ফ্যাসিষ্ট এর দোসর মৃত্তিকার ডিজি: কথা বললেই হুমকি ও ব্যবস্থা

পাশ না করেও ডক্টরেট ফারুক ডিজির ডান হাত

ফ্যাসিষ্ট এর দোসর মৃত্তিকার ডিজি: কথা বললেই হুমকি ও ব্যবস্থা
ছবি- অনলাইন হতে সংগৃহীত

বিশেষ সংবাদদাতাঃ
‘শেখ হাসিনার সাথে রাজনীতি করেছি’ বলে বেড়ানো কর্মকর্তা এখন মৃত্তিকার ডিজি এবং  বিগত শেখ হাসিনার আমলে যে কয়জন এই সংস্থায় সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী তাদেরই একজন বর্তমান ডিজি ড.বেগম সামিয়া সুলতানা। ৫ আগস্ট স্বৈরশাসকের পতনের পর দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক অস্থিরতা দেখা দেয়।

সেই ধারাবাহিকতায় মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই) এও (ঝজউও) মহাপরিচালকের পদ নিয়ে নানা বিতর্ক ও অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তৎকালীন মহাপরিচালক জালাল উদ্দিনকে সন্ত্রাসী কায়দায় মব তৈরি করে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (চঝঙ) মো. ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে এবং কিছু বহিরাগতদের সহযোগিতায় তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। এরপর ১৩ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ড. সামিয়া সুলতানা নতুন মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রকল্পের অনিয়ম এবং ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের দিয়ে পদ দখলের অভিযোগ উঠছে।


অভিযোগকারীরা বলছেন, ড. সামিয়া সুলতানা সাবেক কৃষি সচিব এবং বর্তমান পলাতক কর্মকর্তা ওয়াহিদা আক্তারের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। সেই সূত্রে তিনি অর্ন্তর্বতীকালীন সরকারের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ঝজউও তে একক আধিপত্য বিস্তার করছেন।
বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট রেজিমের পুরোটা সময় জুড়েই তিনি ছিলেন সুবিধাভোগী। শেখ হাসিনার ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচয় দিতেন।

গর্ব করে বলতেন ‘আমি শেখ হাসিনার সাথে রাজনীতি করেছি’। প্রমাণও দিতেন শেখ হাসিনার সাথে ঘনিষ্ঠতার। ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ (বাকৃবি) ছাত্রসংসদ নির্বাচনের পর ছাত্রলীগের নেতারা ধানমন্ডিতে শেখ হাসিনার সাথে সৌজন্যে সাক্ষাত করেন।

শেখ হাসিনার সাথে গ্রুপ ছবি তোলেন তারা। ওই ছবিতে ১০-১২ জনকে দেখা যায়; শেখ হাসিনার ঠিক ডান পাশে (গোল চিহিৃত) যিনি তার নাম সামিয়া সুলতানা। বাকৃবির সুলতানা রাজিয়া হল সংসদে ছাত্রলীগের প্যানেলে নির্বাচিত নেত্রী তিনি। এখন তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠান মৃত্তিকাসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এসআরডিআই) মহাপরিচালক। 
ছাত্রজীবনে সরাসরি ছাত্রলীগের রাজনীতি করা সামিয়া সুলতানা ১৫তম (কৃষি) বিসিএসের মাধ্যমে চাকরিজীবনে প্রবেশ করেন। বিগত শেখ হাসিনার আমলে যে কয়জন এই সংস্থায় সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী তাদেরই একজন তিনি। তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সরাসরি সম্পর্ক। তাই গর্ব করে বলতেন, দুঃসময়ে শেখ হাসিনা এবং ওয়াহিদা আক্তারের (সাবেক কৃষিসচিব) সাথে রাজনীতি করেছি।
জানা গেছে, হাসিনার আমলে এসআরডিআইতে অনেক সিনিয়র কর্মকর্তার উপর ছড়ি ঘুরিয়েছেন।

