নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যাঃ ২৯১ বিদেশিসহ ৩৮৪ পর্যটক নিখোঁজ
Devastating flash floods on the Nepal-Tibet border : 384 tourists, including 291 foreigners, missing
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হঠাৎ ভয়াবহ বন্যা!
মুহূর্তের মধ্যে তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। আর এই ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশিসহ মোট ৩৮৪ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারীর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
নেপালের উত্তরাঞ্চলের রাসুয়া জেলায় বুধবার সকালে আচমকা ভয়াবহ এই বন্যা আঘাত হানে। তিব্বত থেকে নেমে আসা ভোটে কোশি নদীতে হঠাৎ পানির প্রবল স্রোত তৈরি হয়ে নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করে।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ৩৮৪ জনের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক। তবে এটি প্রাথমিক তালিকা। পর্যটন ও ট্রাভেল এজেন্সির তথ্য যাচাই করে নিখোঁজের সংখ্যা নিশ্চিত করার কাজ চলছে।
নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যাও শতাধিক বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে বন্যার পানিতে রাসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিংসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কোথাও বাড়িঘর পানির তোড়ে ভেসে গেছে, কোথাও সড়ক ও সেতু ধসে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ ও জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোও।
সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো—উদ্ধারকারী দলগুলো দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পৌঁছাতেও ব্যাপক সমস্যার মুখে পড়ছে। অনেক জায়গায় রাস্তা বিচ্ছিন্ন, নদীর পানি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং হেলিকপ্টার নামার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়নি।
এই আকস্মিক বন্যার কারণ কী?
প্রাথমিকভাবে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সকালে প্রায় ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের পর বড় ধরনের ভূমিধস হতে পারে। সেই ভূমিধস নদীর প্রবাহ আটকে দিয়ে পরে হঠাৎ বাঁধ ভেঙে যাওয়ার মতো প্রবল পানির ঢল তৈরি করে থাকতে পারে। তবে দুর্যোগের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও তদন্তাধীন।
অন্যদিকে, তিব্বতের গিয়েরং এলাকাতেও ভূমিধস ও বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষও সেখানে নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করেছে।
এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ—নিখোঁজ ২৯১ বিদেশি পর্যটকসহ ৩৮৪ জনের কী হয়েছে?
পরিবারের সদস্যরা অপেক্ষায়, ট্রাভেল এজেন্সিগুলো তথ্য সংগ্রহ করছে, আর নেপাল সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং নদীর তীব্র স্রোতের কারণে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে আসতে আরও সময় লাগতে পারে।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তের এই ভয়াবহ দুর্যোগে এখন একটাই প্রশ্ন—নিখোঁজ শত শত পর্যটকের কতজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হবে?
উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে নিখোঁজ ও হতাহতের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।
দৈনিক ক্রাইম ডায়রি // আন্তর্জাতিক










