ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা উল্লসিত: টার্গেটে বিএনপি ও তারেক রহমান!
টার্গেটে পরিণত হয়েছে বিএনপি ও দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আওয়ামী লীগের ১৬ বছরে সবচেয়ে বেশি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা। গুম-খুন, হামলা-মামলা, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্বের শিকার হয়েও রাজপথে তারাই সবেচেয়ে বেশি স্বোচ্চার ছিলেন। জিয়া পরিবার আক্রান্ত হয়েছেন সেই ওয়ান-ইলেভেন থেকে ১৮ বছর ধরে।
আওয়ামী লীগের ১৬ বছরে সবচেয়ে বেশি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা। গুম-খুন, হামলা-মামলা, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্বের শিকার হয়েও রাজপথে তারাই সবেচেয়ে বেশি স্বোচ্চার ছিলেন। জিয়া পরিবার আক্রান্ত হয়েছেন সেই ওয়ান-ইলেভেন থেকে ১৮ বছর ধরে।
শাহীন আবদুল বারীঃ
'বিএনপি, চাঁদাবাজ; চাঁদা তোলে পল্টনে, ভাগ যায় লন্ডনে’ মিটফোর্ডে ব্যবসায়ীকে হত্যার প্রতিবাদে এই স্লোগানটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে শুক্রবার রাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া 'আমার ভাই খুন কেন, তারেক রহমান জবাব দে; বিএনপি জ্বালোরে জ্বালো আগুন জ্বালো’ ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব স্লোগান কারা দিয়েছে, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কী সেসব জানার দরকার নাই। তবে এটা সুস্পষ্ট যে, হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি বা বিচারের চেয়ে টার্গেটে পরিণত হয়েছে বিএনপি ও দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আওয়ামী লীগের ১৬ বছরে সবচেয়ে বেশি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা। গুম-খুন, হামলা-মামলা, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্বের শিকার হয়েও রাজপথে তারাই সবেচেয়ে বেশি স্বোচ্চার ছিলেন। জিয়া পরিবার আক্রান্ত হয়েছেন সেই ওয়ান-ইলেভেন থেকে ১৮ বছর ধরে।
পাঁচ অগাস্টের পর চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব যা হচ্ছে তাতে বিএনপির নামই বেশি উচ্চারিত হচ্ছে এতে কোন সন্দেহ নাই। বিপুল জনসমর্থন, কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক থাকায় জনবিচ্ছিন্ন অপকর্মগুলোও তারাই করছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ আর বিএনপির মধ্যে এখন পর্যন্ত পার্থক্য হলো- শেখ হাসিনা প্রকাশ্যে সকল অন্যায় কাজকে সমর্থন এবং এসবের পক্ষে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা, প্রশাসন সহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অপব্যবহার করেছেন। তৃণমূলে চাঁদাবাজি প্রতিরোধ না করে বরং ব্যাংকগুলো লুটপাটেও পৃষ্ঠপোষকতা করে মাফিয়া রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন স্বয়ং শেখ হাসিনা।
বিএনপির এখনকার নেতিবাচক কর্মকান্ডগুলো দলীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণের চেয়ে বড় সমস্যা আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গুর। পুলিশ-প্রশাসন নীরব, বিএনপিতে কর্মীর চেয়ে নেতা বেশি। বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়া অসুস্থ, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লন্ডনে। শীর্ষ নেতৃত্বে গ্রুপিং, একদল কোনঠাসা। সেনাবাহিনী মাঠে থেকেও হাত-পা গুটিয়ে বসে আছে।
