উঠে আসতে পারে।
সমাজসেবা অধিদপ্তর দেশের দরিদ্র, অসহায়, প্রতিবন্ধী, প্রবীণ ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। ফলে এ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্ব তৈরি হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে অনিয়ম বা দুর্নীতিতে জড়িত থাকলে তার দায় প্রতিষ্ঠান বহন করবে না। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অভিযোগের ধরন অনুযায়ী আইনগত পদক্ষেপের বিষয়টিও বিবেচনায় আসতে পারে। আর অভিযোগের সত্যতা না মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ভিত্তি থাকবে না।
মন্ত্রণালয়ের এই তদন্ত উদ্যোগকে সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা না করে তদন্ত প্রতিবেদনের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করাই হবে প্রাসঙ্গিক।
সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ থাকায় এখন সংশ্লিষ্ট মহলের নজর কমিটির অনুসন্ধান ও প্রতিবেদনের দিকে। প্রতিবেদনে কী তথ্য উঠে আসে এবং তার ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, সেটিই পরবর্তী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
দৈনিক ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম










