কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে ৭৫ হাজার টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন

রাশিয়া ও কানাডা থেকে জি-টু-জি ভিত্তিতে আসছে সার; ব্যয় হবে প্রায় ৩৫১ কোটি ২৬ লাখ টাকা

কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে ৭৫ হাজার টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন
ছবি- অনলাইন হতে সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

দেশের কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখা, আসন্ন মৌসুমে সারের চাহিদা নির্বিঘ্নে পূরণ এবং কৃষকদের জন্য বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে রাশিয়া ও কানাডা থেকে মোট ৭৫ হাজার মেট্রিক টন মিউরিয়েট অব পটাশ (এমওপি) সার আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির আওতায় এ সার আমদানিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫১ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

বুধবার রাজধানীর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিজিপি) ২০২৬ সালের ২৯তম সভায় দুটি পৃথক ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সভা সূত্রে জানা গেছে, কৃষি উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ এমওপি সারের সরবরাহে কোনো ঘাটতি যাতে না দেখা দেয়, সে লক্ষ্যেই এই আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমদানির দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের উত্থাপিত এক প্রস্তাবের ভিত্তিতে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রোডইনটর্গ) থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মেট্রিক টন সারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮০ মার্কিন ডলার। এ চালান আমদানিতে সরকারের সম্ভাব্য ব্যয় হবে প্রায় ১৬৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জি-টু-জি পদ্ধতিতে সার সংগ্রহের ফলে সরবরাহ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় থাকে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সার দেশে আনার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
একই সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের অপর একটি প্রস্তাবের আলোকে কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন (সিসিসি) থেকে আরও ৪০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়।

এ ক্ষেত্রেও প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮০ মার্কিন ডলার। এই চালানের জন্য সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ১৮৭ কোটি ৪ লাখ টাকা।

দুটি প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে মোট ৭৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার দেশের সরকারি মজুদে যুক্ত হবে।

কৃষি খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধান, ভুট্টা, গম, আলু, সবজি, ডাল, তেলবীজসহ বিভিন্ন অর্থকরী ফসলের উৎপাদনে এমওপি সার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মাটিতে পটাশের ঘাটতি পূরণ, গাছের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি, ফলন উন্নয়ন এবং ফসলের গুণগত মান বজায় রাখতে এ সারের ব্যবহার অপরিহার্য।

তাদের মতে, সময়মতো পর্যাপ্ত সার আমদানি করা না হলে চাষাবাদের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর। তাই আগাম পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই সরকার আন্তর্জাতিক উৎস থেকে প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করছে।

সরকারি সূত্র জানায়, দেশে কৃষি উৎপাদন টেকসই রাখতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ওঠানামার ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার নিয়মিতভাবে বিভিন্ন দেশ থেকে জি-টু-জি ভিত্তিতে সার আমদানি করে থাকে। এর ফলে আমদানি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্বত্বভোগীর ভূমিকা কমে আসে এবং নির্ধারিত মানের সার নিশ্চিত করা সহজ হয়।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে পর্যাপ্ত সার মজুদ রাখা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত কৃষকদের নিরবচ্ছিন্ন সার সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে বলে তারা মনে করছেন।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, দ্রুত আমদানি কার্যক্রম সম্পন্ন হলে আসন্ন রোপণ ও উৎপাদন মৌসুমে কৃষকদের প্রয়োজনীয় এমওপি সার সরবরাহে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না। এতে একদিকে যেমন কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক থাকবে, অন্যদিকে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সরকারের প্রচেষ্টা আরও শক্তিশালী হবে।

দৈনিক ক্রাইম ডায়রি// জাতীয়