বিমানে একসঙ্গে ১০ শীর্ষ কর্মকর্তার রদবদল, বদলেছে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দপ্তর

Reshuffle of 10 top officials at Biman; several key departments changed.

বিমানে একসঙ্গে ১০ শীর্ষ কর্মকর্তার রদবদল, বদলেছে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দপ্তর
ছবি- অনলাইন হতে সংগৃহীত

মোঃ ওমর ফারুক:

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রশাসনিক কাঠামোয় একযোগে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সংস্থাটির প্রশাসন ও মানবসম্পদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে জিএম ও ডিজিএম পদমর্যাদার ১০ কর্মকর্তাকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া, বদলি এবং অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমোদনের পর এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়। বিমানের ব্যবস্থাপক (পার্সোনেল) ওম্মে কুলছুম স্বাক্ষরিত আদেশে পরিবর্তনগুলো অবিলম্বে কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এমডি ও সিইওর কার্যালয়ে সংযুক্ত থাকা বোসরা ইসলামকে পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ)-এর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর আগে তিনি জনসংযোগ বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
অন্যদিকে, স্টোর অ্যান্ড ম্যাটেরিয়াল ম্যানেজমেন্টের জিএম ইকবাল আহমেদ আলীকে জিএম (কার্গো) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পোল্ট্রি কমপ্লেক্সের জিএম এ এইচ এম শফিউল বারীকে করা হয়েছে জিএম (প্রশাসন ও মানবসম্পদ)।
এয়ারপোর্ট সার্ভিসেসের জিএম শাহনুর আহমেদকে গ্রাহকসেবা বিভাগের দায়িত্বের পাশাপাশি আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতাসহ জনসংযোগ বিভাগের জিএমের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নতুন দায়িত্ব সম্পর্কে শাহনুর আহমেদ জানান, গ্রাহকসেবা ও জনসংযোগ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি গণমাধ্যমের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এর আগে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে জনসংযোগ বিভাগে একাধিকবার দায়িত্ব পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। ফলে নতুন করে এই বিভাগে নেতৃত্ব পরিবর্তনও আলোচনায় এসেছে।
এদিকে গ্রাহকসেবা ও জনসংযোগ—দুই বিভাগের দায়িত্ব পালন করে আসা জিএম মহিউদ্দিন আহমেদকে এবার জিএম (এয়ারপোর্ট সার্ভিসেস) পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফ্লাইট অপারেশন ও পরিকল্পনা বিভাগেও এসেছে পরিবর্তন। ক্যাপ্টেন বি-৭৮৭ শেখ আব্বাস হোসেনকে নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতাসহ জিএম (পরিকল্পনা) হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
উপমহাব্যবস্থাপক (পার্সোনেল) ও ভারপ্রাপ্ত জিএম (প্রশাসন) খন্দকার বাকী উদ্দিন আহমদকে ভারপ্রাপ্ত জিএম (স্টোর অ্যান্ড ম্যাটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট) করা হয়েছে।
এ ছাড়া উপমহাব্যবস্থাপক (হিসাব) ও ভারপ্রাপ্ত জিএম (অর্থ ও হিসাব) এম এম আরিফুর রহমানকে ডিজিএম (করপোরেট প্ল্যানিং অ্যান্ড ট্রেনিং) পদে বদলি করা হয়েছে।
ডিজিএম প্রশাসন (মানবসম্পদ) মো. ফজরুল আলমকে তার বর্তমান দায়িত্বের পাশাপাশি আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতাসহ ডিজিএম (পার্সোনেল)-এর অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ডিজিএম (বিকেএফসিসি) এ জেড এম আরিফকে ডিজিএম (পোল্ট্রি কমপ্লেক্স) পদে স্থানান্তর করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের পরই বড় পরিবর্তন
বিমানের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনে ধারাবাহিক কিছু সিদ্ধান্ত ও সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পর নতুন এই রদবদল বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
গত ১ অক্টোবর বিমানের তিন পরিচালকসহ চার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি করা হলেও একই দিন পরে সেই আদেশ স্থগিত করা হয়। এর আগে একজন কর্মকর্তাকে সকালে পদোন্নতি দেওয়ার পর বিকেলেই সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের ঘটনাও ঘটে।
এ ধরনের দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন বিমানের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি করেছে।
বিমানের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মো. শফিকুর রহমানকে একটি ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার ও আটকের পর তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়।

এরপর থেকেই বিমানের শীর্ষ পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে প্রশাসনিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও বর্তমানে আলোচনার অন্যতম বিষয়।

বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের পরিকল্পনার কথা জানা গেছে। এ প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি এয়ারবাসের কাছ থেকেও ১০টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে ৭ অক্টোবর।
একসঙ্গে বড় সংখ্যক উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা নিয়ে বিমানের ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, রুট সম্প্রসারণ এবং বহর ব্যবস্থাপনা কতটা প্রস্তুত—তা নিয়ে এভিয়েশন খাতের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
বিমানের বর্তমান বহরের রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রশ্ন সামনে এসেছে।

খুচরা যন্ত্রাংশ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহে ঘাটতির কারণে রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে চাপ তৈরি হওয়ার তথ্যও আলোচনায় এসেছে।
এমনকি কিছু উড়োজাহাজে জরুরি সরঞ্জামের মেয়াদসংক্রান্ত গুরুতর ত্রুটির বিষয়ও সামনে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সব মিলিয়ে নতুন ১০ কর্মকর্তার রদবদলকে কেবল নিয়মিত প্রশাসনিক পদায়ন হিসেবে দেখা হচ্ছে না।

সাম্প্রতিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তন, নেতৃত্বের পুনর্বিন্যাস, নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহ এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাপনা—সবকিছুর প্রেক্ষাপটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে এই পরিবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দৈনিক ক্রাইম ডায়রি // স্পেশাল