রাবিতে মোবাইল সাংবাদিকতার প্রশিক্ষণ
টিবিএসের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগ
একেএম খায়রুল বাশারঃ
স্মার্টফোনের মাধ্যমে সংবাদ সংগ্রহ, ভিডিও ধারণ, সম্পাদনা ও উপস্থাপনার আধুনিক কৌশল শেখাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী মোবাইল জার্নালিজম (MoJo) প্রশিক্ষণ কর্মশালা। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের পেশাদার নিউজরুমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার লক্ষ্যে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (টিবিএস)-এর সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করা হয়েছে।
‘ক্লাসরুম টু নিউজরুম: মোবাইল জার্নালিজম (MoJo) ট্রেনিং ওয়ার্কশপ অ্যান্ড স্ট্রিংগার ইনিশিয়েটিভ’ শীর্ষক কর্মসূচিটির আয়োজন করে রাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ এবং দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত বিভাগের ১২৩ নম্বর কক্ষে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষ থেকে এমএসএস প্রথম সেমিস্টার পর্যন্ত ৫৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।
কর্মশালার পাশাপাশি অনুষ্ঠিত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের পক্ষে সভাপতি অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হোসেন বকুল এবং টিবিএসের পক্ষে হেড অব মাল্টিমিডিয়া মজুমদার বাবু স্বাক্ষর করেন।
সমঝোতার ফলে বিভাগের শিক্ষার্থীরা টিবিএসের নিউজরুমের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করার সুযোগ পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকেই সংবাদ প্রতিবেদন ও অন্যান্য মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট তৈরির পাশাপাশি নির্বাচিত কাজ টিবিএসে প্রকাশের সুযোগ তৈরি হবে। প্রকাশিত প্রতিবেদনের জন্য শিক্ষার্থীদের সম্মানী দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে বলে কর্মশালায় জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হোসেন বকুল। প্রধান অতিথি ছিলেন রাবির উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত অধিকর্তা অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলিম।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন কর্মশালার আহ্বায়ক বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক মশিহুর রহমান এবং সহযোগী অধ্যাপক কাজী মামুন হায়দার।
কর্মশুরুর স্বাগত বক্তব্যে অধ্যাপক মশিহুর রহমান বলেন, সাংবাদিকতার তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি সেই জ্ঞান বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের সুযোগ শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশ্ববিদ্যালয় ও গণমাধ্যম শিল্পের মধ্যে সহযোগিতা বাড়লে একাডেমিক শিক্ষা এবং পেশাগত বাস্তবতার মধ্যকার দূরত্ব কমানো সম্ভব।
তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মাস্টারক্লাস, সেমিনার, লেকচার, যৌথ কার্যক্রম এবং মাঠপর্যায়ে রিপোর্টিংয়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন। কর্মশালাটিকে কেবল প্রশিক্ষণ হিসেবে না দেখে পেশাগত জগতে প্রবেশের একটি সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানোর জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
টিবিএসের মাল্টিমিডিয়া বিভাগের প্রধান মজুমদার বাবু বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিউজরুমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েই ‘কানেক্টিং টু দ্য নিউজরুম’ উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা টিবিএসের সংবাদকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং পেশাদার নিউজরুমের কাজের ধরন সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাবেন।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি টিবিএসের জন্য সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করতে পারবেন। নিউজরুমে তাদের কাজ মূল্যায়ন করা হবে এবং প্রকাশিত প্রতিবেদনের জন্য সম্মানীও দেওয়া হবে। ফলে ঢাকায় না গিয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করে একটি জাতীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন তারা।
কর্মশালার লিড ট্রেইনার ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাজীব নন্দী মোবাইল সাংবাদিকতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মোবাইল সাংবাদিকতা শুধু স্মার্টফোনে ছবি বা ভিডিও ধারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বহনযোগ্য বিভিন্ন প্রযুক্তি ও ডিভাইস ব্যবহার করে সংবাদ তৈরি ও উপস্থাপনের প্রক্রিয়াও এর আওতাভুক্ত।
তার ভাষায়, সাংবাদিকতার গল্প বলার ধরন ও প্রযুক্তি সময়ের সঙ্গে বদলালেও গল্প বলার মূল উদ্দেশ্য অপরিবর্তিত থাকে। নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের পাশাপাশি সাংবাদিকতার নৈতিকতা, দায়িত্বশীলতা ও পেশাগত মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
কর্মশালায় মোবাইল সাংবাদিকতার বিভিন্ন ব্যবহারিক বিষয় নিয়ে পৃথক সেশন পরিচালনা করেন মজুমদার বাবু ও অধ্যাপক রাজীব নন্দী। টিবিএসের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ইরফান এবং এসআর শাওনও পৃথক উপস্থাপনায় অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলিম বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের ফলে মানুষের সংবাদ পাওয়ার পদ্ধতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। একসময় সংবাদপত্র সংগ্রহ করে খবর পড়তে হতো, আর এখন একটি স্মার্টফোনের মাধ্যমে মুহূর্তেই দেশ-বিদেশের তথ্য পাওয়া সম্ভব।
রাবির সঙ্গে টিবিএসের এই সহযোগিতাকে শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পেশাগতভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে পারবেন।
বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হোসেন বকুল বলেন, প্রযুক্তির বিবর্তনের সঙ্গে সাংবাদিকতার মাধ্যম ও কাজের ধরনও পরিবর্তিত হয়েছে। প্রিন্ট মিডিয়া থেকে টেলিভিশন, অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতার পর বর্তমানে স্মার্টফোন সাংবাদিকতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, মোবাইল ফোন দিয়ে ছবি বা ভিডিও ধারণ করতে পারা যথেষ্ট নয়; একটি তথ্যকে কীভাবে সংবাদে রূপ দিতে হয়, কীভাবে যাচাই করতে হয় এবং সাংবাদিকতার নীতি অনুসরণ করে তা উপস্থাপন করতে হয়—এসব বিষয়ও শিক্ষার্থীদের জানতে হবে।
টিবিএসের সঙ্গে সমঝোতার ফলে একাডেমিক শিক্ষা ও গণমাধ্যম শিল্পের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা এখন বাস্তব নিউজরুমের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। এতে তাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম ও কর্মক্ষেত্রের বাস্তবতার মধ্যকার ব্যবধানও কমবে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবু সালেহ শোয়েব। ইভেন্ট ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করেন বিভাগের শিক্ষার্থী কে এম সিদ্দিক, তাসিন সিদ্দিকা রূপা ও প্রান্ত কুমার দাশ।
দৈনিক ক্রাইম ডায়রি // জেলা










