শক্তিশালী ভূমিকম্প:  বিশেষজ্ঞদের আগাম সতর্ক বার্তা

উঁচু ভবনে আতঙ্ক, সিলেট–চট্টগ্রাম–ঢাকায় তীব্র দোলন; সক্রিয় ফল্ট লাইনের ওপর থাকা দেশজুড়ে বড় দুর্যোগের আশঙ্কা—বিশ্বের ভয়াবহ ভূমিকম্পগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের।

 শক্তিশালী ভূমিকম্প:  বিশেষজ্ঞদের আগাম সতর্ক বার্তা
ছবি- অনলাইন হতে সংগৃহীত

শরীফা আক্তার স্বর্না:
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। আহত হয়েছেন ছয় শতাধিক মানুষ। 
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) রাত ৮টা পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ তথ্যে জানা গেছে, সারাদেশের সরকারি হাসপাতালে ৬০৬ জন আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১৬৭ জনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং গুরুতর অবস্থায় ১৬ জনকে অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া অনেক রোগী এখনো হিসাবের বাইরে থাকায় আহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ঢাকা
পুরান ঢাকার কসাইটুলিতে ভবনের রেলিং ভেঙে পড়ে তিন পথচারী নিহত হন—রাফিউল ইসলাম (২০), আব্দুর রহিম (৪৮) এবং তার ছেলে মেহরাব হোসেন (১২)। রাফিউল স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন বলে পরিবার জানায়। আব্দুর রহিম লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রকোনার বাসিন্দা; তিনি সুরিটোলা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
এছাড়া মুগদার মদিনাবাগ এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের রেলিং ধসে মাথায় পড়ে নিরাপত্তাকর্মী মাকসুদ (৫০) নিহত হন। সকাল সাড়ে ১১টার কিছু আগে এ ঘটনা ঘটে। তাকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন বলে মুগদা থানার এসআই নিশ্চিত করেন।
নারায়ণগঞ্জ
রূপগঞ্জে দেয়াল ধসে ১০ মাসের শিশু ফাতেমার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ইসলামবাগ এলাকায়। ফাতেমার মা গুরুতর আহত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন আছেন। এক পথচারীও আহত হয়েছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুটির পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
নরসিংদী
চিনিশপুর ইউনিয়নের গাবতলী এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের দেয়াল থেকে ইট পড়ে একটি বসতবাড়ির সানশেড ভেঙে পড়ে। এতে মো. ওমর (৮), তার বাবা দেলোয়ার হোসেন ও দুই বোন আহত হন। পরে গুরুতর অবস্থায় ওমরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি মারা যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার বাবা দেলোয়ারও মৃত্যুবরণ করেন।
পলাশ উপজেলার মালিতা পশ্চিমপাড়ায় মাটির ঘর ধসে চাপা পড়ে কাজেম আলী ভূঁইয়া (৭৫) নিহত হন। তাকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
শিবপুর উপজেলায় গাছ থেকে পড়ে আহত হন ফোরকান মিয়া (৪৫)। হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান।
অন্যদিকে ডাঙ্গা ইউনিয়নে ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে স্ট্রোক করে নাসিরউদ্দিন (৬৫) মারা গেছেন বলে গণমাধ্যমে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন।
শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী এলাকায়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৭ এবং এটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত।
বাংলাদেশ কেন ভূমিকম্প–প্রবণ: বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম ভূমিকম্প–ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, টেকটোনিক প্লেটের গতিবিধি ও সক্রিয় ফল্ট লাইনের কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের ভূমিকম্প ঘটতে পারে। এতে ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ টেকটোনিক প্লেট—ইন্ডিয়ান প্লেট, ইউরেশিয়ান প্লেট ও বার্মা মাইক্রো প্লেট—এর সংঘর্ষস্থলের খুব কাছাকাছি অবস্থিত। এ কারণে প্লেটের ঘর্ষণ ও চাপ সঞ্চিত হলে হঠাৎ মুক্তির সময় বড় মাত্রার ভূমিকম্প দেখা দিতে পারে।


