বিআরটিএ সার্কেল অফিসের দুর্নীতি: শাস্তিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাজা মওকুফে তদবির
কেরানীগঞ্জে দুর্নীতি ও দালালপোষণের দায়ে সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া চার কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের সাজা মওকুফের জন্য কোটি টাকার বাজেট নিয়ে মাঠে নেমেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শাহাদাত হোসেন রিটন:
সম্প্রতি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ঢাকা জেলা সার্কেল এর (ইকুরিয়া) কেরানীগঞ্জে দুর্নীতি ও দালালপোষণের দায়ে সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া চার কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের সাজা মওকুফের জন্য কোটি টাকার বাজেট নিয়ে মাঠে নেমেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ড্রাইভিং লাইসেন্স বোর্ড পরীক্ষায় লাখ লাখ টাকা ঘুষ আদায়, দালাল চক্রকে লালন-পালন ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে মোটরযান পরিদর্শক, সহকারী এবং হিসাবরক্ষকসহ চারজনকে বরখাস্ত করা হয়। বর্তমানে তারা ক্ষমতাসীন প্রভাবশালী মহল ও অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় পুনর্বহালের জন্য তৎপরতা চালাচ্ছেন।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা
দুর্নীতি ও দালালচক্রে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বরখাস্ত হন –
• মোহাম্মদ জমির হোসেন (পরিচিতি নং: ২০১৪২–৫১), মোটরযান পরিদর্শক
• শাহারিয়ার হাসান শান্ত (পরিচিতি নং: ২০২৩৩—৬৭), মেকানিক্যাল এসিস্ট্যান্ট
• মো. আরিফ হোসেন (পরিচিতি নং: ২০০৪৪—০৮), উচ্চমান সহকারী
• মীর্জা মাহমুদুর রশিদ (পরিচিতি নং: ২০১৬৩২০১১৩), মেকানিক্যাল এসিস্ট্যান্ট
তাদের সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগে বদলির নির্দেশও দেওয়া হয়।
দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকায় শীর্ষে বিআরটিএ
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সাম্প্রতিক ‘সিটিজেন পারসেপশন সার্ভে (সিপিএস)’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান হলো বিআরটিএ। জরিপে উঠে এসেছে, দুর্নীতির অভিযোগে শাস্তি পাওয়ার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে বিআরটিএ কর্মকর্তারা পুরস্কৃত বা প্রমোশনও পান।
অভিযান ও প্রমাণ
গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গাবতলী বিআরটিসি বাস ডিপোতে অভিযান চালানো হয়। এসময় অফিস কক্ষ থেকে নগদ অর্থসহ কয়েকজন দালালকে আটক করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর আগেও ২ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে দালালমুক্ত কার্যক্রমের নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা অমান্য করে কর্মকর্তারা দালালদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন।
সূত্র জানায়, প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল ও বিআরটিএর কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার যোগসাজশে সাজাপ্রাপ্তরা কোটি টাকার লেনদেনের মাধ্যমে চাকরিতে পুনর্বহালের চেষ্টা করছেন। অভিযোগে সাবেক চেয়ারম্যান মো. ইয়াসিনের গাড়িচালকের নামও উঠে এসেছে।
ভুক্তভোগী জনসাধারন আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, সাজা মওকুফ হলে আবারও বিআরটিএ দালাল ও ঘুষ বাণিজ্যের অভয়ারণ্যে পরিণত হতে পারে। সুতরাং, ক্ষমতার অপব্যবহারের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
দৈনিক ক্রাইম ডায়রি// ক্রাইম










