বেলুচি জাতীয়তাবাদকে পাকিস্তান উগ্র ধর্মীয়বাদ দিয়ে দমিয়ে রাখছে

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

বেলুচি জাতীয়তাবাদকে পাকিস্তান উগ্র ধর্মীয়বাদ দিয়ে দমিয়ে রাখছে

পাকিস্তানের বালুচ ও অন্যান্য মানবাধিকার রক্ষা-কর্মীরা এখানে জাতিসংঘ কার্যালয়ের পাশে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ করেন এবং বেলুচিস্তানে যেসব মানবাধিকার লংঘন হচ্ছে এবং উগ্র ধর্মীয় কাজ-কর্ম হচ্ছে তার প্রতি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। 
বালুচ মানবাধিকার কাউন্সিল (বিএইচআরসি) কর্তৃক আয়োজিত এই সমাবেশে প্রতিবাদকারীরা যে ব্যানার বহন করছিল, তাতে লেখা ছিল “পাকিস্তানে বল প্রয়োগ করে টেনে নিয়ে যাওয়া উধাও লোকদের উদ্ধার করুন”, “বেলুচিস্তানে গণহত্যা বন্ধ কর”, “চীন : বেলুচিস্তানে নতুন এক সাম্রাজ্যবাদী শক্তি”। বিএইচআরসি-র সাধারণ সম্পাদক বলেন, “ পাকিস্তান বেলুচিস্তানে একটি হ্যাভকের (ভীতিকর অবস্থার) সৃষ্টি করেছে। এই প্রদেশে যারা বাস করছে, তাদের জীবন বিষময় হয়ে উঠছে কারণ মানবাধিকার বলতে তাদের কিছুই নেই। সুশীল সমাজের মানুষদের পাকিস্তানি সামরিক সদস্যরা ধরে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে, তাদের হত্যা করা হচ্ছে, তাদের বহুখন্ডিত লাশ সড়কের পাশে পাওয়া যাচ্ছে। বেলুচিস্তান প্রদেশটিকে মিলিটারীদের গ্যারিশনে পরিণত করা হয়েছে।”          
বিএইচআরসি একটি তাঁবুতে একটি সম্মেলনেরও আয়োজন করে যেখানে একটি ভাঙা চেয়ারও রাখা হয় যার না দেয়া হয় “রাষ্ট্র কর্তৃক স্পন্সরকৃত ধর্মীয় উগ্রবাদ।”
বিএইচআরসি-র তথ্য সম্পাদক কাম্বার বালুচ বলেন, “পাকিস্তান লস্কর-ই-তাইবা, লস্কর-ই-ঝংভী, অাইএসআইএস-কে যে দল তালেবানদের বোমার স্প্রিন্টার দল তাদেরকে ধর্মীয় উগ্রবাদ ছড়ানোর জন্য স্পন্সর বা জামীনদার নিয়োগ করেছে। বেলুচ জাতীয়তাবাদকে মোকাবিলা করবার জন্য এসব দলকে পাকিস্তান এখানে মাশরুমের মতো ঠাঁই দিয়েছে। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, পাকিস্তানের এই অদূরগামী চিন্তার পরিকল্পনা গণতান্ত্রিক সার্বজনীন বালুচ সমাজকে ধ্বংস করতে পারবে না বরং প্রকারান্তে এ অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তার ওপর এর দীর্ঘমেয়াদী একটি প্রভাব থেকে যাবে।”
কাম্বার আরো বলেন, “পাকিস্তান বেলুচিস্তানে একটি নিয়মিত গণহত্যা শুরু করেছে। জাতিসংঘের নীরবতা এবং নিস্ক্রিয়তা বেলুচিস্তানে প্রশাসক রাষ্ট্রকে তাদের এই দমননীতিকে কোনো ভয় বা প্রতিঘাত ছাড়াই চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করছে।” 
বালুচরা পাকিস্তান থেকে তাদের মুক্তির জন্য লড়াই করছে এবং তাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণহত্যার শিকার হচ্ছে তারা। একটা বড় সংখ্যার মানুষ নিঁখোজ হয়ে গেছে যাদের দূরের কোন বিচ্ছিন্ন এলাকায় মৃতদেহ পাওয়া যাচ্ছে। তথ্যসূত্রঃআন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম'এএনআই',সুইজারল্যান্ড, জেনেভা ১২ মার্চ ২০২০