এ ছাড়া দেশের পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চল দিয়ে অতিক্রম করেছে বেশ কয়েকটি সক্রিয় ফল্ট লাইন। এর মধ্যে ইন্ডো–বার্মা ফল্ট জোন, দাউকি ফল্ট, মেঘালয় ফল্ট ও মধুপুর ফল্ট বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ভূমিকম্প হলে এসব ফল্ট লাইনের নড়াচড়া ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র কম্পন সৃষ্টি করতে পারে।


ভূতাত্ত্বিকরা সতর্ক করে বলেছেন, বাংলাদেশের মাটি মূলত নরম নদী–পলিমাটি দিয়ে গঠিত হওয়ায় কম্পনের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে তুলনামূলক কম মাত্রার ভূমিকম্পও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।


ইতিহাস বলছে, বাংলাদেশ ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চল অতীতে একাধিক শক্তিশালী ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। ১৮৯৭ সালের গ্রেট আসাম ভূমিকম্প, ১৯৫০ সালের তিব্বত–আসাম ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন সময়ের বড় ধরনের কম্পন এখনো অঞ্চলটির ভূতাত্ত্বিক অস্থিতিশীলতার প্রমাণ বহন করছে।


বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, ইন্ডো–বার্মা ফল্টে দীর্ঘদিন বড় ভূমিকম্প না ঘটায় সেখানে বিপুল শক্তি সঞ্চিত রয়েছে। যে কোনো সময় এ শক্তি মুক্ত হয়ে বড় ধরনের ভূমিকম্পের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলো এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
সরকারি সংস্থাগুলো জরুরি ঢ়ৎবঢ়ধৎবফহবংং, ভবন নির্মাণবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ এবং উদ্ধার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জনসচেতনতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলা কঠিন হয়ে উঠবে।
দেশের ভূমিকম্প ঝুঁকি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের এই সতর্কবার্তা প্রমাণ করে, যে কোনো সময় বড় ধরনের ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
সাম্প্রতিক ইতিহাসের ভয়াবহ ভূমিকম্প: বিশ্বজুড়ে ক্ষয়ক্ষতির দীর্ঘ তালিকা
গত কয়েক দশকে বিশ্বব্যাপী একের পর এক শক্তিশালী ভূমিকম্প মানবসভ্যতার সামনে ভয়াবহ বিপর্যয়ের চিত্র দাঁড় করিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেকটোনিক প্লেটের ক্রমবর্ধমান চাপ, নগরায়ণ ও দুর্বল অবকাঠামো এসব দুর্যোগকে আরও ঘাতক করে তুলেছে। বিগত বছরগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো।
২০০৪ সালের ভারত মহাসাগরীয় ভূমিকম্প ও সুনামি
২৬ ডিসেম্বর ২০০৪ সালে সুমাত্রার উপকূলে আঘাত হানা ৯.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়। ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট সুনামি ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ভারতসহ ১৪টি দেশে তাণ্ডব চালায়। লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ গোটা বিশ্বকে স্তম্ভিত করে।
২০১০ সালের হাইতি ভূমিকম্প
১২ জানুয়ারি ২০১০ সালে রাজধানী পোর্ট–অ–প্রিন্সসহ দেশের বড় অংশে ৭.০ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানলে পুরো হাইতি প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। দুর্বল অবকাঠামো ও ঘনবসতির কারণে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে। বহু সরকারি স্থাপনা, হাসপাতাল, স্কুল ও ঘরবাড়ি মুহূর্তেই ধসে পড়ে।
২০১১ সালের জাপানের তোহোকু ভূমিকম্প
১১ মার্চ ২০১১ সালে জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানা ৯.০ মাত্রার ভূমিকম্প এবং পরবর্তী সুনামি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর দেশটিকেও ভয়াবহ বিপর্যয়ে ফেলেছিল। সুনামিতে হাজারো মানুষের মৃত্যু হয় এবং ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ভয়ংকর তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকি তৈরি করে। এই ঘটনা বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
