রায়গঞ্জে সরকারি হাসপাতালে প্রকাশ্যে হামলা, ১৭ দিনেও অধরা হামলাকারীরা

রায়গঞ্জে সরকারি হাসপাতালে প্রকাশ্যে হামলা, ১৭ দিনেও অধরা হামলাকারীরা
ছবিঃ দৈনিক ক্রাইম ডায়রি

রায়গঞ্জ  (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত আনসার সদস্যকে মারধর, জরুরি বিভাগে হামলা, ভাঙচুর ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার ১৭ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

প্রকাশ্যে সরকারি হাসপাতালের ভেতরে সংঘটিত এ ঘটনায় তদন্তের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় হাসপাতাল-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে।

এজাহার ও সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত ৬ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মসজিদের সামনে কয়েকজন ব্যক্তি ধূমপান করছিলেন। দায়িত্বরত আনসার সদস্য গিয়াস উদ্দিন ও তাঁর এক সহকর্মী তাঁদের হাসপাতাল চত্বরে ধূমপান করতে নিষেধ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।

একপর্যায়ে গিয়াস উদ্দিন একজনকে জরুরি বিভাগের সামনে নিয়ে এলে কয়েকজন তাঁর কলার চেপে ধরে কিল-ঘুষি মারেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহার অনুযায়ী, প্রায় ১৫ মিনিট পর ওই ব্যক্তিরা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে সঙ্গে নিয়ে লাঠিসোঁটা, কাঠের বাটাম ও ইটপাটকেলসহ হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করে হামলা চালান।

তাঁদের ছোড়া ইটপাটকেলে জরুরি বিভাগের জানালার কাচ ভেঙে যায়। আহত হন হাসপাতালের ড্রাইভার মাহবুব হোসেন ও ইমার্জেন্সি সহকারী সবুজ হোসেন।

খবর পেয়ে রায়গঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যান।

ঘটনার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার শেখ রকিব উদ্দিন আহম্মেদ বাদী হয়ে রায়গঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার সময় হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো অচল থাকায় ওই দিনের কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ঘটনার পর নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো সচল করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি জানান, হামলার ঘটনাটি হাসপাতাল চত্বরে প্রকাশ্যেই ঘটে। স্থানীয় লোকজন, হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং রোগীর স্বজনদের সামনেই হামলার ঘটনা ঘটে।

তাঁদের ভাষ্য, হামলায় জড়িত কয়েকজনের পরিচয় অনেকের জানা থাকলেও নিরাপত্তাজনিত শঙ্কায় কেউ তাঁদের নাম উল্লেখ করে মামলার এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করতে সাহস পাননি।

রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আফম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনরত স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।

এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।”

আহত আনসার সদস্য গিয়াস উদ্দিন বলেন, “হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী ধূমপান করতে নিষেধ করায় প্রথমে আমার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়।

পরে আমাকে মারধর করা হয়। কিছুক্ষণ পর আরও লোক এসে হাসপাতালের ভেতরে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান বলেন, “মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হামলায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “ঘটনার পরপরই হাসপাতাল পরিদর্শন করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

মামলার ১৭ দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

তাঁদের অভিযোগ, প্রকাশ্যে সরকারি হাসপাতালের ভেতরে সংঘটিত একটি হামলার ঘটনায় দীর্ঘ সময় পার হলেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

দৈনিক ক্রাইম ডায়রি // জেলা