বিগত সময়ের কৃষিমন্ত্রী, ড. আব্দুর রাজ্জাক ও মতিয়া চৌধুরীর সাথে ছিল ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। এসআরডিআই-এর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (সিএসও) পদে পদোন্নতি নিয়ে লুফে নেন গুরুত্বপূর্ণ এসআরডিআই -এর ভবন নির্মাণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি (সিসিবিএস) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের পদ। 
তথ্যসূত্রে জানা গেছে, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ নিজের দখলে বা ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। এর মধ্যে রয়েছে:
১. মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (চঝঙ)
২. “ঈঈইঝ” প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক
৩. ফিল্ড সার্ভিসেস উইংয়ের পরিচালক
৪. মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের বিসিএস সমিতির সেক্রেটারি
৫. অঋঅঈওএর অর্থায়নে পরিচালিত উবাবষড়ঢ়সবহঃ ড়ভ ঘধঃরড়হধষ ঝড়রষ গধঢ় ধহফ ঘধঃরড়হধষ ঝড়রষ ওহভড়ৎসধঃরড়হ ঝুংঃবস ড়ভ ইধহমষধফবংয প্রকল্পের সহ-গবেষণা পরিচালক (পড়-ঢ়ৎড়লবপঃ রহাবংঃরমধঃড়ৎ)
৬. ঝড়রষ ঝপরবহপব ঝড়পরবঃু ড়ভ ইধহমষধফবংয (ঝঝঝই)-এর প্রেসিডেন্ট, যা নির্বাচনের মাধ্যমে নয় বরং ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ‘সিলেকশন’-এর মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী মৃত্তিকার কোন কর্মকর্তাকে প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা প্রদানের এখতিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিবের। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ড. সামিয়া সুলতানা দায়িত্ব গ্রহণের পরই তার ঘনিষ্ঠ চঝঙ মো. ফারুক হোসেনকে পূর্ববর্তী কর্মস্থল পাবনার আয়ন-ব্যায়ন (উউঙ) ক্ষমতায় বহাল করেন।


২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত ১৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার কথা থাকলেও তা এখনো শেষ হয়নি। একই সাথে তিনি সংস্থাটির পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পান। সিসিবিএস প্রকল্পের আওতায় ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে বহুতল ভবন কোনোমতে সম্পন্ন হলেও রাজশাহী, খুলনায় ও কুমিল্লায় সংস্থার আঞ্চলিক গবেষণাগার ভবনগুলোও নির্মাণ এখনো সম্পন্ন হয়নি বলে জানা যায়।
ডিজি ডক্টর বেগম সামিহা সুলতানা ফ্যাসিষ্ট সরকারের অন্যতম দোসর ও ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলন দমনের অন্যতম সহযোগী হওয়া সত্তেও মৃত্তিকা ডিজি হয়েছিলেন এবং এখনও স্বপদে বহাল তবিয়তে আছেন। তিনি প্রকল্পের নামে হাজার কোটি টাকা লোপাট করে সেই টাকা ও প্রকল্পের সঠিক হিসাব না দিয়েই এখন আবার .....দায়িত্বে চলে যাচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে।
 এই ড.বেগম সামিহা সুলতানা ফ্যাসিষ্ট নেতা শেখ হাসিনার অতি ঘনিষ্টজন এবং শ্বশুরবাড়ির দিকের আত্বীয়। যা ফ্যাসিষ্ট আমলে প্রায়শ:ই বিভিন্ন প্রোগ্রামে বলে বেড়াতেন। তার ডান হাত হিসেবে পরিচিত  প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো: ফারুক হোসেন এবং উদ্ধর্তন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো: নুরুল হুদা মামুন বিগত সতের বছর আওয়ামীলীগ হয়ে থাকলেও এখন বিএনপি জামাতের নেতা সেজে তাকে সেইফ এক্সিট দেয়ার দায়িত্ব পালন করছেন সেই সাথে তারা দু’জনই ড.সামিহার প্রকল্পের টাকা নিধন ও পাচার কর্মসুচীর মূলহোতা বলে জানা গেছে।
 সেই সাথে তার আরেক সহযোগী আব্দুল হালিম যে কিনা মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ে কর্মরত । জানা গেছে, এই আব্দুল হালিম এতদিন কট্টোর আওয়ামীলীগ হলেও রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সাথে সাথে তিনি ভোল পাল্টে মহাবিএনপি সেজেছেন এবং তারেক জিয়ার সাথে তার প্রায়শ:ই ফোনালাপ হয় বলে তারই অধিদপ্তরে প্রচার করেন। 
 ফ্যাসিস্টের অন্যতম সহযোগী এই ডিজি ১৩ নভেম্বর ২০২৪ ইং ডিজির দায়িত্ব পাওয়া মাত্রই চারদিনের মাথায় ১৭ নভেম্বর ২০২৪ ইং মো: ফারুক হোসেনকে পাবনা অফিস হতে এবং মো: নুরুল হুদা আল মামুনকে ফরিদপুর অফিস হতে ঢাকায় এনে সরকারী বিধি লংঘন করে সাময়িক ভাবে দায়িত্ব প্রদান করেন। যার অফিস আদেশ নং ১২.০৩.০০০০.০০২.৪১.০৩৭.১৬-২০৫২ ও নং ১২.০৩.০০০০.০০২.৪২.০৫২.১৬-২০৫৪। এরপর ঐ একই দিন কোন যাচাই বাছাই ছাড়াই ১৭ ই নভেম্বর ২০২৪ ইং ড. ফারুক হোসেনকে “
Increase of soil fertility and productivity through sustainable soil and land management” শীর্ষক ২৮১ কোটি টাকার প্রস্তাবিত প্রকল্পের ফোকাল পার্সন হিসেবে মনোনয়ন প্রদান করেন।