অথচ ভারতীয় দালাল জাতীয় পার্টির নেতারা ক্ষতিগ্রস্থ হলেন কীনা তাদের সুরক্ষা দিতে ব্যস্ত সেনাপ্রধান। সংসদীয় ক্ষমতার মোহে জুলাই পরবর্তী রাষ্ট্রপুর্ণগঠনে সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেছে। রাজনীতিতে ভাঙাগড়ার খেলা চলছে।
এ অবস্থায় বিএনপি বা তারেক রহমানকে টার্গেট করা আরেকটি ষড়যন্ত্র! কারণ গণতন্ত্রকামী শীর্ষ রাজনৈতিক দলটি ক্ষতিগ্রস্থ হলে আপনি বা আপনারা বর্তমান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কেহ রক্ষা পাবেনা। কিছুদিন আগে যেভাবে বিএনপির একটি পক্ষ প্রফেসর ড. ইউনূস সহ উপদেষ্টা পরিষদকে টার্গেট করে বক্তব্য দিয়েছিলেন। আবার এনসিপির কয়েকজন নেতার টার্গেটও লন্ডন। পরস্পর কাদা ছোড়াছুড়ি করা সবাই আবার ফ্যাসিবাদ বিরোধী। এখন ক্ষমতার দ্বন্দ্বে। তবে ষড়যন্ত্রকামীরা সফল হলে আপনারা সবাই মাইনাস হবেন, তারেক রহমান কিংবা খালেদা জিয়া একা নন।
পনেরো বছর বিএনপি নেতাকর্মীরা ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্মম নিপীড়ন সহ্য করে ঐক্যবদ্ধ থাকলো। মৃত্যুর ভয়, প্রলোভনেও দলকে ওরা দুর্বল করতে পারেনি। তবে আন্দোলনে ব্যর্থতা, নেত্রীকে মুক্ত করতে না পারার ব্যর্থতা দলের কতিপয় কেন্দ্রীয় নেতার, তৃণমূলের নয়।
৫ আগস্টের পর চিত্রপট এমন বদলে গেলো কেন? জেলা, থানা এমনকি ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যায়ের তথাকথিত নেতারা যেন একেকজন নব্য গডফাদার। গত ১০ মাসে দলীয় কোন্দলে শতাধিক নেতাকর্মী নিহত হয়েছে। ফ্যাসিস্টের সুবিধাভোগী পুলিশ কর্তা আর আওয়ামী দোসররা বেপরোয়া বিএনপি নেতাদের প্রশ্রয় ও নেপথ্য পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে দেশে নৈরাজ্য ও মব সন্ত্রাস উস্কে দিচ্ছে। কেন্দ্র থেকে জেলা -উপজেলা পর্যন্ত কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করলে বিএনপির শক্তি এতটুকু কমবে না। বিএনপির শক্তি দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষ আর শহীদ জিয়ার বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের আদর্শ। অগণতান্ত্রিক পন্থায় দলের কমিটি গঠন আর পদবাণিজ্য বিএনপিকে ডোবাচ্ছে, নব্য গডফাদারের জন্ম দিচ্ছে। ওরা নিজ দলের প্রতিপক্ষ নেতাকর্মীদের হত্যা করছে। চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টেন্ডারবাজি সন্ত্রাস করছে। এতে পতিত স্বৈরাচারের দোসররা উল্লসিত হয়ে প্রপাগাণ্ডা করছে।
দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে কঠোর সিদ্ধান্তে আসতে হবে। কাউকে ছাড় দেয়ার সুযোগ নাই। জিয়া পরিবারের বাইরে বিএনপিতে এ মুহূর্তে আর কোনো সুপারস্টার নাই। বিগত সময়ের এমপি-মন্ত্রীদের বাইরেও অন্তত কয়েক হাজার সুশিক্ষিত কর্মী সমর্থক আছে যারা দলের নেতৃত্ব ও দেশ পরিচালনার যোগ্যতা রাখেন। জিয়াউর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাদেরকে খুঁজে বের করে দায়িত্ব দিতে হবে। তা নাহলে নতুন প্রজন্মের কাছে বিএনপি গ্রহণযোগ্যতা পাবেনা। যেনতেন প্রকারে ক্ষমতায় যাওয়াই শেষকথা নয়। আওয়ামী লীগের পতন থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের শোধরাতে না পারলে ভরাডুবি নিশ্চিত বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ মনে করেন।
নৃশংসভাবে হত্যার শিকার সোহাগ ও তার হত্যাকারীরা । সবাই সরকারি তামার তার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের সদস্য।