২০০৫ সালের কাশ্মীর ভূমিকম্প
৮ অক্টোবর ২০০৫ সালে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর ও উত্তর পাকিস্তানে ৭.৬ মাত্রার ভূমিকম্প ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়। পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধস, স্কুলভবনের ধস ও দুর্যোগের পর উদ্ধারকাজ স্থবির হয়ে পড়ায় মৃত্যু সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভয়াবহতম দুর্যোগগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।
২০১৫ সালের নেপাল ভূমিকম্প
২৫ এপ্রিল ২০১৫ সালে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু ও বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প বিশাল ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করে। ঐতিহাসিক স্থাপনা, মন্দির, ঘরবাড়ি, পাহাড়ি রাস্তা ও পথঘাট ধসে পড়ে। হিমালয় অঞ্চলে তুষারধস ও ভূমিধসের ফলে শত শত পর্যটকও নিখোঁজ হন।
২০২৩ সালের তুরস্ক–সিরিয়া ভূমিকম্প
ফেব্রুয়ারি ২০২৩ সালে তুরস্ক ও সিরিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আঘাত হানা পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আবারও বিশ্বকে নাড়িয়ে দেয়। ঘনবসতিপূর্ণ শহর ও দুর্বল স্থাপনার কারণে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে। আন্তর্জাতিক সহায়তা দলগুলো উদ্ধারকাজে যুক্ত হলেও প্রচণ্ড ঠান্ডা ও ধ্বংসস্তূপ উদ্ধার অভিযানকে কঠিন করে তোলে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গত কয়েক দশকের এসব ভয়াবহ ভূমিকম্প বিশ্বকে প্রমাণ করে দিয়েছে—টেকসই অবকাঠামো, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা এবং ভূমিকম্প-সহনশীল নগরায়ণ ছাড়া যেকোনো দেশ এ ধরনের দুর্যোগে ভয়ংকর ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, গবেষণা এবং পরিকল্পিত নির্মাণ এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশের ভূমিকম্প–প্রবণ এলাকা শনাক্ত: বিশেষজ্ঞদের নতুন সতর্কবার্তা
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত ভূকম্পন অনুভূত হওয়ায় ভূতত্ত্ববিদরা বাংলাদেশকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ভূমিকম্প অঞ্চল হিসেবে আবারও সতর্ক করেছেন। বিশেষ করে দেশের পূর্ব, উত্তর-পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের বেশ কিছু জেলা দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় ফল্ট লাইনের ওপর অবস্থান করায় বড় ধরনের ভূমিকম্পের শঙ্কা বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞ সূত্র জানায়, বাংলাদেশ মোটামুটি তিন ভাগে ভূমিকম্প ঝুঁকিতে ভাগ করা হয়েছে—উচ্চ ঝুঁকি, মাঝারি ঝুঁকি ও কম ঝুঁকি। এর মধ্যে পূর্বাঞ্চলীয় পাহাড়ি অঞ্চল এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চল সবচেয়ে বিপদাপন্ন।
উচ্চ ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলো হলো চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি। ইন্ডো–বার্মা ফল্টের নিকটবর্তী হওয়ায় চট্টগ্রাম বিভাগসহ পার্বত্য এলাকা যেকোনো সময় তীব্র কম্পনে কেঁপে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সিলেট অঞ্চল দাউকি ফল্টের কারণে বহু বছর ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ।
মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলো হলো-ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