যার সুত্র নং- ১২.০৩.০০০০.০০২.৯৯.০০৮.১৬-২০৬৭ এবং ১৯ নভেম্বর ২০২৪ মো: নুরুল হুদা আল মামুনকে” উপকুলীয় এলাকায় পানি ও মাটির লবণাক্ততা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন ও নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ” শীর্ষক ১৪১ কোটি টাকার প্রকল্পের ফোকাল পার্সন হিসেবে মনোনয়ন প্রদান করেন। যার সুত্র নং- ১২.০৩.০০০০.০০৩.১৪.০০৩.১৬.২৩৯৭।

প্রকল্পটি জানুয়ারি ২০২০ থেকে জুন ২০২৪-এর মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ২০২৫ সালের আগস্ট মাসেও প্রকল্প শেষ হয়নি। বিলম্বের কারণে এর কার্যকারিতা ও বাজেট ব্যবহারে প্রশ্ন উঠেছে।

এই দু’জন কর্মকর্তাই স্থায়ী ভাবে ঢাকায় বদলী হয়ে এলেও তাদের পুর্ববর্তী কর্মস্থলের সকল আর্থিক ক্ষমতা আজ অবধি নিজেদের দখলে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই সাথে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অত্র ইন্সটিটিউটের দক্ষ ও সিনিয়র কর্মকর্তাদের বাহিরে বদলী করে  নিজেরা উপরোল্লিখিত প্রকল্পের ফোকাল পার্সন হয়েছেন।

 ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে শেখ পরিবারের জন্য সরকারী টাকা লোপাট করার অন্যতম উপায় ছিল প্রকল্প গ্রহন। প্রকল্পের টাকায় বিদেশ ভ্রমনের মাধ্যমে টাকা পাচার এবং এরই সুবিধার্থে প্রকল্পের সময় বৃদ্ধিকরন।

এই প্রকল্প গুলি কোন সময়ই নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হয়না কারনে প্রকল্প শেষ তো ইনকামের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়া।
এসআরডিআই এর ভবন নির্মান ও সক্ষমতা বৃদ্ধি( সিসিবিএস) প্রকল্পের অধীনে ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা ও খুলনায় চারটি ভবন নির্মান হওয়ার কথা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় কোনটিও কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি।

যেখানে ঢাকা প্রধান কার্যালয়ের কাজই পুরোটা হয়নি। জানা গেছে এগুলোর সকল কেনাকাটা শেষ হলেও কেউ তা দেখেনি অর্থাৎ স্বচ্ছতা নেই। আরও জানা যায়, ডিজি সামিহা সুলতানা এই প্রকল্পের প্রজেক্ট প্রোফাইল নাকি কাউকে দেখান না। এসব প্রকল্পে নানা অনিয়মের খবর আসছে বিভিন্নভাবে।

