চীন-কানাডা-জার্মানির সঙ্গে এসআর কেমিক্যালের ১০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ চুক্তি

বাংলাদেশে তৈরি হবে পানি শোধন ও শিল্পে ব্যবহৃত টিসিসিএ, ২০২৭ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে উৎপাদন শুরুর লক্ষ্য

চীন-কানাডা-জার্মানির সঙ্গে এসআর কেমিক্যালের ১০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ চুক্তি
ছবি- দৈনিক ক্রাইম ডায়রি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের রাসায়নিক শিল্পে নতুন বিনিয়োগের দ্বার খুলছে। দেশের এসআর গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড চীন, কানাডা ও জার্মানির তিনটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে ১০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ চুক্তি করেছে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বিনিয়োগের সমন্বয়ে দেশে আধুনিক রাসায়নিক উৎপাদন কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চুক্তির অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলো হলো চীনের Puyang Cleanway Chemicals Ltd, কানাডার Kings Pacific Enterprises Ltd এবং জার্মানির Steinbach Chlorine GmbH। চার প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে গঠিত হয়েছে SR Pacific Chemical Industries Limited।

চুক্তি অনুযায়ী, নতুন প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে একটি আধুনিক উৎপাদন কারখানা স্থাপন করবে। সেখানে Trichloroisocyanuric Acid (TCCA) উৎপাদন করা হবে। পানি শোধন, জীবাণুনাশক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন শিল্প খাতে বহুল ব্যবহৃত এই রাসায়নিকটির আন্তর্জাতিক বাজারে উল্লেখযোগ্য চাহিদা রয়েছে।

প্রকল্পটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় প্রধান কাঁচামাল ক্লোরিন সরবরাহ করবে এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। ফলে একই গ্রুপের আওতায় কাঁচামাল উৎপাদন থেকে শুরু করে চূড়ান্ত রাসায়নিক পণ্য তৈরির একটি সমন্বিত স্থানীয় উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

চুক্তি সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, নতুন কারখানায় উৎপাদিত TCCA-এর পুরো পরিমাণই আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের রাসায়নিক পণ্য রপ্তানিতে নতুন একটি খাত যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগও তৈরি হবে।

ইতোমধ্যে কারখানা স্থাপনের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বাণিজ্যিক উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিনিয়োগ চুক্তিতে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ রব্বানি এবং Puyang Cleanway Chemicals-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক Xinke Wang।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে স্থানীয় সক্ষমতার সমন্বয়ে এই যৌথ উদ্যোগ বাংলাদেশের রাসায়নিক শিল্পের পরিধি বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে উচ্চমূল্যের শিল্প রাসায়নিক দেশে উৎপাদনের মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এ উদ্যোগ বাংলাদেশের রাসায়নিক শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি ও বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে রাসায়নিক পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

পুরো উৎপাদন আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির পরিকল্পনা থাকায় প্রকল্পটি বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, উৎপাদন শুরু হলে আন্তর্জাতিক রাসায়নিক বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশের শিল্প খাতে নতুন বিনিয়োগের পথও উন্মুক্ত হবে।

দৈনিক ক্রাইম ডায়রি// শিল্পবানিজ্য