রাজধানী ঢাকার নিচ দিয়ে মধুপুর ফল্ট অতিক্রম করায় ঘনবসতিপূর্ণ এই শহরটি বড় ধাক্কায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। দুর্বল ভবন ও অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণ এ ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
কম ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলো হলো- রাজশাহী, রংপুর, খুলনা। তাছাড়া বরিশাল বিভাগের বেশিরভাগ এলাকা তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন—কম মাত্রার ভূমিকম্পও এসব অঞ্চলে নরম পলিমাটির কারণে তীব্র কম্পনে রূপ নিতে পারে।
প্রধান সক্রিয় ফল্ট লাইনগুলো হলো- ইন্ডো–বার্মা ফল্ট (চট্টগ্রাম–মিজোরাম সীমান্ত), দাউকি ফল্ট (সিলেট–শিলং সীমান্ত), মধুপুর ফল্ট (ঢাকা–ময়মনসিংহ অঞ্চল), মেঘালয় ফল্ট। এসব ফল্ট লাইনে দীর্ঘদিন ধরে বড় ধরনের ভূমিকম্প না হওয়ায় সেখানে প্রচুর শক্তি জমে আছে; যা ভবিষ্যতে বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জরুরি প্রস্তুতি, ভবন কোড মানা, পুরোনো ভবন সংস্কার এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বড় দুর্যোগের প্রভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব। তবে দীর্ঘসময় ধরে প্লেটচাপ বাড়তে থাকায় বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি যে বাস্তব—তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
ভূমিকম্পের সময় উঁচু ভবন ও নিচতলায় করণীয়: বিশেষজ্ঞদের জরুরি নির্দেশনা
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ে বহুতল ভবনের বাসিন্দারা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের সময় আতঙ্ক নয়, সঠিক সিদ্ধান্তই জীবন বাঁচাতে পারে। উঁচু ভবন কিংবা নিচতলায় থাকা—দুই পরিস্থিতিতেই করণীয় ভিন্ন। নিচে বিষয়টি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা।
 উঁচু ভবনে থাকলে করণীয়
১. দৌড়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতে যাওয়া বিপজ্জনক
ভূমিকম্প চলাকালীন সিঁড়ি ও লিফট ভবনের সবচেয়ে দুর্বল অংশ হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, কম্পনের সময় দৌড়ানো বা সিঁড়িতে যাওয়ার চেষ্টা মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায়।
২. ‘ডাক– কভার –হোল্ড’ পদ্ধতি অনুসরণ করুন-প্রথমেই মাটিতে নিচু হয়ে বসুন (উৎড়ঢ়) এরপর শক্ত টেবিল, ডেস্ক বা মজবুত আসবাবের নিচে আশ্রয় নিন (ঈড়াবৎ)। আশ্রয়টি আঁকড়ে ধরে রাখুন (ঐড়ষফ)।  এতে মাথা ও শরীরের ওপর বড় ধরনের আঘাত পড়ার সম্ভাবনা কমে।
৩. জানালা, গ্লাস দেয়ালের কাছ থেকে দূরে থাকুন
শক লাগলে গ্লাস ভেঙে ছিটকে আসতে পারে।
৪. বিদ্যুৎ সংযোগ, ফ্যান, আলমারি বা ঝোলানো বস্তু থেকে দূরে থাকুন
৫. কম্পন থামার পর সতর্কভাবে নিচে নামুন
কম্পন থামার পর যা করবেন-
সিঁড়ি ব্যবহার করুন, লিফট কখনোই নয়, নিচে নেমে খোলা জায়গায় আশ্রয় নিন
নিচতলায় থাকলে করণীয়
১. দ্রুত কিন্তু সতর্কভাবে খোলা জায়গায় বের হওয়ার চেষ্টা করুন
যদি দরজা কাছে থাকে এবং নিরাপদ মনে হয়, তবে খোলা মাঠ বা বিল্ডিংয়ের বাইরে চলে যাওয়া নিরাপদ।
২. বের হতে না পারলে শক্ত আসবাবের নিচে আশ্রয় নিন
৩. দেয়াল, কলাম বা দরজার ফ্রেমের পাশে দাঁড়াবেন না
অনেকেই মনে করেন দরজার ফ্রেম নিরাপদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটি ভুল ধারণা।
বাইরে থাকলে করণীয়- ভবন, বৈদ্যুতিক খুঁটি, গাছ ইত্যাদি থেকে দূরে যান এবং  গাড়িতে থাকলে রাস্তার পাশে থামুন কিন্তু ফ্লাইওভারের নিচে নয়। 
ভূমিকম্পের পর করণীয়- গ্যাস লাইন, বৈদ্যুতিক সংযোগ চেক করুন; এলিভেটর ব্যবহার করবেন না; ভবনে ফাটল দেখা দিলে দ্রুত বেরিয়ে যান; আফটারশকের জন্য প্রস্তুত থাকুন। 

দৈনিক ক্রাইম ডায়রি// জাতীয়