এক কোটি টাকার চাঁদাবাজি মামলায় সাংবাদিক আসাদ সবুজের জামিন
হ্যান্ডকাফ পরানোর ঘটনায় এসআই প্রত্যাহার, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা
আশিকুর রহমান মাহী, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
বরগুনায় এক কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি সাংবাদিক আসাদ সবুজ জামিন পেয়েছেন। বুধবার (৭ অক্টোবর) বরগুনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন শুনানি শেষে বিচারক তার জামিন মঞ্জুর করেন।

আদালতে জামিন শুনানির সময় মামলার বাদী উপস্থিত ছিলেন। আসাদ সবুজের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে অ্যাডভোকেট এম এ বারী মতিন এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের ও অ্যাডভোকেট বাবুল দাস উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তারের সময় হ্যান্ডকাফ পরানো এবং হেনস্তার অভিযোগের ঘটনায় দায়িত্বে থাকা এসআই হারুন অর রশিদকে পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার করা হয়েছে। জেলা পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বরগুনায় গিয়ে আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তারের ধরন, হ্যান্ডকাফ পরানো এবং কথিত অমানবিক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পরে বরগুনার পুলিশ সুপারের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর এসআই হারুন অর রশিদকে পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আসাদ সবুজের জামিনের জন্য এর আগে কয়েক দফা আবেদন করা হয়। গত ৪ অক্টোবর বরগুনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিনের আবেদন করা হলে শুনানির জন্য প্রথমে ৬ অক্টোবর তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
পরবর্তী সময়ে বাদীর উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়। ওই শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
জামিনের পর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেন, আসাদ সবুজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে তারা সাজানো মামলা বলে মনে করেন।
তার ভাষ্য, সবুজের প্রতিবাদী সাংবাদিকতা ও অবস্থানই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলের বিরূপতার কারণ হয়ে থাকতে পারে। জামিনকে তিনি সাংবাদিকদের আন্দোলনের প্রাথমিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন এবং মামলাটি থেকে চূড়ান্ত অব্যাহতি পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় পুলিশি আচরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর তাদের একটি প্রতিনিধি দল বরগুনায় গিয়ে মামলার পেছনের ঘটনা এবং সংশ্লিষ্ট জমিজমা নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে।
তাদের দাবি, কয়েকটি হিন্দু পরিবারের জমি দখলের কথিত পরিকল্পনার সঙ্গে মামলাটির কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তারা খতিয়ে দেখেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর রাতে এক কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তার করে বরগুনা পুলিশ। মামলায় আসাদ সবুজসহ মোট ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলাটি দায়ের করেন স্বপন কুমার ঘোষ। মামলার অভিযোগ ও এর পেছনের উদ্দেশ্য নিয়ে আসামিপক্ষ আপত্তি তুলেছে এবং এটিকে হয়রানিমূলক মামলা বলে দাবি করেছে।
তবে মামলার অভিযোগের বিষয়ে বাদীপক্ষের বক্তব্য এবং আদালতে মামলাটির পরবর্তী কার্যক্রমই চূড়ান্তভাবে বিষয়টির আইনগত অবস্থান নির্ধারণ করবে।
দৈনিক ক্রাইম ডায়রি // স্পেশাল










