জবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ: শিক্ষার্থীদের দাবি ঘিরে উত্তেজনা, তৃতীয় পক্ষের অপতৎপরতার শঙ্কা
জকসু প্রতিনিধিদের ওপর হামলার অভিযোগ; পাল্টাপাল্টি দোষারোপ ছাত্রদল-শিবিরের, অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার দাবি
মাহবুব হোসেন সাকিব, বিশেষ প্রতিনিধি:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ঘিরে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির-সমর্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাক্কাধাক্কি ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)-এর ভিপি, জিএস, এজিএস ও সাংবাদিকসহ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে মারধর করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল দাবি করেছে, পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি এবং তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর উদ্দেশ্যেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। জকসু প্রতিনিধিরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে দ্রুত হস্তান্তর, কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং মেডিকেল সেন্টারের সেবার মানোন্নয়নসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে ইউজিসি চেয়ারম্যানের সামনে তুলে ধরতে তারা অনুষ্ঠানে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিলনায়তনে প্রবেশ করতে গেলে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা, ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। জকসু প্রতিনিধিদের দাবি, তাদের কাছ থেকে প্ল্যাকার্ড কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানাসহ অনেক শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, জকসু প্রতিনিধিরা অডিটোরিয়ামে প্রবেশের চেষ্টা করলে ছাত্রদলের নেতারা বাধা দেন। ভিডিওতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. কে এ এম রিফাত হাসান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন এবং এ সময় ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও দেখা যায়। পরে মিলনায়তনের গেট বন্ধ করে দেওয়া হলে বাইরে ছেঁড়া প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে বিক্ষোভ করেন জকসু প্রতিনিধিরা।
ঘটনার পর জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেন, আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও তাদের অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। জকসুর এজিএস মাসুদ রানা দাবি করেন, হামলায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, জবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহরিয়ার হোসেন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ছাত্রশিবির ও জকসু প্রতিনিধিরা পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং ছাত্রদলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে নিজেদের প্ল্যাকার্ড নিজেরাই ছিঁড়ে দায় চাপানোর চেষ্টা করছেন।
জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার পাশাপাশি তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবি জানান।
ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের সঙ্গেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা আসেনি। তবে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভিডিও ফুটেজসহ সব তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করা জরুরি। একই সঙ্গে শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা এড়াতে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
দৈনিক ক্রাইম ডায়রি// ক্যাম্পাস