প্রথমত: নিহত সোহাগ বর্তমানে যে দোকানটির মালিক এটির আসল মালিক ছিলেন ৩০ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মনির। ২০০৪ সালে মনিরকে হত্যা করা হয়। সেই হত্যা মামলার আসামীর তালিকায় সোহাগের নাম রয়েছে। মনিরকে হত্যার পর
দোকানের দখল নেয় সোহাগ। মূলত পুরান ঢাকায় সরকারি তামার তার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতো নিহত সোহাগ। আর এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সবাই এই সিন্ডিকেটেরই সদস্য। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মনির হত্যার পর থেকে আওয়ামী লীগের সাথে মিলে ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল সোহাগ। ৫ আগষ্টের পর যুবদলের রাজনীতি করা সোহাগের বন্ধুরাও তার সাথে এই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে ব্যবসার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্ব চরমে উঠলে নৃশংস হত্যার শিকার হন সোহাগ।
মিটফোর্ডের হত্যাকাণ্ডের শিকার সোহাগ এবং হত্যাকারীরা সবাই মুলত যুবদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত, মানে দুই গ্রুপ একই দলেরই। তবে সোহাগের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে সুকৌশলে একটা প্রপাগাণ্ডা ছড়ানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে চাঁদা না পেয়ে মিটফোর্ডের ব্যবসায়ী সোহাগকে যুবদলের নেতারা হত্যা করেছে। খুব সুনিপুণভাবে এটাই ছড়ানো হয়েছে। আসলে এখানে চাঁদাবাজির কোন ঘটনা ছিলনা, মানে যুবদলের চাঁদাবাজির কারনে সোহাগের এই নৃসংস্যতম মৃত্যু নয়। এটা ছিল তাদের দুই গ্রুপের ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব। যা ২০০৪ সাল থেকে চলে আসছে।
দ্বিতীয়ত: কোনভাবেই এই হত্যাকান্ড মেনে নেয়ার নয়। এরা পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট। এদের কঠিন শাস্তি দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে। ৫ আগস্টের পর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা (এর আবার একটি অংশ হাইব্রিড) অর্থ কামাইয়ের নেশায় উন্মত্ত হয়ে উঠেছে। নেতা-কর্মীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে এ পর্যন্ত হত্যার শিকার হয়েছে শতাধিক।
দল কঠোর অবস্থান নেয়া স্বত্তেও এদের থামানো যাচ্ছে না। এরা শুধু গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকেই মলিন করছে না, বিএনপি'র ইমেজকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
বিএনপি যদি মনে করে ক্ষমতায় যাওয়ার পথে প্রতিপক্ষরা খুবই দুর্বল, তাহলে সেটি হবে অবিবেচকসুলভ। মনে রাখতে হবে প্রতিপক্ষের সাংগঠনিক সক্ষমতা হয়তো বিএনপির মতো নয়, কিন্তু তারা অত্যন্ত চৌকস, সংঘবদ্ধ এবং সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহারে এগিয়ে। বিএনপির এসব বেপরোয়া নেতা-কর্মীরাই প্রতিপক্ষের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারকেও এ দায় নিতে হবে। কারণ তারা আইনশৃঙ্খলার যথেষ্ট উন্নতি করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। দেশের সর্বস্তরের মানুষ ড. মোহাম্মদ ইউনূসের সমালোচনা শুরু করেছে। সরকারের পক্ষে উচিত হবে ভঙ্গুর আইনশৃংখলা পরিস্থতির উন্নতি করণে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা জারি করা।
দৈনিক ক্রাইম ডায়রি// স্পেশাল










