জেনেভার জাতিসংঘ অফিসে ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধন আইন এবং ভুল তথ্য ছড়ানো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

জেনেভার জাতিসংঘ অফিসে ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধন আইন এবং ভুল তথ্য ছড়ানো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা

গত ২৮ ফ্রেব্রুয়ারী ২০২০ জেনাভার জাতিসংঘ অফিসে ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধন আইন এবং ভুল তথ্য ছড়ানো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

অবৈধ দেশান্তরের বিরূদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে ভারতের সংসদে  নাগরিকত্ব সংশোধন আইন পাশ হয় যেটি  ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনকে সংশোধন করে।
সিএএ হিন্দু,  শিখ, বৌদ্ধ,  জৈন, পার্সি, এবং আফগানিস্তান, পাকিস্তান  ও বাংলাদেশের খ্রিস্টান সহ ৬ টি ধর্মীয় সম্প্রদায় কে নাগরিকত্ব মঞ্জুর করে যেটি সেই সব ধর্মীয় প্রসিকিউশনের শিকার হয়। যাইহোক, নাগরিকত্বের অন্যতম দাবিদার মুসলিম সম্প্রদায় কে অন্তর্ভুক্ত না করার কারণে এটি জনগণের বিরূদ্ধে বৈষম্য বলে সমালোচিত হয়।৷

রাজ্য সভার সংসদ সদস্য  মোবাশ্বের জাওয়াদ আকবর, ভারতের প্রধান ইমার উমর আহমেদ ইলিয়াসি,  ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এর মেম্বার ফুলবিও মার্তুসিয়েলো,  সাংবাদিক আতিকা আহমেদ ফারুকী  এবং এসএডিএফ এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর পাওলো কাসাকা কর্তৃক  সিএএ এর আনীত নতুন এ বিধান এবং মুসলিম দের অবস্থান ব্যখ্যা করা হয়। এই প্যানেল টি
 ইউরোপীয় কমিশন এবং  দক্ষিণ এশিয়া এক্সপার্ট এর সাবেক ডিরেক্টর  ব্রায়ান টোল এর মাধ্যমে মধ্যস্থতা করা হয়।

এম জে আকবর উল্লেখ করেন যে, ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল বহুত্ব  এবং  সংবিধান  ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে সমান অধিকার দিয়ে থাকে।
উপরন্তু, ভারত যেকোনো 'মতবাদ গ্রহণ করে এবং  তাদের একমাত্র 'মত
বাদ হল  গণতন্ত্র। 
তিনি মহাত্মা গান্ধীর একটি উক্তি বলে শেষ করেন, "হিন্দু এবং মুসলিম এক। স্রষ্টা তাদের সৃষ্টি করেছেন এবং কেউ তাদের আলাদা করতে পারবেনা।"

চির বিরাজমান  ভ্রাতৃত্ব এবং দেশে শান্তির উপর জোরারোপ করে ফুলবিও মার্তুসিয়েলো বলেন, সিএএ সংখ্যালঘুদের অধিকার এর উপর কোনো প্রভাব ফেলবেনা এবং ভারতের নাগরিক দের অন্তর্ভুক্ত করে এরকম কোনো বিধান এটির নেই।
এই আইনের মাধ্যমে, ভারতের নাগরিকদের দ্বারা ঐসব লোকজনকে নির্বাচনী এবং শিক্ষাগত অধিকার সহ বিভিন্ন অধিকার দেয়া হবে যারা তাদের নিজেদের দেশে ধর্মীয় প্রসিকিউশনের শিকার হয়েছে।

আহমেদ ইলিয়াসী এই বলে মুসলিম সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, "ভারত বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তর মুসলিম দেশ...এবং এটি বিভিন্ন বৈচিত্র্যতা কে স্বাগত জানায়।ভারত একটি নিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক দেশ যেটি নাগরিকদের সমঅধিকার প্রদান করে এবং ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে সুবিধা প্রধান করেনা।

উপরন্তু,  তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারতের মুসলিম রা ইউরোপের মুসলিমদের মত মৌলবাদী নয় এবং জিহাদে অংশগ্রহণ করেনি।তিনি উপসংহার টানেন এই বলে যে, যদি কোনো মুসলিম চাই, তাহলে সে এখনো ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনের বিধান মেনে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারে। 
আতিকা ফারুকী এই বলে তার বক্তব্য শুরু করেন যে, তিনি বা ভারতীয়রা  কাউকে তার ধর্ম বর্ণ, লিঙ্গ বা গোষ্ঠী দেখে বিচার করেনা।

ফারুকীর মতে, ভারতের ধর্মকে একটি সংস্কৃতি হিসেবে বিবেচনা করা হয় যেটি দেশকে খাদ্যভ্যাস, ভাষা এবং নৃত্য দিয়ে বর্ণালীরূপে গড়ে তোলে।
তিনি আরো বলেন, আমরা ভারতীয়রা কৌতূহলী এবং মুসলিম, খ্রিস্টান,  শিখ এবং হিন্দু সবাই একসাথে কঠোর পরিশ্রম করি।

পাউলো কাসাকা এই ভুলতথ্যবহুল ক্যাম্পেইনের প্রতি ইউরোপের ভুমিকা কে প্রাধান্য আরোপ করে বলেন, ইইউ প্রতিষ্ঠানগুলো ঘৃনা এবং এবং বিদ্বেষ লালন করছে।তিনি ইইউকে ভারতের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার পূর্বে প্রথমে সীমান্তে শরনার্থীদের প্রতি  এ ধরনের আচরণ পরিবর্তন করার সতর্কবার্তা দেন।

তিনি আরো যুক্ত করেন যে, সিএএ নির্দিষ্ট প্রতিবেশী দেশ থেকে নির্দিষ্ট দলগুলোকে  একটি  বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক পদ্ধতি প্রদান করে।
 "সবাই সমান এবং জনগণকে এককীকরণের জন্য ধর্ম প্রদান বিষয় নয়" এই বলে ব্রায়ান টোল সেশনের সমাপনী টানেন।

টাইমস অব ইন্ডিয়া