শ্রী রাম ও তার জন্মস্থান সম্পর্কে নেপালি প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের বিরুদ্ধে বাংলাদেশি হিন্দু সংগঠনগুলোর বিক্ষোভ
এবি সুমন
শ্রী রাম ও তার জন্মস্থান সম্পর্কিত নেপালি প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিরুদ্ধে বাংলাদেশি হিন্দু সংগঠনগুলোর বিক্ষোভ সমাবেশ।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি সম্প্রতি মন্তব্য করেন যে “ রাম, হিন্দু ধর্মাবলম্বিদের অন্যতম অবতার, নেপালের রাজপুত্র ছিলেন এবং অযোধ্যা ছিল নেপালে অবস্থিত”। তার এই বক্তব্যে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায় বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়।
২. বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে এবং সমাবেশে ইতিহাস বিকৃতি ও ধর্মকে রাজনীতির সাথে মেলানোর জন্য নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কঠোর সমালোচনা করা হয়।
৩. আজ (১৮ জুলাই) সকাল ১০ টায় ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের পৃষ্ঠপোষকতায় এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে জোটের বক্তারা বলেন যে, নেপালের প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য শুধু শ্রী রামচন্দ্রের জন্মস্থান সম্পর্কিত প্রত্নতাত্ত্বিক দলিলকে অস্বীকারই করেনা, একটি ঐতিহাসিক সত্যকেও অস্বীকার করে এবং তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা লাখো ধর্মপ্রাণ হিন্দুর হৃদয়ে আঘাত করেছে। তাছাড়া, নেপালের প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য যে শুধু ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ দ্বারাই প্রভাবিত তা নয় বরং এর পিছনে লুকিয়ে আছে সমগ্র হিন্দু সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও বিশ্বাসকে ধ্বংস করার এক পৈশাচিক ষড়যন্ত্র। বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের সদস্যরা নেপালের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের কঠোর প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি তাকে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানান।
৩. পরবর্তীতে, হিন্দুধর্ম সুরক্ষা পরিষদ নামে আরেকটি সংগঠন সকাল ১১ টায জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাছে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন, উক্ত সংগঠনের আহ্বায়ক স্বামী সংগীতানন্দ মহারাজ (প্রণব মঠ)। বিশিষ্ট গায়ক ও বক্তা মুক্তিযোদ্ধা শ্রী মনোরঞ্জন ঘোষাল(সমন্বয়ক ইউআরআই বাংলাদেশ), ড. মোহম্মদ আব্দুল হাই, প্রফেসর ধীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস ( সভাপতি, বাংলাদেশ হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতি), বাংলাদেশ সংখ্যালঘু জনতা পার্টি এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সহ-সভাপতি এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ উপস্হিত ছিলেন। সমাবেশে বক্তব্য প্রাদনের সময় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বলেন যে নেপাল একটি হিন্দু রাষ্ট্র এবং তাদের সংস্কৃতি ও প্রথা সমূহ বহুকাল ধরে হিন্দু ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত। যাইহোক, হঠাৎ নেপালের প্রধানমন্ত্রীর ভারতবিরোধী মন্তব্য এবং পরবর্তিতে রামদেবের জন্মস্থান নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য তার বিরুদ্ধে হিন্দু সম্প্রদায়ের মনে সন্দেহের বীজ বপন করেছে। বক্তারা আরো উল্লেখ করেন যে নেপালের প্রধানমন্ত্র্রী নিজে এ ধরণের বক্তব্য দেযার সাহস রাখেন না, খতিয়ে দেখা দরকার এর পিছনে কোন অদৃশ্য বৃহৎ অপশক্তির হাত রয়েছে কিনা।
৪.নেপালের প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার জন্য বিক্ষোভকরীদের ব্যনার, পোস্টার হাতে প্রতিবাদ করতে দেখা যায় ; নেপালের প্রধানমন্ত্রী মানসিক ভারসাম্যহীন ; সমাজতান্ত্রিক অলি ধার্মিক হতে চায়, অলির পিছনে ড্রাগন; ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব চিরজীবী হোক। আজকের সমাবেশে শতাধিক ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।
৫. ১৩ জুলাই ২০২০, ভানু জয়ন্তী উপলক্ষে তার নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠিত নেপালের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন যে, ভগবান শ্রী রামের জন্মস্থান আসলে ভারতে অবস্হিত নয়, এটি নেপালের পশ্চিম বীরগঞ্জের থরি নামক স্হানে অবস্হিত। তার এই বক্তব্যেই মূলত বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অলি আরো উল্লেথ করেন যে বাল্মিকী আশ্রম নেপালে অবস্হিত ছিল, ভগবান রাম ভারতীয় নন এবং অযোধ্যা নেপালে অবস্হিত ছিল। এক কথায় অলি অযোধ্যাকে একটি বিতর্কিত বিষয়ে পরিণত করেছে যেটি কিনা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা ধর্মপ্রাণ হিন্দুদের কাছে এক আস্হা ও বিশ্বাসের জায়গা।
৬. এর আগে ১৭ জুলাই, জাগ্রত হিন্দু সামজ নামে অপর একটি সংগঠন ভগবান রাম ও তার জন্মস্থান অযোধ্যা সম্পর্কে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন।


crimediarybd1