প্রকল্পের আওতায় মৃত্তিকা সম্পদের জরিপ, মাটি ও সার পরীক্ষাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম ব্যবস্থায় পরিবর্তন ও আরো উন্নত করতে সক্ষমতা বাড়াতে এসআরডিআই -এর ভবন নির্মাণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি (সিসিবিএস) প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। চলতি বছরের আগামী ৩১ ডিসেম্বর প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা।

 

কিন্তু বর্ধিত এ সময়ের মধ্যেও প্রকল্পের বাকী কাজ বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন।
মৃত্তিকাসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার আগমুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শেখ হাসিনার সাথে তোলা গ্রুপ ছবি সামিয়া সুলতানার ফেসবুকে কাভার ফটো ছিল। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সাথে মিটিংয়ের পর গর্ব করে নিজেকে আওয়ামী লীগার হিসেবে জাহির করতেন।

অফিসারের চাইতে দলীয় ক্যাডারের ভূমিকায় ছিলেন তিনি। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর সামিয়া সুলতানা হতাশ হন। শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনার ছবি ফেসবুক থেকে সরিয়ে ফেলেন। কিন্তু, ভাগ্য তার সুপ্রসন্ন।

ফ্যাসিস্ট আমলের শেষের দিকে মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করে আসা মো: জালাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে এসআরডিআইতে আন্দোলন শুরু হয়। চাপের মুখে তিনি ডিজির দায়িত্ব ছেড়ে দেন। তারই চেয়ারে বসানো হয় ফ্যাসিস্টের দোসর ড. বেগম সামিয়া সুলতানাকে।
এসআরডিআইতে দুটি পরিচালকের পদ রয়েছে। একটিতে ক্যাডার অফিসার এবং অপরটিতে নন ক্যাডার অফিসার দায়িত্ব পালন করেন। ডিজি পরিচালকের পদটি ধরে রেখেছেন। অন্যদিকে, নন ক্যাডারের পরিচালক পদটি খালি রাখা হয়েছে। সাবেক ডিজি জালাল উদ্দিন ফিরে গেছেন তার মূল পদ মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে।

গত ১৩ নভেম্বর এসআরডিআই-এর মহাপরিচালকের চেয়ারে বসেই বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিত প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ফারুক হোসেনসহ কয়েকজনকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পদায়ন দেন। ফলে তারাই এখন ডিজিকে শেল্টার দিচ্ছেন। সরকারের একাধিক সংস্থার প্রতিবেদনেও এসব তথ্য পাওয়া যায়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বিগত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলে দোরদান্ত প্রতাপশালী কর্মকর্তার নাম ওয়াহিদা আক্তার। ছিলেন ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পিএস। পরবর্তীতে কৃষিসচিব।

৫ আগস্ট আওয়ামী দুঃশাসনের ইতিঘটার পরেও কৃষি মন্ত্রণালয়ের চুক্তিভিত্তিক সচিব ছিলেন। তিনি এবং তার স্বামী তখনকার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) চুক্তিভিত্তিক নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার মিলে পুরো কৃষি সেক্টরের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন।

তাদেরই ঘনিষ্ঠজন ড. বেগম সামিয়া সুলতানাকে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে মৃত্তিকা সম্পদ ইনস্টিটিউটের (এসআরডিআই) মহাপরিচালক করা হয়। বিগত সময়ে মুজিববন্দনা করাই যার কাজ ছিল তিনিই পেয়েছেন মৃত্তিকার গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রধানের দায়িত্ব। চাঁপাইনববাগঞ্জে জন্মগ্রহণকারী সামিয়া সুলতানা সম্প্রতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সয়েল সায়েন্স সোসাইটি অব বাংলাদেশ -এর সাধারণ সম্পাদক হন।


এসআরডিআইতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে এক আতঙ্কের নাম ফারুক হোসেন। বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা হিসেবে দাবি করে আসা প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ফারুক হোসেন হয়ে উঠেছেন দলবাজ নতুন ডিজির ডান হাত।

