পাকিস্তান গিলগিটের পোক-য়ে মানবাধিকার লংঘন করছে : ইউএনএইচআরসি-তে কর্মীবৃন্দ
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
পাকিস্তান দখলকৃত কাশ্মীরের রাজনৈতিক কর্মীরা জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস্ কাউন্সিলে “পাকিস্তানী নিপীড়ন”-এর থেকে রক্ষা করতে দাবী জানায়।
গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের ৪৩তম মানবাধিকার সেশানে পক-এর একজন সক্রিয় কর্মী, নাসির আজিজ খান বলেন, “আমরা পক এবং গিলগিস্তানে যেসব মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা ঘটছে, সে সম্পর্কে আমরা পরিপূর্ণ সজাগ। সেখানকার রাজনৈতিক কর্মী ও সিভিল সোসাইটির মানুষগুলো রাষ্ট্র পরিকাঠামোর শ্যেন দৃষ্টিতে পড়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের’ তৎপরতা আর রাষ্ট্রের কালো হাত এ অঞ্চলগুলোতে লেগেই আছে। বে-আইনী ঘোষিত সন্ত্রাসী দলের নেতাদের এখানে মুক্তভাবে বিচরণ করতে দেখা যায়। এফএটিএফ-এর তালিকাবদ্ধ পাকিস্তান উচ্চ প্রোফাইল তালেবান নেতা এহসানুল্লা এহসান যিনি এই সংঘের মুখপাত্র এবং মরণ ছোবল দেয়া কয়েকটি হামলার দায় স্বীকার করেন, মিলিটারী হাজতখানা থেকে পালিয়ে যান।
এ সংবাদটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী নিশ্চিত করেন।
ইউএন তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসী জাইসি-ই-মোহাম্মদ (জেইএম) মওলানা মাসুদ আজহার যিনি পাকিস্তান সামরিক কাস্টডিতে ছিলেন তিনিও তার পরিবারসহ ভেগে গেছেন।
“এটিতে সন্দেহ আরো ঘনীভুত হয় যে পাকিস্তান এখনো তাদের সমর্থন দেয়। পাকিস্তান চরমপন্থী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দৃঢ় কোন পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী নয়।” তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনকেও পাকিস্তানকে চাপ দিতে বলেন, তারা যেন চরমপন্থীদের মদতদাতা, সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতা সৃষ্টিকারীদের নিয়ন্ত্রণ করতে যথাযোগ্য পদক্ষেপ নেয়।
নাসির বলেন, “মানবাধিকার সংস্থার উচিত সব শান্তিকামী রাজবন্দীদের এবং বাবা জান ও ইফতেখার হোসেনসহ তাদের সব সহকর্মীদের, যারা লাইন ধরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ৪০ থেকে ৮০ বছরের সাজা খাটছে তাদের মুক্তি দেবার জন্য পাকিস্তানকে চাপ দেয়া।
সেঞ্জ এইচ. সেরিং, আর একজন গিলগিট-বাতিস্তান কর্মী বলেন, “পাকিস্তান ও চীন সীমান্ত অর্থনৈতিক করিডোর, সিপিইসি গিলগিট-বালতিস্তান দিয়ে গেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দাবী করছে এই সিপিইসি থেকে অর্জিত রাজস্ব সমভাবে ভাগ করে একভাগ তাদের দেয়া হোক কারণ এই অঞ্চলে চীন বা পাকিস্তান কারোই সার্বভৌম অধিকার নেই। স্থানীয়রা ২০২০ সালে পাকিস্তান কর্তৃক আরোপিত অসাংবিধানিক ভূমি উন্নয়ন এবং অসাংবিধানিক প্রজ্ঞাপনকে বাধা দিচ্ছে ও তাদের সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যতায় বাধা দিচ্ছে। একই সাথে পাকিস্তান ক্ষমতায়ীত হয়ে এই এলাকা তারা ও চীনাদের অপব্যবহার করে।”
তিনি পাকিস্তানী কর্তৃপক্ষকে বাক-স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বলেন এবং স্থানীয় যারা স্বায়ত্বশাসন চাচ্ছে এবং সিপিইসি-এর কাছ থেকে তাদের হিস্যা চাছে, তাদের সন্ত্রাসী বলে ঘোষণা দেয়া থেকে বিরত থাকুক। “তিনি পাকিস্তানকে রাজনৈতিক কর্মীদের এবং ডজনখানেক আজীবন সাজাপ্রাপ্তদের মুক্ত করে দিতে বলেন।” সেঞ্জ কাউন্সিলকে এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, গিলগিট বালতিস্তানকে স্থানীয়দের জন্য জেলখানা হিসেবে ব্যবহার করা পাকিস্তানের উচিত নয়।
এ স্থানটি লাদাখ ও আফগানিস্তানের সড়ক হিসেবে ব্যবহার করতে দেয়া উচিত নয়। এটি হলে লাদাখের বৌদ্ধ পরিবারগুলোর ঐক্য ভেঙে পড়বে এবং লাদাখ ও গিলগিটের ধর্মীয় স্থানগুলো পরিদর্শনে বাধার সৃষ্টি হবে। যদি ভারতীয় শিখদের পাকিস্তানের কির্তারপুর সাহেব সফরে সুযোগ দেয়া হয় তাহলে লাদাখের বৌদ্ধদের কেন বঞ্চিত করা হবে ? কেন পাকিস্তানে দু’ধরণের ব্যবস্থা থাকবে ?
সূত্র- big news network


crimediarybd1








