সীমান্তে হত্যার না বলা গল্প
চন্দন চ্যাটার্জী, কলকাতা থেকে
সীমন্ত চোরাকারবারি হত্যা নিয়ে ধারাবাহিক গল্প---১ম পর্ব।
২০১৯ সালে এ ধরনের আক্রমণে কর্তব্যরত বিএসএফ এর একজন কর্মকর্তা নিহত হয় এবং আরো ৮৩ জন সৈন্য গুরুতর আহত হয়।
১২ জন বাংলাদেশী নাগরিক এবং ১১ জন ভারতীয় চোরাকারবারি এই দূর্ভাগ্যজনক ঘটনায় জীবন হারায়। (কিছু গণমাধ্যমে দাবী করে নিহতের সংখ্যা ৩৪)
এটা উল্লেখযোগ্য যে, ২৩ জানুয়ারি মালদা সেক্টরের কেদারিপাড়ায় নদী সীমান্তে গবাদিপশুর চোরাকারবারিতে নিযুক্ত একদল রাখালের অনুপ্রবেশ সম্পর্কে বিএসএফ অগ্রীম তথ্য পায়।পরবর্তীতে, বিএসএফ ব্যক্তিবর্গ ঐ চোরাকারবারিদের দ্বারা আক্রান্ত হয় যার ফলে ২ জন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয় এবং ঐ সময়ে একজম চোরাকারবারি ভারতীয় সীমান্তে একটি পুকুরে লুকায়িত অবস্থায় ধরা পরে।
এই ঘটনায় ৫ জন বিএসএফ গুরুতর আহত হয়। গত ২২ জানুয়ারীর অন্য একটি ঘটনায় চোরাকারবারিদের বিওপি ডোবারপাড়া সীমান্তে বেঁড়া কাটতে দেখা যায়। ঝুঁকি অনুমান করে ইছামতী নদী দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় ভারতীয় সীমান্তে একজন ধরা পরে।
২০১১ থেকে বিএসএফ চোরাকারবারিদের ভয় দেখানোর জন্য মারাত্মক নয় এরকম কিছু অস্ত্র ব্যবহার করে যেমন- পাম্প এ্যাকশন বন্দুক, স্টুন গ্র্যানেড এবং মরিচের গ্র্যানেড।
কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, বিএসএফ সৈন্যদল সংখ্যায় অধিক হয় এবং চোরাকারবারিদের দ্বারা আক্রান্ত হয় যাতে কর্তব্যরত ব্যক্তিবর্গের জীবনের ঝুঁকি থাকে।২০১০ থেকে, ১০৭ জন ভারতীয় চোরাকারবারি (বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ এর মতে ৮৬ জন) এবং স্থানীয় ১৩৫ জন চোরাকারবারি এবং সন্ত্রাসী বিএসএফ এর সাথে সংঘর্ষে নিহত হয় এবং বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশী চোরাকারবারি/সন্ত্রাসীদের মারাত্মক আক্রমণের ১৮৯৮ টি কেস রয়েছে।
২০১০ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত, প্রায় ৯৬০ জন বিএসএফ সৈন্য আশংকাজনক আহত হয় (২০১৯ এ ৪৯ জন এবং ২০১৮ এ ৬৭ জন) এবং বাংলাদেশী চোরাকারবারিদের আক্রমনে ১১ জন প্রাণ হারায়।
এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধ করার জন্য, পশ্চিম বঙ্গের আইবি এলাকায় ১৫৯ টি ভেদ্য স্থান চিহ্নিত করা হয়।
সীমান্তে সন্তোষজনক নজরদারির কারণে, চোরাকারবারিরা গবাদিপশু পাচারের জন্য অধিকতর মরিয়া এবং আক্রমনাত্মক হয়ে পরেছে। অধিক পরিমাণ কাঁটাতার ভাঙ্গন(৭৪৬ টি কেস) এবং ২০১৯ সালে বিএসএফ সৈন্যদলকে আক্রমণ এটি নির্দেশ করে।
বাংলাদেশি সংবাদ এমন কি বিদেশি সংবাদ মাধ্যমগুলোও সীমান্তে সন্ত্রাসীদের সাথে মোকাবেলা করার সময় অধিক সৈন্য ব্যবহারের জন্য বিএসএফ এর সমালোচনা করে। যাইহোক,এই ধরনের কাজের সময় তারা ভুলে যায় যে, বিএসএফ কর্তৃপক্ষকে কঠিন ভূখন্ডের কারণে ভারতীয় সীমান্তে প্রতিহত করার জন্য ভুগতে হয় যেটি চোরাকারবারি/সন্ত্রাসীদের সাথে বিএসএফ এর দ্বন্দ্ব আক্রমণ বৃদ্ধি করে এবং সৈন্যদের মৃত্যুও ঘটায়।
বাংলাদেশের সাথে ভারতের আন্তর্জাতিক সীমানা নিরাপদ করার জন্য, ভারত বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে যেমন- বিওপিদের শক্তিশালী করা, কাঁটাতারের মত বস্তুগত বেষ্টনী নির্মাণ, ব্রীজ বন্ধ করা, কালভার্টে উন্মুক্ত করা ইত্যাদি।
যাইহোক, সীমান্তে বসবাসকারী লোকজনদের সতর্কবার্তা প্রদানের মাধ্যমে ২ সেনাদলের মধ্যে সীমান্ত সহযোগিতা বৃদ্ধি করে সীমান্তে এ ধরনের দূর্ঘটনা হ্রাস সম্ভব হবে। সহসাকৃত ডিজাইনের মাধ্যমে সীমান্তে বেঁড়া নির্মাণ এই দুই সৈন্যদলের সমাধান কে আরো জোরদার করতে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করি।


crimediarybd1