পাবনা জেলা আঞ্চলিক কর্মকর্তার পদের পাশাপাশি মহাপরিচালকের সংযুক্ত কর্মকর্তা এবং ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা শাখার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার দায়িত্ব দেয়া হয় তাকে। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি ২৮১ কোটি টাকার প্রস্তাবিত একটি প্রকল্পের ফোকাল পারসনও মনোনীত করা হয়েছে তাকে।বাংলাদেশ ভ্রমণ। ফারুক হোসেনের পিএইচডি ডিগ্রি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে এসআরডিআইতে।
গত ২৫ আগস্ট এসআরডিআই-এর আরেক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো: আমিনুল ইসলামের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মো: আব্দুল বাতেন শেষ লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন না করেই ভূয়া পিএইচডি ডিগ্রি হোল্ডার দাবি করার বিষয়ে তাকে এই লিগ্যাল নোটিশ দেয়া হয়। ভূয়া পিএইডি ডিগ্রি হোল্ডার দাবি করে নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ করেছেন ফারুক; বিধায় কেন আপনার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির দায়ে অভিযুক্ত করে মামলা করা হবে না-মর্মে অত্র নোটিশ প্রাপ্তির তিন কার্য দিবসের মধ্যে জানানোর জন্য বলা হয়। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা দায়ের করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলা হয় নোটিসে।

 জানা গেছে, ডিসি-সচিব পরিচয়ে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে এই ফারুক হোসেন এর বিরুদ্ধে। এসআরডিআই-মপা পাবনা জেলার দায়িত্বে থাকা ও মহাপরিচালকের কার্যালয় সংযুক্ত কর্মকর্তা মো: ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে সরকারি খাসজমি দখল, নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

তিনি নিজেকে ম্যাজিস্টেট, ডিসি (জেলাপ্রশাসক) বা কোথাও সচিব পরিচয় দিয়ে সরকারি খাস জমি দখলে নিয়েছেন বলে কৃষি মন্ত্রণালয়ে ভুক্তভোগিরা অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ আমলে নিয়ে মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি তদন্ত করছে।

জানা গেছে, এসআরডিআইতে মোট ৩৭ জনকে অনিয়মিত শ্রমিক হিসেবে সম্প্রতি নিয়োগ দেয়া হয়। ডিজির ঘনিষ্ট ফারুক হোসেন তার নিজ জেলা নওগাঁর ধামইরহাঁট উপজেলার ইছবপুরেরই ৯ জনকে নিয়োগ দিয়েছেন বলে জানা যায়।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, নিজ এলাকায় ডিসি, সচিব ও ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে এলাকাবাসীকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন। সে এলাকার খাসজমি বিভিন্নভাবে জবরদখল করে রেখেছেন। এ বিষয়ে গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি এলাকাবাসী তার বিরুদ্ধে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২৭ মে উপসচিব দেবী চন্দ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ক্ষতিয়ে দেখতে জেলাপ্রশাসক বরাবর চিঠি দিয়েছেন।
ফারুক হোসেদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) জাকির হোসেন জানান, তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তদন্ত করতে মৃত্তিকা সম্পদ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালককে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তিনি এখনো কোনো তথ্য দেননি।

এ বিষয়ে কথা বলতে গত বুধবার এসআরডিআইতে সরেজমিনে যায় এই প্রতিবেদক। তার ডিজির রুমের সামনে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মচারী জানান, স্যারেরা ব্যস্ত আছেন। তখন ডিজির রুমে ফারুক হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে কথা বলতে গতকাল রাতে ফারুক হোসেনকে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি। ডিজি সামিয়া সুলতানা বলেন, ৪০ বছর আগের বিষয় নিয়ে কেন আপনারা টানাটানি করছেন। আমি ছাত্রসংসদে নির্বাচিত ছিলাম না।

