মহাসড়কের পাশে গ্যাস লাইন ফুটো মেরামত করেনি তিতাস, বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা

মহাসড়কের পাশে গ্যাস লাইন ফুটো মেরামত করেনি তিতাস, বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা
ছবি- অনলাইন হতে সংগৃহীত

ফারুক আহমেদ, গাজীপুর প্রতিনিধি:

 সাভার আশুলিয়া থানার অধীন সাভার-চন্দ্রা মহাসড়কের জিরানী মাজার রোড মোড় এলাকায় প্রধান গ্যাস পাইপলাইন ফুটো হয়ে অবিরত গ্যাস বের হচ্ছে।

হামিম গার্মেন্টসের বিপরীত পাশে অবস্থিত এই লিকেজটি গত দুই বছর ধরে চললেও এটি মেরামতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ফলে যেকোনো সময় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড বা বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়: মহাসড়কের পাশে অবস্থিত গ্যাস পাইপলাইনের একটি অংশ ফেটে তীব্র গতিতে গ্যাস নির্গত হচ্ছে। বাতাসের সঙ্গে গ্যাসের উৎকট গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। ব্যস্ততম এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন ও মানুষ যাতায়াত করে।

এই লিকেজের খুব কাছেই পথচারীরা ধূমপান করেন এবং পাশেই রয়েছে বিভিন্ন দোকানপাট। সামান্য একটি আগুনের স্ফুলিঙ্গ থেকে এখানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই সমস্যাটি আজ বা কালকের নয়; দীর্ঘ দুই বছর ধরে এভাবে গ্যাস বের হচ্ছে। 
আশেপাশে অবস্থানরত ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় বাসিন্দা গন জানান, তারা একাধিকবার গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন অফিসে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর অফিসের লোকজন এসে কয়েকবার পরিদর্শনও করে গেছেন। প্রতিবারই দ্রুত মেরামতের আশ্বাস দিলেও আজ পর্যন্ত কোনো কাজ শুরু হয়নি।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা আতঙ্কে থাকি। যে কোন মুহূর্তে বড় বিপদ হতে পারে। তিতাস গ্যাস অফিসকে বারবার বলা হয়েছে, তারা শুধু মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে যায়, ঠিক করে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বড় দুর্ঘটনা ঘটক এটাই কি চায়?

এতদিন কাল্পনিক মগের মুল্লুকের নাম শুনেছি। এই পরিস্থিতি দেখে বাংলাদেশকে এখন মগের মুল্লুক মনে হচ্ছে।
সাভার-চন্দ্রা মহাসড়কটি উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হওয়ায় এখানে যানবাহনের প্রচণ্ড চাপ থাকে। লিকেজের স্থানে কোনো কারণে আগুন লেগে গেলে মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহন এবং পাশের শিল্পকারখানাগুলো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।

বিশেষ করে হামিম গার্মেন্টসের মতো বড় কারখানার হাজার হাজার শ্রমিকের নিরাপত্তা এখন ঝুঁকির মুখে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন অফিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার আবু আইয়ুব এর সাথে মুঠ ফোনে কথা বলে জানা যায় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মস্থলে নতুন যোগদান করেছেন।

পূর্বের কর্মকর্তাদের মতো তিনিও এক সপ্তাহের মধ্যে এর সমাধান করে দিবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
 স্থানীয়দের দাবি, জননিরাপত্তার স্বার্থে অতি দ্রুত এই লিকেজ মেরামত করা প্রয়োজন।

দৈনিক ক্রাইম ডায়রি// জেলা