কোনো এক প্রেক্ষিতে ছবিটি (শেখ হাসিনার সাথে) তোলা হয়। তিনি বলেন, সরকার আমাকে ৫ আগস্টের পরবর্তীতে ডিজি বানিয়েছে। কর্মজীবনে আমি পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করছি। যারা এটা পছন্দ করছে না, প্রতিষ্ঠানটিকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তারাই এখন এসব কিছু সামনে আনছে।
ক্ষমতা পাওয়ার পর ফারুক হোসেন প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞ ও সৎ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক বদলি শুরু করেন। এতে প্রতিষ্ঠানজুড়ে অসন্তোষ তৈরি হয়। এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে ২৬ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে একটি কারণ দর্শানো নোটিশও মহাপরিচালক সামিয়া সুলতানার কাছে পাঠানো হয়েছে। নোটিশে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব দেবীচন্দ্র।
তদন্ত সাপেক্ষে জানা গেছে, ড. সামিয়া সুলতানা ১ জানুয়ারি ২০২০ থেকে শুরু হওয়া ভবন নির্মাণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি (ঈঈইঝ) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে রয়েছেন। অভিযোগকারীরা বলছেন, মহাপরিচালকের পদে থেকে একইসাথে প্রকল্প পরিচালক থাকা অনৈতিক।

অভিযোগ রয়েছে, মহাপরিচালক সামিয়া সুলতানা ইঅজঈ-এর চেয়ারম্যান ড. শেখ মো. বখতিয়ারসহ প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় ঝঝঝইতে নির্বাচন ছাড়াই প্রেসিডেন্টের পদ গ্রহণ করেছেন।

একইভাবে বিসিএস সমিতিতেও ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পদ নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। এতে মৃত্তিকা ইনস্টিটিউটের ভেতরে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন।
ফারুক হোসেনকে ঘিরে বিতর্ক : মহাপরিচালকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত চঝঙ মো. ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ উঠেছে। প্রথমত, তিনি অফিসিয়াল মিটিং এবং অনুষ্ঠানে নিজেকে “ডক্টর” পরিচয় দিয়ে থাকেন, অথচ তার কোনো ডক্টরেট ডিগ্রি নেই বলে অভিযোগ।

অফিসিয়াল ব্যানার ও বার্ষিক প্রতিবেদনে তার নামের আগে “ড.” লেখা হয়। ২০২৩-২৪ সালের ফাইনাল বার্ষিক প্রতিবেদনে তিনি নিজ হাতে “ড. মো. ফারুক হোসেন, চঝঙ” লিখেছেন।
দ্বিতীয়ত, নওগাঁ জেলায় তার নিজ এলাকায় ৮ বিঘা সরকারি জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া প্রশ্ন উঠেছে একজন পিএসও পদমর্যাদার কর্মকর্তা হয়েও কিভাবে রাজশাহী শহরে কৃষিবিদ টাওয়ার নির্মাণ করেছেন।

এসব ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এসব অভিযোগের পর ঝজউও-এর ভেতরে-বাইরে কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। অনেকে বলছেন, প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি এখন ব্যক্তিগত আধিপত্যের জায়গায় পরিণত হয়েছে।
তাদের মতে, একজন মহাপরিচালক একইসাথে একাধিক প্রকল্প পরিচালক, সমিতির নেতা এবং সংগঠনের প্রেসিডেন্ট হতে পারেন না। এতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ড. সামিয়া সুলতানা এবং মো. ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

বিশেষ করে প্রকল্প বিলম্ব, আর্থিক ক্ষমতার অপব্যবহার, জমি দখল ও ভুয়া পরিচয় ব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট দেশের কৃষি খাতে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

এখানকার কর্মকর্তাদের সততা, যোগ্যতা এবং সুষ্ঠু প্রশাসন কৃষি গবেষণা ও মাটির উন্নয়নে অপরিহার্য। কিন্তু সাম্প্রতিক অভিযোগগুলো প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
জনমনে এখন একটাই প্রশ্ন—এসব অভিযোগ কি কেবল ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, নাকি সত্যিকার অর্থে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিফলন? কৃষি মন্ত্রণালয় ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত তদন্তে এগিয়ে না আসে, তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিষ্ঠান আস্থা হারাবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের কৃষি উন্নয়ন কার্যক্রম।

(বি:দ্র: এ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য , প্রমান ডকুমেন্টস দৈনিক ক্রাইম ডায়রি হাতে এসেছে)

দৈনিক ক্রাইম ডায়রি// সোর্স: সরেজমিন, এসআরডিআই সোর্স, দৈনিক নয়াদিগন্ত, যুগান্তর, মুক্তির লড়াইসহ বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল